আপনের হাগ দরকার। একটা লম্বা হাগ দরকার। হ্যাঁ, আপনেরেই বলতেছি…

পঠিত ... ২ ঘন্টা ১ মিনিট আগে

দুইটা শরীর যখন একে অপরের ওপর হামলায় পড়ে না, বরং সমর্পণ করে, তখন সেটারে হাগ বলে। বিজ্ঞানের কারবারিরা কয়, হাগ দিলে নাকি শরীরের ভিতর অক্সিটোসিন নামের এক প্রকার হরমোন দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। এই হরমোন হইলো গিয়া মায়া-মহব্বতের আসলি কারিগর। মাইনষে যখন তার প্রিয় মানুষটারে জাপটায়া ধরে, তখন নাকি ব্রেন থাইকা সিগনাল যায়, চাপ নিস না ভাই, আমি আছি।

তয় আমাদের এই ঢাকা শহরে কি আর হাগ দেওয়ার ফুরসত আছে? জ্যামের ভিতর বাসে ঝুইলা থাকা মানুষগুলাও একে অপরের গায়ের উপর পইড়া থাকে, সেটারে তো আর হাগ কয় না। আসলি হাগ হইলো সেইটা, যেখানে ২০ সেকেন্ড ধইরা আপনি আপনার কলিজার টুকরাটারে ধইরা রাখবেন। বিশটা সেকেন্ড! এই সময়ে আপনার হার্টবিট থিতু হয়, ব্লাড প্রেশার কমে আর মনের ভিতরের যে জং ধরা বিষাদ, সেইটা উইড়া যায় গা।

বিজ্ঞানীদের ওইসব অক্সিটোসিন-টক্সিটসিন বাদ দেন, মোদ্দা কথা হইলো, একটা শক্ত কইরা হাগ দিলে শরীরের ভিতর যে সিনসিনানি শুরু হয়, সেইটা দামী মদের চেয়েও কড়া। এইটা এক প্রকার ফ্রি ওষুধ। যারা এই শহরে একা থাকে, যাদের কেউ নাই, তারা বোঝে একটা জ্যান্ত মানুষের শরীরের ওম কত বড় বিলাসিতা। নিজের হাত দুইটা নিজের বুকে রাইখাও নাকি এই শান্তির কিছুটা পাওয়া যায়, কিন্তু অন্যের সিনার ওম কি আর এমনে পাওয়া যায়?

হাগ জিনিসটা নিয়া আমাদের এই তল্লাটে এক প্রকারের লজ্জা-লজ্জা ভাব আছে। অথচ দেখেন, একটা মানুষ যখন খুশিতে ফাটাফাটি কইরা ফেলে কিংবা দুঃখে একদম তলায় যায়গা, তখন একটা জবরদস্ত আলিঙ্গন ছাড়া আর কোনো গতি থাকে না। বিজ্ঞান কয়, বিশ সেকেন্ড জড়ায়ে ধরলে কর্টিসল নামের সেই আপদটা শরীর থাইকা কমতে থাকে, যে আপনারে সারাদিন টেনশনের গোয়ালে বান্ধা রাখে।

থেরাপিস্টরা কয়, দিনে অন্তত চারটা হাগ লাগে টিকে থাকার জন্য। আর যদি লাইফে ডানা মেলতে চান, তবে বারোটা। সংখ্যাটা কি খুব বেশি? এই যে আমরা সারাদিন ফোনের স্ক্রিন ঘষি, ইন্টারনেটে হাজার হাজার মানুষের লগে কানেক্টেড থাকি, অথচ দিনশেষে বিছানায় গিয়া একা শুয়ে থাকি, এইটা হইলো ডিজিটাল আকালের যুগ। একটা আসল মানুষের স্পর্শের যে ওজন, যে ভাইব্রেশন, সেইটা ইমোজি দিয়া হয় না।

পেইন কিলারের কথা বাদ দেন। প্রিয় মানুষের বুকের ওম হইলো আসলি অ্যানাটমি। এইটা হার্টরে সচল রাখে, রোগবালাই দূরে ঠেলে। হাগ দিলে মনে হয় দুনিয়াটা অতটা খারাপও না, যতখানি আমরা ধইরা রাখছি।

ভয় কীসের? ইগো টাইনা তো আর প্রেম হয় না। যারে বিশ্বাস করেন, যারে নিজের ভাবেন, তারে একবার সিনা বরাবর ধইরা দেখেন। শরীরের ভিতর যে কেমিস্ট্রি গইড়া ওঠে, তার কাছে দুনিয়ার সব দামী থেরাপি ফেল।

শেখের বেটারা কয়, আপেল নাকি দিনে একটা খাইলে ডাক্তার লাগে না। আমি কই, দিনে ১২টা হাগ দেন, তাইলে আর থেরাপিস্টের বারান্দায় গিয়া টুলের উপর বইসা থাকা লাগবে না। হিসাবটা সোজা:
বেঁচে থাকার জন্য লাগে চারটা,
টিকে থাকার জন্য আটটা,
আর যদি আসমানে উড়তে চান, তবে ১২টা হাগ মাস্ট।

কিন্তু সমস্যা তো অন্য জায়গায়। আমরা হাগ দেই কখন? হয় কেউ মারা গেলে কবরের পাড়ে দাঁড়ায়ে, না হয় খুব বিপদে পইড়া হাউমাউ কইরা কাইন্দা দিলে। মানে হইলো, আমরা আলিঙ্গনরে বানায়া ফেলছি দুঃখের ক্যালেন্ডার।

শহরটা দিন দিন মরুভূমি হয়া যাইতেছে। মাইনষের লগে মাইনষের কানেকশন এখন শুধু ওই নীল রঙের লাইক আর কমেন্টে। অথচ একটা জ্যান্ত মানুষের গায়ের গন্ধ, তার নিশ্বাসের শব্দ আর হার্টবিটের যে তাল, এইটার কোনো রিপ্লেসমেন্ট নাই। ২০ সেকেন্ডের একটা হার্ট-টু-হার্ট হাগ আপনারে যে পরিমাণ সেরোটোনিন দিবে, সেইটা কোনো দামী রেস্টুরেন্টের খাবারে নাই।

ইগো বাচায়া লাভ নাই ভাই। ইগো দিয়া বালিশ হয়, কিন্তু সেই বালিশে শান্তি নাই। লজ্জা ভাঙেন, হাত বাড়ান। যারে ভালোবাসেন তারে শক্ত কইরা জড়ায়ে ধরেন। দেখবেন শরীরের সব কলকব্জা ঠিকঠাক কাজ করা শুরু করছে। বিজ্ঞান আর ইমোশন যেখানে আইসা এক বিন্দুতে মিলে যায়, সেটারে সোজা কথায় কয়, হাগ।

বাকিটা আপনার বুকের পাটা। জ্যান্ত থাকতে চাইলে হাগ দেন।

পঠিত ... ২ ঘন্টা ১ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top