শোনা যাচ্ছে, চলতি মাসেই নতুন রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অনেকেই হয়তো নিজের চেনাজানা মানুষদের মজা করে রাষ্ট্রপতি নিয়োগের খবরে মেনশন দিয়ে রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধও করছেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি কী যে কেউ চাইলেই হতে পারেন? নাকি তার জন্য রয়েছে বিশেষ কিছু ক্রাইটেরিয়া? চলুন জেনে নেওয়া যাক তার আদ্যোপান্ত।
মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পরই নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে একাধিক প্রার্থী না থাকলে ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে না। সে ক্ষেত্রে ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে একক প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হতে পারে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য কী কী যোগ্যতা প্রয়োজন?
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হতে হলে একজন ব্যক্তির বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে। পাশাপাশি তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতাও থাকতে হবে। এছাড়া কোনো ব্যক্তি যদি আগে সংবিধানের অধীনে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারবেন না।
সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রেও রয়েছে বেশ কিছু শর্ত। যেমন, আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হওয়া, দেউলিয়া হয়ে দায়মুক্ত না হওয়া, বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ বা আনুগত্য স্বীকার করা, নির্দিষ্ট ধরনের অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হওয়া এবং লাভজনক সরকারি পদে থাকা—এসব কারণে কেউ সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হতে পারেন। আর সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা না থাকলে রাষ্ট্রপতি পদেও প্রার্থী হওয়া সম্ভব নয়।
তবে শুধু এসব যোগ্যতা থাকলেই কেউ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যেতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজন সংসদ সদস্যকে সমর্থক হিসেবে মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করতে হয়। একই সঙ্গে প্রার্থীর নিজের সম্মতিও থাকতে হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণ জনগণ সরাসরি ভোট দেন না। জাতীয় সংসদ সদস্যরাই প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। ভোট অনুষ্ঠিত হয় সংসদকক্ষে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাধারণত সংসদে যে রাজনৈতিক দল বা জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, তারাই রাষ্ট্রপতি পদে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারে। এবারও সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটি যাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেবে, তাঁর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি হওয়া শুধু ইচ্ছার বিষয় নয়। সংবিধান ও আইনে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণের পাশাপাশি প্রয়োজন রাজনৈতিক সমর্থনও। এখন সবার নজর ১৩ আগস্টের দিকে। কার নামে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র জমা পড়ে, সেটিই হয়তো নতুন রাষ্ট্রপতির নাম অনেকটাই পরিষ্কার করে দেবে।



পাঠকের মন্তব্য