রোজারিওর লাজুক ছেলেটি

১০২ পঠিত ... ৩ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে

 

 

আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে যখন জুন মাসের চব্বিশ তারিখটা এলো, চারপাশটা তখন দক্ষিণ গোলার্ধের তীব্র শীতে কাঁপছিল। শীতের রাতে প্যারানা নদীর অববাহিকা থেকে এক ধরনের ঠান্ডা কুয়াশা ভেসে আসে, যা শহরটাকে এক অদ্ভুত চাদরে ঢেকে দেয়। ঠিক তেমনই এক নিস্তব্ধ, কনকনে ঠান্ডার রাতে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে আমার জন্ম।

চারপাশে কোনো অলৌকিক আলো জ্বলে ওঠেনি, কোনো দূরবর্তী নক্ষত্রও খসে পড়েনি। অ্যাসিন্ডার স্টিল কারখানার এক ক্লান্ত শ্রমিক বাবা আর ম্যাগনেট তৈরির ওয়ার্কশপে কাজ করা মা, তাদের ঘর আলো করে আসা তৃতীয় সন্তানটি অন্য দশটা সাধারণ শিশুর মতোই ছিল। তবে মা প্রায়ই বলতেন, জন্মের পর আমি নাকি খুব বেশি কাঁদিনি। বড় বড় চোখ মেলে শুধু চারপাশের সস্তা আসবাব আর ঘরের টিমটিমে আলোটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। যেন খুব মন দিয়ে এই চেনা পৃথিবীর অচেনা নিয়মগুলো বোঝার চেষ্টা করছি।

শৈশব বলতে আমার চোখে ভেসে ওঠে ধুলোবালি ওড়া সরু রাস্তা, আর একটা জীর্ণ ফুটবল। আমার দুই বড় ভাই যখন রাস্তায় খেলত, আমি তখন দরজার পাশে দাঁড়িয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মতো দেখতাম। চামড়ার ওই গোল বস্তুটার ভেতরে কী এমন জাদু আছে, যা মানুষকে এতটা খেপিয়ে তোলে?

একদিন একটা বল আমার পায়ের কাছে এসে থামল। আমি যখন আলতো করে বাঁ পায়ে বলটা ছোঁয়ালাম, বুকের ভেতর কেমন যেন একটা ওলটপালট হয়ে গেল। মনে হলো, এই বলটাই আমার ভাষা, এর বাইরে আমার আর কোনো কথা বলার প্রয়োজন নেই। আমি ছিলাম ভীষণ লাজুক, গুটিয়ে থাকা এক ছেলে। সমবয়সী ছেলেদের চেয়ে আমার শরীরটা ছিল অনেক ছোট, এক কোণায় দাঁড়িয়ে থাকলে কেউ লক্ষ্যও করত না। কিন্তু বলটা পায়ে এলেই আমি যেন এক অন্য মানুষ হয়ে উঠতাম। চারপাশের বিশাল আকৃতির ডিফেন্ডাররা আমাকে ধরতে আসত, আর আমি এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে তাদের এড়িয়ে চলে যেতাম।


সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু নিয়তির বোধহয় একটু অন্যরকম গল্প লেখার ইচ্ছে ছিল। বয়স যখন দশ কি এগারো, তখন ডাক্তারদের চেম্বারে বাবা-মায়ের মুখটা খুব মলিন হতে দেখলাম। জানা গেল, আমার শরীরে এক ধরনের হরমোনের ঘাটতি আছে। সহজ কথায়, আমার শরীর আর পাঁচটা ছেলের মতো স্বাভাবিকভাবে বাড়বে না। আমি চিরকালের জন্য একটা ছোটখাটো অবয়বের ভেতর আটকে যাব।

প্রতি রাতে পায়ে একটা করে সুঁই ফোটানো হতো, সেই ব্যথাটা সহ্য করা যেত। কিন্তু যে জিনিসটা সহ্য করা কঠিন ছিল, তা হলো বাবা-মায়ের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। চিকিৎসার খরচ এতটাই বেশি ছিল যে, আমাদের মতো সাধারণ পরিবারের পক্ষে তা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ফুটবল ক্লাবগুলো আমার প্রতিভা দেখছিল, কিন্তু এই বিশাল খরচের দায়ভার কেউ নিতে চাচ্ছিল না।

ঠিক তখনই, আটলান্টিকের ওপার থেকে একটা চিঠি এলো। এক অচেনা দেশ, অচেনা ক্লাব আমাদের পুরো পরিবারকে ডেকে পাঠাল। তারা আমার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে রাজি। শর্ত একটাই, ঘর ছাড়তে হবে, চেনা শহর, চেনা ধুলোবালি ছেড়ে চলে যেতে হবে এক অজানা ঠিকানায়।

একটি ন্যাপকিন পেপারে সই হলো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চুক্তিতে। তেরো বছর বয়সে, ভাঙা স্যুটকেস আর এক বুক অনিশ্চয়তা নিয়ে আমি আর বাবা চেপে বসলাম বিমানে। মেঘের ওপর দিয়ে যখন বিমানটা উড়ছিল, আমি জানালার বাইরে তাকিয়ে ভাবছিলাম, এই ছোট শরীরটা নিয়ে আমি কি পারব এক নতুন আকাশ জয় করতে?



আটলান্টিক পার হয়ে যখন স্পেনের মাটিতে পা রাখলাম, তখন চারপাশের আলো, ভাষা, এমনকি বাতাসের গন্ধটাও অন্যরকম লাগছিল। বার্সেলোনা শহরটা সুন্দর, কিন্তু আমার কাছে তখন মনে হতো এক অচেনা গোলকধাঁধা। লা মাসিয়ার সেই পুরনো পাথুরে দালানটার সামনে যখন এসে দাঁড়ালাম, বুকের ভেতর একটা ঠান্ডা ভয় মোচড় দিয়ে উঠেছিল। তেরো বছরের একটা ছেলে, যে নিজের শহর রোজারিও ছাড়া আর কিছুই চেনে না, সে হঠাৎ করে এক ঝাঁক অচেনা কিশোরের মাঝে এসে পড়ল।

প্রথম প্রথম আমি এতটাই চুপচাপ থাকতাম যে, আমার সতীর্থরা ভাবত আমি বুঝি বোবা। কথা বলার মতো ভাষা আমার জানা ছিল না, আর কাতালান ভাষাটা তো আমার কাছে মনে হতো সম্পূর্ণ ভিনগ্রহের কিছু। অনুশীলনের পর সবাই যখন একসাথে হাসাহাসি করত, গল্প করত, আমি তখন ঘরের এক কোণায় চুপচাপ বসে থাকতাম। ভীষণ হোমসিকনেস হতো। মনে হতো, এখনই ছুটে চলে যাই মায়ের কাছে, বন্ধুদের কাছে, রোজারিওর সেই ধুলোবালি ওড়া চেনা রাস্তায়। মা চলে গিয়েছিলেন আর্জেন্টিনায়, বাবা ওখানেই আমার সাথে একটা ছোট অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। বাবার মলিন মুখের দিকে তাকিয়ে আমি শুধু নিজের চোখের জলটা লুকিয়ে ফেলতাম।

 


কিন্তু বিকেলের দিকে যখন আমরা অনুশীলনের মাঠে নামতাম, তখন আর কোনো ভাষার প্রয়োজন হতো না। লা মাসিয়ার ফুটবল দর্শনটা ছিল অদ্ভুত, সেখানে শারীরিক শক্তির চেয়ে বুদ্ধিমত্তা আর টেকনিককে বেশি মূল্য দেওয়া হতো। ওরা একে বলত ‘রন্ডো’। ছোট একটা বৃত্তের মধ্যে দ্রুত পাস খেলে বল ধরে রাখা।

প্রথম দিন যখন আমি বলটা পায়ে পেলাম, আমার ভেতরের সমস্ত একাকীত্ব আর ভয় নিমেষেই উধাও হয়ে গেল। সেস্ক ফ্যাব্রেগাস নামের এক ছেলে পরে বলেছিল, প্রথম দিনের ট্রেনিংয়ে আমি নাকি ওকে ড্রিবল করে কাটিয়ে পরপর তিনটা গোল করেছিলাম। ওরা সবাই হা করে তাকিয়ে ছিল আমার দিকে। মাঠের ভেতরে আমার ছোট শরীরটাই হয়ে উঠল আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। সেন্টার ব্যাকগুলো যখন তাদের বিশাল শরীর নিয়ে আমাকে ধাক্কা দিতে আসত, আমি আমার শরীরের সেন্টার অব গ্র্যাভিটি নিচে রেখে এত দ্রুত দিক পরিবর্তন করতাম যে ওরা শুধু বাতাস ছুঁয়ে যেত। মাঠের ফুটবলটাই ছিল আমার একমাত্র কথা, আমার একমাত্র বন্ধু।


প্রতিভা হয়তো ঈশ্বরের দান, কিন্তু লা মাসিয়া আমাকে শিখিয়েছিল শৃঙ্খলা। প্রতিদিন সকাল পৌনে সাতটায় ঘুম থেকে ওঠা, দুপুর পর্যন্ত সাধারণ স্কুলে পড়াশোনা করা, আর বিকেলের দিকে মাত্র ৯০ মিনিটের তীব্র ফুটবল ট্রেনিং। কিন্তু আমার জন্য খাটুনিটা ছিল ডাবল।

গ্রোথ হরমোনের সেই ইনজেকশনটা প্রতিদিন নিয়ম করে নিতে হতো। প্রতি রাতে নিজের পায়ে নিজেই সুঁই ফোটাতাম। কখনো কখনো ব্যথায় পা অবশ হয়ে আসত। ডাক্তারদের পরামর্শে প্রতিদিন এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে স্ট্রেচিং আর বিশেষ কায়িক পরিশ্রম করতে হতো, যাতে পেশিগুলো ঠিকঠাক বাড়ে। ওই বয়সে যখন বাকি ছেলেরা ফ্রি টাইমে আড্ডা দিত বা ভিডিও গেম খেলত, আমি তখন জিমনেশিয়ামের মেঝেতে একা একা ঘাম ঝরাতাম। আমার মনে একটা তীব্র জেদ চেপে বসেছিল—যে ক্লাবটা আমার চিকিৎসার জন্য এত খরচ করছে, আমার ওপর বাজি ধরেছে, তাদের বিশ্বাস আমাকে রাখতেই হবে।

ধীরে ধীরে সময় বদলাতে লাগল। চোদ্দ-পনেরো বছর বয়সে আমাদের দলটা এক অপরাজেয় ‘বেবি ড্রিম টিম’ হয়ে উঠল। আমরা একের পর এক ম্যাচ জিততে লাগলাম, আর আমার নামের পাশে গোলের সংখ্যা বাড়তে লাগল।


১৬ বছর বয়স হতে না হতেই একদিন সিনিয়র দলের কোচ আমাকে ডেকে পাঠালেন। প্রথম দলের অনুশীলনে যখন গেলাম, তখন সেখানে বিশ্বফুটবলের সব মহাতারকারা বসে আছেন। লম্বা চুল আর জাদুকরী হাসির সেই ব্রাজিলিয়ান তারকা, যাকে পুরো পৃথিবী চেনে, তিনি হাসিমুখে আমাকে বুকে টেনে নিলেন। তিনি মাঠে আমাকে আগলে রাখতেন, পাসের পর পাস বাড়িয়ে আমার কাজটা সহজ করে দিতেন।

২০০৩ সালের এক রাতে, প্রথমবারের মতো সিনিয়র দলের সেই বিখ্যাত জার্সিটা গায়ে জড়িয়ে যখন মাঠে নামলাম, স্টেডিয়ামের হাজার হাজার মানুষের গর্জন আমার কানে এসে আছড়ে পড়ছিল। মাঠের সবুজ ঘাসে প্রথম পা রাখার সময় মনে হলো, আমি আর সেই রোজারিওর হরমোনজনিত সমস্যায় ভোগা দুর্বল ছেলেটি নই। পায়ের নিচের বলটা তখন আমার চিরচেনা আজ্ঞাবহ দাস।

এর পরের গল্পটা শুধুই ট্রফি, গোল আর সোনালী ট্রফিতে চুমু খাওয়ার। একের পর এক লিগ শিরোপা, ইউরোপের সেরা হওয়ার গৌরব, আর ব্যক্তিগতভাবে পৃথিবীর সেরা ফুটবলারের সেই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটা যখন বারবার আমার হাতে উঠতে লাগল, তখন মনে হয়েছিল জীবনের বৃত্তটা বুঝি সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু নিয়তি মুচকি হেসে বলছিল—নাহ, আসল পরীক্ষা তো এখনো বাকি, যেখানে তোমাকে পুরো একটা দেশের কান্নার দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নিতে হবে।

বল পায়ে যখন ক্লাবের হয়ে একের পর এক ট্রফি জিতছিলাম, জাদুকরী সব গোল করে পুরো দুনিয়াকে বুঁদ করে রাখছিলাম, তখন আটলান্টিকের ওপার থেকে একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস ভেসে আসত। আমার নিজের দেশ, চেনা মাটির মানুষগুলো বলত, ও তো স্পেনের ছেলে, দেশের জন্য ওর টান কোথায়?

টানা চারটি বিশ্বকাপ খেলেছি। প্রতিটি টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে বুকভাঙা কান্না আর একরাশ সমালোচনা নিয়ে। ২০১৪ সালের সেই ব্রাজিলের শীতের রাতে সোনালী ট্রফিটার পাশ দিয়ে যখন হেঁটে যাচ্ছিলাম, তখন ট্রফিটার দিকে তাকানোর সাহস আমার ছিল না। এত কাছে এসেও এভাবে শূন্যহাতে ফিরে যাওয়া! দেশের মানুষ ভাবত, আমি বুঝি ক্লাবের হয়ে যতটা উজাড় করে দিই, নীল-সাদা জার্সিতে ততটা দিই না। তারা আমার নীরবতাকে ভাবত অহংকার, আমার লাজুক স্বভাবকে ভাবত দায়বদ্ধতার অভাব। অথচ বুকের ভেতর যে কী তীব্র যন্ত্রণা হতো, তা শুধু আমি আর আমার সেই শৈশবের বন্ধু—যে এখন আমার অর্ধাঙ্গিনী এবং আমার তিন ছেলের মা—সে-ই জানত। অবসরের ঘোষণা দিয়েও আবার ফিরে এসেছিলাম, শুধু ওই একটা অপূর্ণ স্বপ্ন তাড়া করে বেড়াত বলে।


অবশেষে ২০২২ সালের কাতার। মরুভূমির বুকে তখন এক অদ্ভুত উন্মাদনা। আমার বয়স তখন পঁয়ত্রিশ, হয়তো এটাই আমার শেষ সুযোগ। পুরো দলটা আমার জন্য লড়ছিল, আর আমি লড়ছিলাম আমার দেশের কোটি মানুষের মুখে একটা হাসির জন্য।

সেই ফাইনাল ম্যাচটা ছিল এক শ্বাসরুদ্ধকর নাটক। ৩-৩ গোলের সমতা, তারপর পেনাল্টি শুটআউট। যখন শেষ শটটা জালের ভেতর জড়াল এবং আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলাম, আমি তখন মাঝমাঠে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছিলাম। মাঠের ঘাস ছুঁয়ে কাঁদছিলাম। মনে হচ্ছিল, মাথার ওপর থেকে হিমালয়ের মতো বিশাল এক পাথরের বোঝা নেমে গেছে। সেই রাতে যখন সোনালী ট্রফিটা হাতে তুললাম, মনে হলো এত বছরের সব ক্ষত, সব সমালোচনা এক মুহূর্তে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেছে। ফুটবল অবশেষে আমাকে তার ঋণ শোধ করেছে।


বিশ্বকাপ জয়ের পর জীবনের সব হিসাব-নিকাশ চুকে গিয়েছিল। শান্ত, নিরিবিলি জীবনের খোঁজে আটলান্টিকের আরেক পাড়ে এসে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিলাম। পরিবার নিয়ে সাধারণ একটা জীবন কাটানো, তিন ছেলেকে স্কুলে দিয়ে আসা, আর চাপহীন ফুটবল উপভোগ করাই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু ওই যে, ফুটবলের ক্ষুধা কি এত সহজে মেটে?

আজ, ২০২৬ সালের এই জুন মাসে, যখন আমার বয়স উনচল্লিশ ছুঁইছুঁই, আমি আবারও দেশের জার্সিতে এই আমেরিকার মাটিতেই আরেকটি বিশ্বকাপের মাঠে দাঁড়িয়ে আছি। শরীর আগের মতো দ্রুত দৌড়াতে পারে না হয়তো, কিন্তু ফুটবল বুদ্ধিমত্তা আর মাঠের স্পেস চেনার ক্ষমতা তো ফুরিয়ে যায়নি।

চলতি টুর্নামেন্টে প্রথম দুই ম্যাচেই ৫টি গোল হয়ে গেল। আলজেরিয়ার বিপক্ষে সেই হ্যাটট্রিক আর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল, যেখানে বিশ্বরেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার (১৮ গোল) সিংহাসনে বসার সৌভাগ্য হলো। লোকে এখন এই বয়সের পারফরম্যান্স দেখে অবাক হয়, খবরের কাগজে ‘অতিমানবীয়’ বলে বড় বড় হেডলাইন লেখে। আমি শুধু মনে মনে মুচকি হাসি।

আজ চব্বিশে জুন, আমার জন্মদিন। মাঠের বাইরে আমি এখনো সেই রোজারিওর লাজুক, সাধারণ ছেলেটিই আছি, যে কি না কোলাহল এড়িয়ে পরিবারের সাথে সময় কাটাতে ভালোবাসে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যখন নিজের ছোটখাটো শরীরটা আর ট্রিম করা দাড়িগুলোর দিকে তাকাই, তখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে ২৬ বছর আগের সেই তেরো বছরের চশমাপরা, হরমোনজনিত সমস্যায় ভোগা ছেলেটা—যে এক ভাঙা স্যুটকেস নিয়ে স্পেনে পাড়ি জমিয়েছিল। ঈশ্বর হয়তো মানুষের গল্পগুলো এভাবেই লেখেন; সব সীমাবদ্ধতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, এক টুকরো চামড়ার বলকে সঙ্গী করে একটা পুরো প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখাতে শেখানোর জন্য।

 

১০২ পঠিত ... ৩ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top