বাগেরহাটের সাদ্দাম ছেলেটাকে আমি চিনতাম না। প্রথমে ভেবেছিলাম, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাদ্দাম। পরে বুঝলাম, বাগেরহাট শহরের নিতান্ত পিচ্চি একটা ছেলে; যে ছাত্রলীগের উপজেলা সভাপতি ছিলো।
সাদ্দামকে না চিনলেও এই বয়সী ছেলেদের জানি আমি, যারা ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রনেতা হয়। এরা সাধারণত কোনো দলের প্রতি অনুগত থাকে না। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে এরা ছাত্রদল, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে ছাত্রলীগ।
এরা ক্ষমতার কেন্দ্র বিবেচনায় প্রান্তিকস্য প্রান্তিক। জীবনে সেন্ট্রাল লিডারের সাথে একবার দেখা হয় কিনা, সন্দেহ। এদের সর্বোচ্চ দৌড় এলাকায় দু চার জনকে থাপ্পড় দেওয়া, ভাইয়ের সাথে মিলে দখল করা ঘের করা আর সারাদিন ভাই ভাই করা।
এই অপরাধে সাদ্দাম জেলে। ফাইন। তা নিয়ে কথা নেই। অপরাধ থাকলে তো জেলে থাকবেই।
কদিন আগে চিঠি লিখেছে, এই জেলে যাওয়ার পর পৃথিবীতে আসা সন্তানটাকে কোলে নিতে না পারাই তার একমাত্র কষ্ট। একদিন মাইকে তার নাম ডাকা হলো, সে ভাবল, কেউ দেখা করতে এসেছে। ডাক শুনে ছেলেটা জেলগেটে এলো। দেখলো, একটা এম্বুলেন্সে তার সেই সন্তান আর স্ত্রীর লাশ!
সাদ্দাম কি ছেলেটার লাশ কোলে নিয়েছিল? সাদ্দাম কি এখন কিছু ভাবতে পারছে?
সাদ্দাম ভাই আমার, এই ছেলে-বউয়ের লাশটাই তোমার জীবন। যাদের জন্য তুমি পথে ছিলে, তারা দিল্লি, লন্ডন, পারিসে কফির কাপে চুমুক দিচ্ছে। যাদের ভাই বলেছিলে, তারা পোশাক বদলে বিপ্লবী হয়ে গেছে। যারা সুবিচার করবে ভেবেছিলে, তার ভয়ংকরতম দানব হয়ে গেছে।
তোমার জীবনে তুমি আর ওই দুটো লাশই শুধু সত্যি। যদি পার, বেঁচে থেক।
যদি কোনোদিন মুক্তি পাও, একটা বই পোড়ো—অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়াস্টার্ন ফ্রন্ট। বুঝবে তুমি আসলে কে।



পাঠকের মন্তব্য