শীতকালে পা দুটি নিয়ে অনেক অবিবাহিত মানুষ পড়েন ব্যাপক ফ্যাসাদে! যাদের জীবনে কোনো 'অর্ধেক মানব বা মানবী' নেই, তাদের জন্য এই শীতের রাতগুলো একটু বেশিই নিষ্ঠুর। কনকনে ঠান্ডা পা দুটোর জ্বালায় রাতে ঘুম আসাও দায়! সঙ্গীহীন এই হিমশীতল জীবনে নিজের পায়ের যত্ন নিজেই নেওয়ার জন্য রইলো কিছু অদ্ভুত কিন্তু কার্যকরী টিপস—যা কেবল অবিবাহিতদের জন্যই বিশেষভাবে সংরক্ষিত!
১. পায়ের ওপর ওভেন থেরাপি: যাদের ঘরে ছোট ইলেকট্রিক ওভেন আছে, তারা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে পা দুটো তার সামনে রাখতে পারেন। তবে সরাসরি ওভেনের ভেতরে পা ঢুকিয়ে দেওয়ার চিন্তা করবেন না, এতে পা রোস্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
২. ঘর্ষণে উষ্ণতা লাভ: যেহেতু পাশে পা রাখার মতো কোনো সঙ্গী নেই, তাই নিজের এক পা দিয়ে অন্য পা অনবরত ঘষতে থাকুন। বিজ্ঞানের সূত্রমতে, ঘর্ষণের ফলে তাপ উৎপন্ন হয়, যা আপনার একাকী জীবনে কিছুটা হলেও উষ্ণতা দেবে।
৩. ক্যান্ডেল লাইট ডিনার স্টাইল: পায়ের কাছে নিরাপদ দূরত্বে একটি বা দুটি মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখতে পারেন। এটি কেবল আপনার পা গরম রাখবে না, বরং আপনার একাকী রুমে একটি রোমান্টিক আবহ তৈরি করবে যা দেখে আপনার নিজেরই প্রেমে পড়তে ইচ্ছে করবে।
৪. তিন স্তরের মোজা বিলাস: সঙ্গীহীন জীবনে পায়ের যত্ন নিজেকেই নিতে হয়, তাই একটার ওপর একটা করে অন্তত তিন জোড়া মোটা উলের মোজা পরুন। এতে পা এতটাই মোটা হয়ে যাবে যে বিছানায় নড়াচড়া করা কঠিন হলেও ঠান্ডা আপনার পায়ের ধারেকাছে ঘেঁষতে পারবে না।
৫. হট ওয়াটার ব্যাগই এখন জীবনসঙ্গী: বাজারে পাওয়া রঙিন হট ওয়াটার ব্যাগ কিনে তাতে গরম পানি ভরে পায়ের নিচে রাখুন। মনে মনে কল্পনা করুন এটিই আপনার পরম বন্ধু, যে অন্তত এই কনকনে শীতে আপনাকে ছেড়ে যাবে না।
৬. কল্পনার আগুনে পা সেঁকা: যদি ওপরের কিছুই না থাকে, তবে চোখ বন্ধ করে ভাবুন আপনি কোনো এক সৈকতে তপ্ত বালুর ওপর দিয়ে হাঁটছেন। মনের জোর আর কল্পনাশক্তি ব্যবহার করে মস্তিষ্ককে বোঝান যে আপনার পা আসলে খুব গরম আছে।
৭. লেপের ভেতরে ড্রিল প্র্যাকটিস: লেপের ভেতরে পা দুটো স্থির না রেখে অনবরত সাইকেল চালানোর মতো করে নাড়াতে থাকুন। শারীরিক পরিশ্রমের ফলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়বে এবং আপনার পা দ্রুত গরম হয়ে উঠবে।
৮. মরিচ বাটার মালিশ: যদি ঠান্ডার প্রকোপ খুব বেশি হয়, তবে পায়ে সামান্য সরিষার তেল বা ঝাল মরিচের নির্যাস মাখতে পারেন (সতর্কতার সাথে)। এই প্রাকৃতিক জ্বালাপোড়া আপনার ঠান্ডার অনুভূতিকে নিমিষেই ভুলিয়ে দেবে।
৯. বন্ধুর থেকে ধার করা উষ্ণতা: যদি আপনার কোনো বিবাহিত বন্ধু থাকে, তবে তার সুখের গল্প শুনে নিজের মনে ক্ষোভের আগুন জ্বালান। সেই আগুনেই আপনার সারা শরীরসহ পা গরম হয়ে যাবে, বাড়তি কোনো হিটারের প্রয়োজন হবে না।
১০. রান্নাঘরের চুলাই ভরসা: সবশেষে যখন কোনো কিছুতেই কাজ হবে না, তখন গুটিগুটি পায়ে রান্নাঘরে চলে যান। চুলা জ্বালিয়ে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে পা সেঁকুন; অবিবাহিত জীবনে এর চেয়ে কার্যকরী এবং সস্তা কোনো উপায় আর নেই।

