ফেসবুকে কিছুদিন ধরে নিশ্চয়ই কিছু মিম আপনার চোখে পড়েছে?
যে ছেলে কোরবানীর গরুর রক্ত দেখে ভয় পায়, তাকে চুড়ি পরিয়ে দেওয়া হয়েছে!
যে ছেলে মাংস কাটতে ভয় পায়, তাকে শাড়ি পরিয়ে দেওয়া হয়েছে!
কিন্তু কখনও কি ভেবেছেন, রক্ত দেখে ভয় পাওয়া বা মাংস কাটতে ভয় পাওয়াটা আসলে স্বাভাবিক নাকি অস্বাভাবিক?
মানুষের নার্ভাস সিস্টেম এবং বিজ্ঞান বলছে, কেউ যদি রক্ত দেখে ভয় পায় বা মাথা ঘুরে পড়ে যায়, তা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি ঘটনা। ছেলে, মেয়ে, বাচ্চা কিংবা বুড়ো, যে কারোরই এই ভয় বা শারীরিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
এর পেছনে একটা নিখাদ বৈজ্ঞানিক কারণ আছে:
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় রক্ত, ক্ষত বা ইনজেকশন দেখার এই তীব্র ভয়কে বলা হয় হিমোফোবিয়া। আর রক্ত দেখলে অনেকের যে হঠাৎ মাথা ঘোরা, শরীর ছেড়ে দেওয়া বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়, তাকে বলা হয় ভ্যাসোভেগাল সিনকোপ । রক্ত দেখার সাথে সাথে আমাদের মস্তিষ্কের অনিচ্ছাকৃত স্নায়ুবিক প্রতিক্রিয়ার কারণে হঠাৎ হার্ট রেট এবং রক্তচাপ কমে যায়। ফলে মস্তিষ্কে সাময়িক অক্সিজেনের ঘাটতি হয়ে মানুষ এমন দুর্বল বোধ করে। এটা কোনো মানসিক দুর্বলতা বা পুরুষত্বহীনতা নয়, এটা শরীরের সম্পূর্ণ একটি অনৈচ্ছিক এবং স্বাভাবিক স্নায়ুবিক রিফ্লেক্স।
সুতরাং, মিম বানিয়ে কাউকে উপহাস করার আগে একটু ভাবা উচিত। আপনি যদি কোরবানীর দিন সকালটাই এই ভয়ের কারণে নিজের নার্ভের ওপর বাড়তি চাপ দিতে না চান, তবে নিজেকে জোর করার কোনো প্রয়োজন নেই। ব্যাপারটা অনায়াসেই এড়িয়ে যেতে পারেন। নামাজ পড়ে এসে একটা ঘুম দিতে পারেন অথবা অন্য কিছু করেও সুন্দর সময় কাটাতে পারেন।
এতে আপনার, আপনার পরিবারের, কোরবানীর বা ধর্মের, কোনো ক্ষতিই হবে না! জোর করে পৈশাচিক আনন্দ নেওয়ার চেয়ে নিজের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতাকে প্রাধান্য দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আপনার ঈদ সুন্দর কাটুক! ঈদ তারও সুন্দর কাটুক, যে বিজ্ঞান না বুঝে আপনাকে নিয়ে মিম বানায়!
ঈদ মোবারক!



পাঠকের মন্তব্য