মেয়েটা সারাদিন ভুঁতা মাইরা থাকে, ময়-মুরুব্বিদের সঙ্গে কথা কয় না, হাসে না। মা কিছু শেখায় নাই।
আরে, মা এমন বানাইছে! নিজে ঠিকই সবার সঙ্গে হাসাহাসি করে, কিন্তু মাইয়াটার অবস্থা দেখো! কারও সঙ্গে মেশে না।
মুখে মুখে তর্ক? আর কিছু না পারলেও মায়ের কাছ থেকে এটুকু তো ঠিকই শিখছ।
ছেলেটা এই যে লাফাঙ্গা হলো, ওর মা তো ওরে কিচ্ছু শিখাইতে পারে নাই।
শ্বশুরবাড়ি আসছ, কীভাবে রান্না করতে হয়, ঘোমটা দিতে হয়, মুরুব্বিদের সঙ্গে কথা বলতে হয়, চায়ে কতটুকু চিনি দিতে হয়… সেটাও কি তোমার মা তোমায় শেখায়নি?
কথা ভুল না। এগুলা কেউ না পারলে, না জানলে, না বুঝলে কিংবা ভুল করলে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দোষ মায়েরই।
ঘরের কর্তা পর্যন্ত যখন স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলে, “তোমার জন্য ছেলে/মেয়েটা আজ এমন হয়েছে,” সেটা সঠিক না হয়ে উপায় আছে?
প্রতিবেশীরা একটা সমাজের প্রাণ। আপনার নিকটস্থ মানুষগুলো যখন বলেছে, অমন আইবুড়ো মেয়ে কেউ ঘরে রাখে? মা আস্কারা দিয়ে এমন বানিয়েছে,” কিংবা “মা ঠিক থাকলে ছেলেটা কি আর অমন ঘর থেকে দূরে থাকত? তাহলে কথাটা ঠিক, একদম শতভাগ ঠিক!
কথায় আছে, মুরুব্বিদের কথা শুনতে হয়।
সুতরাং মুরুব্বিরা যেহেতু দুনিয়ার তাবৎ সন্তানদের তাবৎ খারাবির জন্য ‘মা’কে কাঠগড়ায় দাঁড় করান, তখন সেটা দুইশত শতাংশ সঠিক, বলেন ঠিক কিনা?
ধর্মের কথা বলছি না, কিন্তু ওয়াজ-মাহফিলে দেখি মা-বোনদের গুরুত্ব সীমাহীন।
না, আমরা বক্তাদের জাজ করছি না; তারা মা-বোনদের ব্যাপারে এত কনসার্ন যে অনেক ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ বক্তব্য তাদের নিয়ে দেন। মায়েরা ঠিক হলে বোনেরা ঠিক হবে। বোনেরা ঠিক হলে পরবর্তীতে তারা মা হয়ে আবার বোনদের ঠিক করবে।
সংসারে কোনো দোষ থাকবে না, সন্তান খারাপ হবে না, ছেলে-মেয়ে বেয়াদব হবে না, অন্তর্মুখী হলেও সবার সঙ্গে কথা বলবে; দারুণ একটা মাসুম সমাজ হবে।
এবার একটু সিরিয়াস কথা বলা যাক: কখনও কি ভেবেছেন, এই মানসিকতা আমাদের কোথা থেকে আসলো? কেন আমরা এটা লালন করেই যাচ্ছি শতাব্দীর পর শতাব্দী? এতে লাভটা আসলে কাদের? কেন এটা থেকে আমরা বের হতে চাই না?
সব দোষ মায়েদের কেন দিতে চাই?
এই প্রশ্নগুলো নিয়ে একটু ভাবুন।
ভাবতে ইচ্ছে করছে না? আবার এমন মনে হচ্ছে না তো, আম্মা তো এগুলো ভাবতে শেখায়নি, কেন ভাবতে যাব?



পাঠকের মন্তব্য