লেখা: আফসানা বেগম
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সংষ্কার
আমি জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে আগে কখনও যাইনি। প্রতিষ্ঠানটির কাজ সম্পর্কেও আমার কোনো ধারণা ছিল না। তবে তখন মাথার মধ্যে কেবল সংষ্কার ঘুরছিল, তাই ধরে নিয়েছিলাম কাজ যা-ই হোক, একটা প্রতিষ্ঠানকে ঢেলে সাজাতে হবে আমাকে। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে আমি প্রথম পা রাখি পরিচালক হিসেবে। সহকর্মীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও গাইডেন্সে কদিনেই আমি জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের কাজের সঙ্গে মিশে যাই। কয়েকদিনেই বুঝতে পারি সাহিত্য নিয়ে ধারণা থাকা এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গেলে জরুরি, তবে সবচেয়ে বেশি জরুরি ব্যবস্থাপনার জ্ঞান। গতানুগতিক কাজগুলো তো বটেই, নিত্য নতুন কাজের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করে আমার দিন কাটে। নিজের কাজকে মন থেকে ভালোবাসার চেয়ে সৌভাগ্যের হয়ত আর কিছু হতে পারে না।
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র পাঠক সমাজ নির্মাণে কাজ করে। যেহেতু এর মাধ্যমে সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাঠকের হাতে বই পোঁছে দেয়া সম্ভব, তাই পাঠকেরা কী পড়বেন বা শিখবেন, মননশীলতায় কী পরিবর্তন আনবেন, এটি নির্ধারণের ক্ষমতা কিছুটা হলেও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের রয়েছে। পাঠক সমাজ নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটি আগে যা করত তাতে গত বছর দেড়েকে দৃশ্যমান যে সমস্ত পরিবর্তন এনেছি ও নতুন যাকিছু করেছি তা নিয়ে আপনাদের জানাতে চাই। (চরম অস্থির ও অনিশ্চিত সময়ের মধ্যে নতুন কিছু করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে এত বেশি ছোটাছুটিতে ব্যস্ত ছিলাম, কখনো সেভাবে বলা হয়নি, ভেবেই রেখেছিলাম টার্ম শেষ হলে যখন হাতে সময় থাকবে, তখন নাহয় বলা যাবে।)
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে অবাক হলাম, ১৯৭৮ সালে নির্মিত বিল্ডিং হাজার হকারের চ্যাঁচামেচির মধ্যে শত তারের বেষ্টনীতে টালমাটাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রঙ নেই, শ্রী নেই। অফিসারদের বাথরুমের অবস্থা ভয়াবহ, দরজা ঠেলে ধরে থাকতে হয়, ছিটকিনি নেই। দরজার নিচের দিকে ক্ষয়ে গেছে, প্রাইভেসি নেই। নানা অব্যবস্থাপনায় দুর্গন্ধে ঠাসা। পানি খাওয়ার ফিল্টার নেই। এই অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির মধ্যেই তারা নাকি গ্রন্থ উন্নয়নের বা পাঠক সমাজ নির্মাণের কাজ করেন! এখানেই আসেন দেশের প্রথিতযশা শিল্পী-সাহিত্যিক-কবিরা। ভবন মেরামত খাতে কিছু টাকা পড়ে ছিল, হয়ত বছর শেষে ফিরেও যেত। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ভবনটি মেরামতের কাজে হাত দিই। কিছুদিনের মধ্যে নতুন ঝকঝকে ওয়াশরুম আর আলোকিত অন্দরমহল পাই আমরা। ভবন সংষ্কার দিয়েই শুরু করি সংষ্কার, কারণ, কাজের পরিবেশ ঠিক না হলে তাদের কাজ করতে বলব কী করে? যা হোক, এবারে কাজের কথা।
১. জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের বিভাগীয়/জেলা বইমেলা। দেশের প্রধান প্রকাশকদের প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ বই নিয়ে জেলা বা বিভাগীয় শহরে মেলা করেছি। এই আয়োজন আগেও কমবেশি হতো, কিন্তু প্রচার প্রচারণার জন্য বিভাগীয় কমিশনার/জেলা প্রশাসক অফিসকে ফান্ড দেয়া হতো। সে ক্ষেত্রে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেই। তাই প্রচারণার বিষয়টি জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে লাগিয়ে করা আরম্ভ করলাম। স্কুল- কলেজ, শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা কিছুই বাদ পড়ল না। এতে করে তুমুল জাগরণের সৃষ্টি হলো। শিশু-কিশোরদের ঢল নামল। যদিও মেলা বইয়ের কাছে মানুষকে আনার জন্য, তবুও সংখ্যা ছাড়া এর সফলতা নির্ণয় করা কঠিন। তাই সেভাবে বলতে গেলে, আগে একেক মেলায় ৫-৬ লাখ টাকার বিক্রি হতো, এবারে হয়েছে ২৫-৩৫ লাখ। ক্রমাগত লেগে থাকলে বিভাগীয় শহরে একেকটি একুশে বইমেলার মতো বিশাল আয়োজনের দিকে যাবে একদিন এই বইমেলা।
২. সারাদেশের ব্যক্তিগত মালিকানার পাঠাগারের জন্য ‘পাঠাগার নির্দেশিকা সফটওয়ার’ বানানো ও চালু করা হলো। পাঠাগারের নাম-ঠিকানা, বইয়ের সংখ্যা ও তালিকা, লোকেশন, পাঠ কার্যক্রমের ছবি ইত্যাদি তাতে আপলোড করা যায়। প্রত্যেক পাঠাগারের থাকে একটি প্রোফাইল। এতে পাঠাগারের সঙ্গে যোগাযোগে আমূল পরিবর্তন এল।
৩. জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে সরকার সারা দেশে ব্যক্তিগত মালিকানার পাঠাগারে বই নির্বাচন করে বই বিতরণ করে। পাঠাগারের নির্বাচন সে ক্ষেত্রে খুব জরুরি কারণ ভুরি ভুরি ভুয়া পাঠাগার। পাঠাগার ব্যবসা বন্ধে পরিদর্শন চালু করলাম। কর্মকর্তারা পাঁচ দিন অফিসের পরে সাপ্তাহিক ছুটি উপেক্ষা করে সারাদেশে চষে বেড়াতে লাগল। এতে তাদের পারিবারিক জীবন ব্যহত হলো কিন্তু অস্তিত্বহীন পাঠাগার সনাক্ত হয়ে কার্যকর পাঠাগারের প্রতি অনুদান সেবা, পাঠ কার্যক্রম অংশগ্রহণ বাড়ল। পরিদর্শনের মাধ্যমে সারা দেশের ছোটো-বড়ো পাঠাগারের তথ্য, যোগাযোগ হাতের মুঠোয় চলে এল।
৪. অনুদানের জন্য গ্রন্থাগারের আবেদন প্রাচীন হাতে লেখা পদ্ধতি বন্ধ করে এবারে অনলাইনে নেয়া হয়েছে। ইউএনও অফিসের পিছনে সুপারিশের জন্য ঘুরতে হয়নি প্রান্তিক মানুষদের। সফটওয়ারে ইউএনও সরাসরি মত দেবেন। এরপর আগের মতো বই নিতে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে আসতে হবে না তাদের, যাদের ঢাকায় থাকারও কোনো জায়গা থাকে না। সফটওয়ারের মাধ্যমে বই বাছাই করে তাতেই জানিয়ে দেবেন, আর গ্রন্থকেন্দ্র থেকে ক্যুরিয়ারে পৌঁছে যাবে বই। (সফটওয়ারের এই শেষ অংশটি সমাপ্ত হতে আর মাত্র ২-৩ মাস লাগবে।) গ্রন্থকেন্দ্রের অল্প জনবল আর মাসের পর মাস বই বিতরণের জন্য ব্যস্ত থাকবে না। (অন্য অনেক ক্রিয়েটিভ কাজ করা যাবে তখন।)
৫. বই বাছাই এবারেই শেষবারের মতো কাগজে হচ্ছে। এরপর সেটাও সফটওয়ারভিত্তিক হবে। এক ক্লিকেই বইয়ের প্রচ্ছদ, সিনপসিস দেখে বই নির্বাচন কমিটি ও গ্রন্থাগারের মানুষেরা বই পছন্দ করবে। মিটিংয়ের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসে অর্থ সাশ্রয় হবে, একই বাজেটে পাঠাগারে আরো বেশি বই দেওয়া যাবে।
৬. বই পত্রিকা একটি রাজনৈতিক ক্রোড়পত্রে পরিণত হয়েছিল। নব পর্যায়ে নতুন উদ্দমে সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে তা প্রকাশ হতে শুরু করেছে। (যদিও কোনো মেকআপ, প্রুফ, সম্পাদনার লোক নেই।) অফিসের পরে বা গাড়িতে কাজ করে বই পত্রিকা প্রকাশ হলো দুটো সংখ্যা। বোদ্ধারা প্রশংসাই করলেন।
৭. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পাঠ কার্যক্রমে অল্প বাজেট। কম দামের চিরায়ত বই আর নিজেদের ফি কমিয়ে এনে আরো বেশি বেশি কলেজ-স্কুলকে এবারে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। ৩০০-৪০০ বই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ দূর দূরান্তের জেলার গুরুত্বপূর্ণ কলেজের শিক্ষার্থীদের সাহিত্য পাঠের উৎসাহ দেখলে আনন্দে চোখে পানি আসে।
৮. জাতীয়ভিত্তিক পাঠ কার্যক্রমে উৎসাহ দিয়ে আগের বছরের ৪০-এর জায়গায় এবাওে ৮০টি পাঠাগারের পাঠকেরা অংশগ্রহণ করছে। একই বইয়ের রিভিউ আর তার উপরে বক্তৃতার প্রতিযোগিতা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা যখন এক গাদা বই উপহার নিয়ে ফেরে, তাদের চকচকে মুখ হয় দেখার মতো।
৯. বই নিয়ে আজকাল মানুষ মুখোমুখি কথা বলা ভুলেই গেছে। ভাবলাম ফেরাই আশির দশক আবার। এই জ্যাম-হকারের এলাকাতেই পাঠচক্রের কথা তুললাম। জুটেও গেল অআকখ নামের এক পাগল-পড়ুয়া দল। দ্রুতবেগে পরপর ছয়-ছয়টি পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হলো। খুবই লো-বাজেট। একজন মাত্র অতিথি লেখক, আর চা-নাস্তা অতি সামান্য। নাচ-গান নয়, কিন্তু ভিডিওগুলোতে ৪-৫ লাখ ভিউ, শত কমেন্ট। মানুষ দূর দূরান্ত থেকে ফোন করতে লাগল, আমাদের শহরে আসেন পাঠচক্র নিয়ে! অআকখ-এর তরুণদের সঙ্গে নিয়ে হয়ত কখনো হতো সেটা...
১০. অনুষ্ঠানের সীমা নেই। কদিন পরে পরে আলোচনা, বই আলোচনা, পাঠ কার্যক্রম চলত, চলবেও হয়ত।
১১. পরিদর্শন করানোর ফলে গ্রন্থাগারিকদের ট্রেনিংয়ে এখন হাজির হচ্ছেন কেবল সত্যিকারের গ্রন্থাগারের সংগঠক, আগেকার পাঠাগার ব্যবসায়ীরা নয়।
১২. এ ছাড়া পলিসি তৈরিতে কাজ করেছি আমরা। অনুদানের নীতিমালা সংশোধন-প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পেশ করা হয়েছে। নীতিমালা ছাড়াই যে কার্যক্রমগুলো চলছিল, সেসবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনার জন্য আরো নীতিমালা তৈরি হয়েছে, যেমন, পাঠাগারের তালিকাভুক্তি নীতিমালা। বিভাগীয়/জেলা বইমেলা, ভ্রাম্যমান বইমেলা, মিলনায়তন ভাড়া, ইত্যাদি নীতিমালা চলমান।
১৩. উপজেলা পর্যায়ে যেহেতু আমাদের কোনো কার্যক্রম নেই, তাই বুক ভ্যান দিয়ে সেসব স্থানে স্কুল কলেজের সামনে ভ্রাম্য মান বইমেলা করার আয়োজন চলছিল। ২-১ মাসের মধ্যে শুরু হতো।
১৪. বিল্ডিংয়ের অডিটোরিয়াম সংষ্কার করার ফলে তা ভাড়া দেয়ার উপযুক্ত হয়েছে। ১-২ মাসের মধ্যে নীতিমালা প্রকাশ করে ভাড়া কার্যক্রম শুরু করার কথা। চাহিদা আছে বলে এতে প্রচুর আয় হবে।
আর মজার ব্যাপার হলো, এইসমস্ত কাজ জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র করেছে কেবলমাত্র হাতে গোনা ৪-৫ জন অফিসার দিয়ে। একটা শক্তিশালী টিম তৈরি করেছি। কাজের স্পৃহা তৈরি করেছি। আমার মতে এটাই আমার সবচেয়ে বড়ো সংষ্কার। তারা যা করেন ভালোবেসে করেন, এ এক পরম পাওয়া।
আরও যা করা যেতে পারে
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় তথা সরকারের জন্য প্রভূত সম্ভাবনার জায়গা। সরকার এর মাধ্যমে গ্রন্থ নিয়ে কাজ করতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটি দেশে-বিদেশে প্রচুর কাজ করতে পারে। ওদিকে, গ্রন্থকেন্দ্রের কাজগুলো পরস্পর ভিন্নধর্মী কিন্তু লোকবল সে অনুসারে সজ্জিত নয় বলে এক কাজকে স্থগিত রেখে অন্য কাজ করতে হয়। অথচ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এমন হতে পারত যে সারাবছর একাধারে বইমেলা, পাঠাগার কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও অনুষ্ঠানাদি চলতে পারে। আবার বিভাগীয় বইমেলা আয়োজন প্রতিষ্ঠানটি রাজধানীতে বসে পরিকল্পনা ও পরিচালনা করে, এতে যেমন সমস্যাও প্রচুর, স্থানীয় প্রশাসনের উপরে নির্ভরশীলতাও প্রকট। এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় পর্যায়ে শাখা অফিস স্থাপন করা যেতে পারে, যে নির্দেশনা জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের আইনসিদ্ধ।
বাংলাদশে অন্তত ৭০টি শতবর্ষী ও প্রাচীন পাঠাগার আছে, কোনোটা ধুঁকে ধুঁকে টিকে আছে, কোনোটা অকার্যকর। পাঠাগারগুলো দীর্ঘদিন ধরে সহায়তার প্রতীক্ষায় দিন গুনছে। সাহায্যকল্পে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে ইতোমধ্যে তাদের বিচিত্র প্রয়োজনের তথ্য সংগ্রহ করেছে। সরকার চাইলেই জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে শতবর্ষী পাঠাগারগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে তাদের মডেল পাঠাগার হিসেবে ঘোষণা দিতে পারে। এতে করে নতুন পাঠাগার গড়ে তোলার চেয়ে অতি অল্প ব্যয়ে দেশ বিশাল ও সমৃদ্ধ বহু পাঠাগার পেয়ে যেতে পারে, যা চৌকষ সরকারের অবদান হিসেবে স্মরিত হবে।
লোকবল সন্নিবেশ ও নানান প্রসাশনিক জটিলতায় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের আন্তর্জাতিক বইমেলা ও পুরস্কার প্রদান কার্যক্রম স্থগিত হয়ে আছে। এই দুই কর্মযজ্ঞ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সুনামের নতুন দরজা খুলে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক বইমেলার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনা ও এজেন্টদের প্রণোদনা দিয়ে দেশের প্রখ্যাত গ্রন্থ অনুবাদের ও বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশের সুযোগ গ্রহণ করা জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষুদ্রাকারে শুরু করলেও একদিন তা বিশাল আকৃতি নিতে পারে। বাংলাদেশের সাহিত্যের মান অন্য ভাষাভাষীদের জানানোর সুযোগ তৈরি না করলে চিরকাল তা অবহেলিত ও গোচরেই থেকে যাবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন, পাঠাগার সংক্রান্ত গবেষণা, পাঠাগারের ডিজিটাইজেশন এ ধরনের বহু সম্ভাবনাময় কাজ জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে করা সম্ভব।
সরকারী উদ্যোগে গ্রন্থনীতির একটি বাস্তবায়নযোগ্য খসড়া প্রস্তুত করা আছে। সেটির বিষয়ে বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় মনোযোগী হতে পারে। যেহেতু সংস্কৃতি নীতি সংস্কারের কাজ চলছে, তার অংশ বলেই, গ্রন্থনীতির অনুমোদন ও বাস্তবায়ন ছাড়া সংস্কৃতি নীতি অপূর্ণ থেকে যাবে। আর কেবলমাত্র গ্রন্থনীতির বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিলেই জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র তথা পাঠক সমাজের জন্য যা প্রয়োজন তা-ই করা হবে।
গুরুত্বপুর্ণ ও শেষ প্রশ্ন: সংষ্কার কি হবে?
(সমাপ্ত)



পাঠকের মন্তব্য