তৌফিক ইমরোজ খালিদীর হাত ধরেই বাংলাদেশে শুরু হলো ২৪ ঘণ্টার অনলাইন নিউজ।
একটা সময় ছিল, বাংলাদেশে খবর পড়তে হলে সকালে পত্রিকা আসার অপেক্ষা করতে হতো। আর এখন? ঘুম থেকে ওঠার আগেই ফোনে ৪৭টা নিউজ নোটিফিকেশন। কিন্তু এই যে ফোন খুলে খবর পড়ার অভ্যাস, বাংলাদেশে এটা একদিনে তৈরি হয়নি। আর এই পরিবর্তনের গল্পে একজন মানুষের নাম আলাদাভাবে মনে রাখার মতো, তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
গল্পটা শুরু ২০০৫ সালের দিকে। তখন দেশের সংবাদ পরিবেশনে বাসস আর ইউএনবির বেশ দাপট। খবর সরবরাহের প্রধান মাধ্যম টেলিপ্রিন্টার। ইন্টারনেট তখনও আমাদের কাছে এমন কোনো জিনিস না যে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই ফেসবুক খুলব, তারপর দেশের অবস্থা দেখে আবার ঘুমাব।
সেই সময়ই বিডিনিউজ নামে একটি ইন্টারনেটভিত্তিক বার্তা সংস্থা যাত্রা শুরু করল। শুরুতে অবশ্য ব্যাপারটা খুব একটা রোমান্টিক ছিল না। খবর মূলত পেইং ক্লায়েন্টদের জন্য। অর্থাৎ টাকা দেন, খবর নেন। কিন্তু তখন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীই কম, অনলাইন বিজ্ঞাপনের বাজার প্রায় শূন্য, প্রযুক্তিগত সুবিধাও সীমিত। ফলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে গেল। একসময় প্রতিষ্ঠানটি প্রায় বন্ধ হওয়ার অবস্থায় চলে যায়। তারপর ২০০৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে গল্পে এলেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী। সাবেক বিবিসি সাংবাদিক। নতুন ব্যবস্থাপনা, নতুন টিম, নতুন পরিকল্পনা। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির পরিচয়ও বদলে গেল। বিডিনিউজ হয়ে গেল bdnews24.com।
এরপর ২৩ অক্টোবর ২০০৬-এ তিনি ও তার দল এমন একটা সিদ্ধান্ত নিলেন, যেটা আজকের দিনে শুনলে খুব স্বাভাবিক মনে হবে, কিন্তু তখন ছিল বেশ সাহসী। পে-ওয়াল তুলে দেওয়া হলো। মানে, খবর পড়তে টাকা দিয়ে সাবস্ক্রাইব করার দরকার নেই। ইন্টারনেট আছে? আসেন, খবর পড়েন। আর শুধু দিনের বেলায় না, ২৪ ঘণ্টা খবর চলবে।
তখন দেশে টানা পাঁচ দিনের ছুটি। সংবাদপত্র বন্ধ। সেই সময় bdnews24.com কার্যত বলল, ছুটি আমাদের জন্য প্রযোজ্য না। আজ আমরা কোনো ঘটনা ঘটার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে তার নিউজ, ভিডিও, লাইভ, কমেন্ট সেকশন সব একসঙ্গে পেয়ে যাই। তখন ব্যাপারটা এমন ছিল না। ২০০৫ সালে শুরু হওয়া একটা ইন্টারনেটভিত্তিক বার্তা সংস্থা, ২০০৬ সালে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বে পুনর্গঠন, তারপর পে-ওয়াল খুলে দিয়ে ২৪/৭ সবার জন্য খবর।
আমাদের অনলাইন নিউজ পড়ার যে অভ্যাসটা আজ এত স্বাভাবিক, তার শুরুর দিকের গল্পে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর একটা বড় জায়গা আছে। একটা সময় মানুষ খবরের জন্য পত্রিকার অপেক্ষা করত। তারপর তৌফিক ইমরোজ খালিদী ও তার দল ভাবলেন, অপেক্ষা করানোর কী দরকার? ইন্টারনেটেই খবর দিয়ে দিই।
কিছু মানুষ শুধু সংবাদ করেন। আর কিছু মানুষ সংবাদ পৌঁছানোর পদ্ধতিটাই বদলে দেন। তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন সেই দ্বিতীয় গল্পের একজন মানুষ।



পাঠকের মন্তব্য