ঢাকা শহরকে বুঝতে হলে কেন শহীদুল জহিরকে পড়তে হবে

৩৪ পঠিত ... ৪ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে

শহীদুল জহিরকে ছাড়া আমি ঢাকা শহরকে কল্পনা করতে পারি না। কেন পারি না, তার সদুত্তর খুঁজতে গেলে অনেক কথা এসে যাবে। লক্ষ্মীবাজার দিয়ে আজও হেঁটে গেলে খেয়ালে-বেখেয়ালে আমার মনে পড়ে যায় একটা লাইন—

উনিশ শ পঁচাশি সনে একদিন লক্ষ্মীবাজারের শ্যামাপ্রসাদ চৌধুরী লেনের যুবক আবদুল মজিদের পায়ের স্যান্ডেল পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি বিধানে ব্যর্থ হয়ে ফট করে ছিঁড়ে যায়।

এত সময় পরে এসেও কতটা প্রাসঙ্গিক এই একটা লাইন! গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে কত শত পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতি বিধানে ব্যর্থ হয়ে আমাদের পায়ের স্যান্ডেল ফট করে ছিঁড়ে গেছে, যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

কদিন আগেও পুরান ঢাকার অলিগলিতে হাঁটতে হাঁটতে আমার মনে পড়ছিল ভূতের গলির চাঁন মিঞার কথা। চাঁন মিঞা বান্দরের দুধখাওয়া পোলা। আমি সম্প্রতি বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় খ্রিষ্টান মিশনারি সংস্থাগুলোর অবদান নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছিলাম। ঘুরে ঘুরে বুঝতে চেষ্টা করছিলাম, এ দেশে খ্রিষ্টান মিশনারি কার্যক্রমের ফলে গড়ে ওঠা হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসংস্থাগুলোর পেছনের ইতিহাস। সেখানেও বারবার মনে পড়ে যাচ্ছিল ‘মুখের দিকে দেখি’ উপন্যাসের কথা।

সমষ্টিগত মানুষের জীবনমানের আকাঙ্ক্ষার প্রশ্নে সাতচল্লিশের পর একাত্তর যে জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি, সমষ্টিগত মানুষ যে দীর্ঘ সময় ধরে কেবলই গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খায়, খাচ্ছে, খেয়েই চলেছে; তারা যে আটকা পড়েছে একটা বৃত্তে, একটা ছকে, একটা কুয়ায়, একটা অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ কালনিরপেক্ষ সময়খণ্ডে, একটা অপরিবর্তনশীল নিয়তির লুপে—তা শহীদুল জহিরের গল্প-উপন্যাসে এসেছে বারবার। ‘সে রাতে পূর্ণিমা ছিল’ উপন্যাসেও এসেছে। ‘ডুমুরখেকো মানুষ ও অন্যান্য গল্প’ বইয়ের ‘কাঁটা’ গল্পেও এসেছে।

রাজাকার ও সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠীর কদর্যতা ও নৃশংসতা শহীদুল জহিরের গল্প-উপন্যাসে ব্যাপকভাবে এসেছে। সাত্তার ও জিয়া সরকারের সৌন্দর্যতত্ত্বের অন্তঃসারশূন্যতাও তাঁর ‘আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই’ গল্পে আছে। এই গল্পটার মতো কটা গল্প আছে বাংলা সাহিত্যে?

সেদিন পেঙ্গুইনের The Penguin Book of Bengali Short Stories-এও দেখলাম গল্পটা। বিস্মিত হইনি।

ঢাকা শহরের স্মৃতি-বিস্মৃতি, জীবন আর রাজনৈতিক বাস্তবতার যে মিথ শহীদুল জহির তৈরি করেছেন, সেই মিথকে আসলে ভাঙা মুশকিল। সেই মিথ ছাড়া ঢাকা শহরকে কল্পনা করা কঠিন। সলিমুল্লাহ খানের এই নতুন খারেজি খেলায় জহিরকে ‘থার্ড ক্লাস লেখক’ আখ্যা দেওয়াটা নিছক স্পর্ধা বলেই মনে হলো।

 

৩৪ পঠিত ... ৪ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top