বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না যাওয়ার ১০টি মহা উপকার

২২৩ পঠিত ... ১৮:২৮, জানুয়ারি ১৯, ২০২৬

আমাদের ক্রিকেট টিম বিশ্বকাপ খেলতে গেলে আমরা যতটা না আনন্দ পাই, তার চেয়ে বেশি পাই টেনশন আর দীর্ঘশ্বাস। তাই দেশের মানুষের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবে বাংলাদেশ দল যদি এবার বিশ্বকাপ খেলতে না যায়, তবে জাতির কী কী অপার্থিব উপকার হবে, তা নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের বিশেষ আয়োজন।

 

১। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি হ্রাস: সমর্থকদের আর ম্যাচের শেষ কয়েক ওভারে টেনশনে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে থাকতে হবে না। দেশের কার্ডিওলজিস্টদের কাজের চাপ কমবে এবং বেঁচে যাবে হাজার হাজার অমূল্য প্রাণ।

 

২। গণিতবিদদের অবসর: দেশের তুখোড় গণিতবিদদের মূল্যবান সময় বেঁচে যাবে। প্রতিটি ম্যাচের শেষে ক্যালকুলেটর নিয়ে বসে 'যদি নেদারল্যান্ডস ভারতকে হারায় আর বৃষ্টিতে পাকিস্তান ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়...' এমন অবাস্তব সমীকরণ আর মেলাতে হবে না।

 

৩। টিভি মেকানিকদের মন্দা, গৃহস্থের লাভ: রাগের মাথায় টিভি ভাঙার মহোৎসব বন্ধ হবে। দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর টিভি কেনার বাজেট বেঁচে যাবে। তবে টিভি মেকানিকরা বেকার হয়ে বিসিএস কোচিংয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে।

 

৪। জিপিএ-৫ এর হার বৃদ্ধি: বিশ্বকাপ মানেই রাত জেগে খেলা দেখা। বাংলাদেশ না থাকলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মন দেবে। ফলে বোর্ড পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এর বন্যা বয়ে যাবে, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক বিরাট অর্জন!

 

৫। অফিস-আদালতে প্রোডাক্টিভিটি: অফিসের কম্পিউটারে এক কোনায় লাইভ স্কোর ট্যাব খুলে রাখার প্রবণতা কমবে। বস এবং কর্মচারী উভয়েই কাজে মন দেবেন। দেশের জিডিপি হুট করে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে।

 

৬। ফেসবুক থিঙ্ক-ট্যাঙ্কদের বিশ্রাম: ফেসবুকে থাকা লাখ লাখ ডিজিটাল কোচ এবং সিলেক্টরদের আঙুল বিশ্রাম পাবে। কার বদলে কাকে নেওয়া উচিত ছিল, আর কার ব্যাটিং স্ট্যান্স কেন খারাপ, এই নিয়ে হাজার শব্দের স্ট্যাটাস লিখে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ খরচ হবে না।

 

৭। কি-বোর্ড ফাইটারদের শান্তি চুক্তি: অন্য দেশের সমর্থকদের সাথে কমেন্ট বক্সে যে ডিজিটাল যুদ্ধ হয়, তা বন্ধ থাকবে। ভার্চুয়াল জগতে এক অদ্ভুত শান্তি বিরাজ করবে। পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানে রাজনীতির আলোচনা আবার তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।

 

৮। বিসিবির তদন্ত কমিটির ছুটি: বিশ্বকাপ থেকে ফেরার পর ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে কোনো উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে না। সেই কমিটির চা-বিস্কুটের টাকা দিয়ে অন্য কোনো লাভজনক প্রজেক্ট (যেমন: স্টেডিয়ামে নতুন ঘাস লাগানো) করা যাবে।

 

৯। বিজ্ঞাপন কর্মীদের একটু অবসর: ক্রিকেট মানেই বিজ্ঞাপন কর্মীদের দফারফা সারা! মোমেন্টে মোমেন্টে পোস্ট, ক্লায়েন্টের ফিডব্যাক, সব মিলিয়ে থাকে না সামান্য অবসর। বাংলাদেশ খেলতে না গেলে বিজ্ঞাপন কর্মীরা বেঁচে যাবে এই রিয়েল টাইপ মার্কেটিং-এর যন্ত্রণা থেকে।

 

১০। শেখার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবে ক্রিকেটাররা: প্রতিটি টুর্নামেন্ট মানেই ক্রিকেটারদের এক একটি শিক্ষা সফর। আর সেই শিক্ষা সফরের প্রতিটি হার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার প্যারা। খেলা না থাকলে এই যন্ত্রণাও আর থাকবে না। পড়ালেখা করতে হবে না ক্রিকেটারদের।

২২৩ পঠিত ... ১৮:২৮, জানুয়ারি ১৯, ২০২৬

Top