যেভাবে আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হলো (দ্বিতীয় পর্ব)

৭২ পঠিত ... ১৬:২৭, জানুয়ারি ২৪, ২০২৬

লেখা: আফসানা বেগম 

১৯৯৫ সালের আইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রকে যে কাজের পরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে তা বিপুল, ব্যাপক। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের, প্রকাশক-লেখকদের এবং সাধারণ মানুষের গ্রন্থকেন্দ্র সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি হলো গ্রন্থকেন্দ্র বই কেনে। মন্ত্রণালয় ভাবে বছরে বই কেনার আর বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়াই গ্রন্থকেন্দ্রের একমাত্র কাজ। বেশিরভাগ লেখক-প্রকাশকেরা ভাবেন একটি অফিস যেখানে তাকে পুশ সেল করতে হবে। আমি সন্দিহান তাদের আমি ‘লেখক’ বা ‘প্রকাশক’ বলব কিনা। যারা দিনের পর দিন আমার টেবিলের সামনে নিজেদের বইয়ের মোটামুটি একশ কপি সরকারের কাছে বিক্রি করার জন্য অনুরোধ করে গেছে, অসম্পাদিত, অবান্তর বই উপহার দিতে দিতে আমাকে ভারাক্রান্ত করেছে, তাদের জন্য আমি কতটা করুণা বোধ করেছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। আমি সঙ্গে সঙ্গে বইগুলো চোখের সামনে থেকে সরিয়ে ফেলতাম যেন বই নির্বাচনের মিটিংয়ের সময়ে চিনতে না পারি। এনারা কি লেখক? লিখলেই লেখক হয় না, আত্মসম্মানবোধ থাকতে হয়। এতই যদি বিক্রির ইচ্ছা, তাহলে ঘরে ঘরে সাবান-শ্যাম্পু বিপণন করেন না কেন তারা?

আর প্রকাশকের দল আছে, গত এক বছরে কী বই প্রকাশ করেছেন জানতে চাইলে কোনো উত্তর দিতে পারবেন না। কিন্তু দলবাজি গলাবাজি করে চলছেন। কার বই কিনতে হবে, কী বই কিনতে হবে, দিনরাত উপদেশ দিয়ে যাচ্ছেন। একজনের চেয়ে আরেকজনের কেনার তালিকায় একটি বই কম পড়লে গ্রন্থকেন্দ্রে ছুটে আসছেন। এটা বই বিক্রির প্রয়োজনের চেয়েও অনেক বেশি আধিপত্যের সংকট। সরকারি প্রতিষ্ঠান তার বই একটা-দুটো কম কিনলে বাজারে তার নেতৃত্ব থাকে না, গলাবাজি কমিয়ে ফেলতে হয়। ভারতীয় বইকে ফটোকপি করে প্রকাশ করছেন, চিরায়ত বলে নিম্নমানের মুদ্রণ করছেন, একই বই ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশনার নামে প্রকাশ করে গ্রন্থকেন্দ্রে বিক্রির উদ্দেশ্যে ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটালগ জমা দিচ্ছেন, কিন্তু প্রকাশ্য-চাতুরিতেও গলাবাজি থামাচ্ছেন না। এইটুকু দেশে প্রকাশনা শিল্পের বেহাল দশার মধ্যে সাড়ে পাঁচশ প্রকাশক কী করে গজায় তার বিস্তারিত ডিসপ্লে দেখলাম গ্রন্থকেন্দ্রে গিয়ে। আগাগোড়া ফটোকপি বই, প্রকাশনা করতে একটি টাকা বিনিয়োগ নেই, কিন্তু তার বই গ্রন্থকেন্দ্রকে কিনতেই হবে। মুখে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধ ফেনা, আর হাতে চুরি করা ভারতীয় বই।

অনুবাদের অবস্থা সবচেয়ে আশঙ্কাজনক। ধরা যাক, অ্যানা ফ্রাঙ্কের ডায়রি। বাজার থেকে যদি দশটা কেনা হয়, পৃষ্ঠা ওলটালে দেখা যাবে দশটাই একই অনুবাদ। প্রথমে একটা ভূমিকা আছে, একই ভূমিকার পরে হয় আফজাল হোসেন, নাহলে ফারুক হোসেন লেখা। দুই প্যারা পড়লেই দেখা যাবে, বসার ঘরকে বৈঠকখানা, পানিকে জল লেখা হয়েছে। খানিক পরে বোঝা যাবে সবগুলো একটাই অনুবাদ যেটা হয়ত আশির দশকে পড়েছি। অন্যদিকে গত মাসে যে বই ইউরোপে-আমেরিকায়-ভারতে বেস্ট সেলার হচ্ছে, সেই বই অনুবাদ হয়ে চলে এসেছে। আবোল তাবোল ভাষার এআই দিয়ে করা অনুবাদ, কিন্তু সেসব বই কিনতে হবে, সাহিত্যের বদলে গাট্টি গাট্টি মোটিভেশনাল বই কিনতে হবে। তাহলে গ্রন্থকেন্দ্র চিরায়ত ও বর্তমানের উল্লেখযেগ্য সাহিত্য কখন কিনবে? সারা দেশের কার্যকর লাইব্রেরিগুলোতে যে বই অবশ্যই থাকতে হবে, সেগুলো কখন আর কোন টাকা দিয়ে কিনবে? আমি নিজে দিনাজপুরে বাড়ির পাশের হেমায়েত আলী লাইব্রেরিতে যে পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যগুলো পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম, সেই বয়সি একটি কিশোরের জন্য কি সুযোগ থাকতেও সেই পরিস্থিতি আমি তৈরি করতে পারব না? আমাকে কেবল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার জন্য বস্তাপচা বই পাঠাতে হবে লাইব্রেরিতে?

এটা আরেক সংকট, প্রকাশকদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ও গণগ্রন্থাগারের দায়িত্ব হলো প্রকাশনা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা। কীভাবে? বই কিনে। বই নির্বাচন নীতিমালা কেবল প্রকাশকদের সাথে যেন সাম্য হয়, সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তৈরি। আর লাইব্রেরির সাথে সাম্য? সেটা কে ভাববে? আমি যদি মনে করি ৮০০ লাইব্রেরিতে এক কপি করে প্লেটোর রিপাবলিক পাঠাব, তাহলে একজন প্রকাশকের কাছে যে সংখ্যক বই কিনতে হবে, সেটা জানলে প্রকাশকরা জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে আগুন লাগিয়ে দেবে।

তারা আমার কাছে আসতেন। কখনো বই সম্পাদনা, পাণ্ডুলিপির বিষয়বস্তু কেমন হওয়া উচিত, এখন কী বই প্রকাশ করছেন, এসব বিষয়ে কথা বলতেন না। তারা কেবল একটিই কথা বলতেন, তাদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানকে বই কিনতে হবে। বছরে মাত্র দুই কোটির সামান্য বেশি টাকা দিয়ে বই কেনা হয়, এই তথ্যও তাদের কাছে ছিল না। তারা মুখে মুখে বলতেন অমুকে কোটি কোটি টাকার বই জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে বিক্রি করেছে। তারা আমার সামনে বসে বলতেন বিগত বছরগুলোতে কী পরিমাণ বঞ্চিত, অবহেলিত ছিলেন। কিন্তু বাপুস (বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি) থেকে বছর বছর বের হওয়া বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রচুর পরিমাণ বই প্রকাশকারী গর্বিত প্রকাশকদের তালিকায় বইয়ের তালিকাসহ তাদের নাম জ্বল জ্বল করতে দেখেছি। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের কোটায় কেনা বইয়েও তাদের কারো কারো বই কেনার প্রমাণ আমার ড্রয়ারে থাকত। তবে এ নিয়ে তাদের সঙ্গে কখনো কথা বলিনি। তাদেরকে আমি ব্যবসায়ী হিসেবে দেখতাম। ব্যবসায়ী সময়ের ফায়দা নেবেই। তাদের মধ্যে আমি আদর্শ খুঁজতে যেতাম না। প্রথম প্রথম আমি নীতিমালা থেকে ২০% কোটা উঠিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে তাদের সঙ্গে আলাপ করেছি। ভেবেছি তারাও নিশ্চয় চাইবেন কোটা উঠে কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন হোক, তাহলে একচেটিয়া কারো বই বেশি আসতে পারবে না। কিন্তু অবাক হয়ে লক্ষ করেছি তারা প্রায় প্রত্যেকে কোটার দিকে তাকিয়ে আছেন, নিজের একটা বই কোটায় ঢোকাতে পারলে বর্তে যাবেন।

এটা ছিল একটা চক্র। আওয়ামী লীগ সরকার বেশি আগ্রাসী হবার পরেই নীতিমালায় কোটা ঢুকিয়েছে। ওদিকে প্রকাশকরা বিপুলবিক্রমে মুজিব আর উন্নয়নের গল্প ছাপিয়েছে সেই কোটায় জায়গা করে নিতে। দুই পক্ষ মিলে একটা সমঝোতা, আর ভারটা টানবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ও গণ গ্রন্থাগার। কিন্তু অভ্যুত্থানের পরে সকলের আচরণটা কেমন হওয়া উচিত ছিল? যেখানে সাম্যের কথা বলা হচ্ছে সেখানে কীসের কোটা? কিন্তু অদ্ভুতভাবে দেখা গেল তারা আগের সিস্টেমই চান, শুধু আওয়ামী লীগের জায়গায় নিজেদের প্রতিস্থাপন করে। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে কেমন করে সম্পাদনার প্রশিক্ষণ, প্রকাশনার উন্নয়ন, কপিরাইটের প্রয়োগ, আন্তর্জাতিক বইমেলা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করা যায়, এসব নিয়ে আমি কখনো সাধারণ প্রকাশকদের কোনো আগ্রহ দেখিনি। ওদিকে গোটাবিশেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের লোকেরা জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে কখনোই আসতেন না। তারা ব্যস্ত থাকতেন প্রকাশনায়। নির্বাচনের সময়ে কমিটির সদস্যেরা সাকুল্যে তাদের বিশ-পঁচিশটি বইও কখনো প্রাথমিক তালিকায় নির্বাচন করে ফেলতেন। তবে নেওয়া হতো নীতিমালা অনুযায়ী দশটাই।

তবে সে যাই হোক, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র যে মেলা করতে গিয়ে প্রকাশকদের খোঁজে, লাইব্রেরিতে বই বিতরণ করতে গিয়ে প্রকাশকেদের বই কেনে, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মূল লক্ষ্য যে পাঠক বা পাঠক সমাজ, সেটা প্রকাশকরা কখনও বিশ্লেষণ করেননি। তারা কেবল ক্রেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠানকে বই গছাতে চেয়েছেন। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রেরও যে শিশু-কিশোর-তরুণ-বৃদ্ধ পাঠকদের উপযোগী বই যোগাড় করার একটা উদ্দেশ্য আছে সেটা নিয়ে তারা চিন্তিত নন।    

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র যেহেতু সংষ্কারের জন্য কোনো মনোযোগ পায়নি তাই আমরা নিজেই একটা সংষ্কার প্রস্তাব লিখেছিলাম। দেড়শ পাতার।  অবশ্য একসময় সচিব মহোদয় বলেছিলেন যে, মুখ্য সচিব আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিকাশের বিষয়ে আগ্রহী। আমাদের অনুরোধে তিনি সংষ্কার প্রস্তাব ও শতবর্ষী পাঠাগারের সংষ্কারেরও একটি প্রস্তাব দাঁড় করাতে বলেছিলেন। যেজন্য অল্প সময়ে সারা দেশ চষে প্রাচীন পাঠাগার পরিদর্শন করে তথ্য সংগ্রহ করেছি আমরা। এই দুই সংষ্কার প্রস্তাব দুবার প্রিন্ট করে দিয়ে এসেছি। কারণ তারিখ দেওয়ার পরে সেই তারিখে গেলে দেখা যায় সচিব মহোদয় তার টেবিলের উপরে এদিকওদিক সংষ্কার প্রস্তাবটা খুঁজছেন। খুঁজে পাচ্ছেন না, পিএসকে জিজ্ঞেস করছেন। তাই বরাবর হাতে প্রিন্ট করেই নিয়ে যেতাম। একবার বোর্ড মিটিংয়ের পরে রিডিং পড়ে শুনিয়ে সচিব মহোদয়ের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছি আমি। উনি শুনছেন কি শুনছেন না বোঝা যায় না, অবহেলাভরে জয়েন্ট সেক্রেটারি শাখাপ্রধানকে বলেন,  ‘এগুলো থেকে মূল বিষয়টা বের করে আনো তো।’ উনি যখনই একটা তারিখ দিতেন, সেই তারিখে গিয়ে আবারো একই অনুরোধ করতাম আমি, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সংষ্কার নিয়ে বসুন অনুগ্রহ করে। উনি আবারো তারিখ দিতেন। শেষ তারিখ দিয়েছিলেন গত ১৫ জানুয়ারি। সেদিন সংষ্কার প্রস্তাবের কথা বলতেই উনি আমাকে জানালেন যে, ‘হয়েছে কী, উপদেষ্টা মহোদয়ের সঙ্গে আপনার কিন্তু একটা গ্যাপ আছে।’ আমি বললাম, ‘সেটা আমার জানা নেই, তিনি বলতে পারবেন।’ উনি বললেন আমি পাঠাগারের অনুদানের ফান্ডের কোটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি সেটা তার ভালো লাগেনি। (ওই কোটায় গত কয়েক বছর যেসব চাটুকারিতাসমৃদ্ধ ও অপাঠ্য বা অযোগ্য বই কেনা হয়েছিল তা ফেলে দেওয়ার কোনো রাস্তা আমরা পাইনি। ছোটো অফিসে উপরের তলাগুলোয় মাথার উপরে বোঝার মতো হয়ে আছে বিশাল তৈলাক্ত বইয়ের ভার।)

নীতিমালা পরিবর্তনের বিষয়টি মন্ত্রণালয় যে দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতেন, তা হলো, মন্ত্রণালয়ের ফান্ডের উপরে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র কর্তৃত্ব করছে। নীতিমালার রেজ্যুলেশনেও লিখেছেন ঠিক সেইভাবে, মন্ত্রণালয়ের কমিটির জায়গায় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উল্লেখ। বিষয়টি আগে উল্লেখ করেছিলাম, শেষবারে সময় স্বল্পতায় নোট অফ ডিসেন্ট দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। এতেও সচিব সাহেব আমার উপরে নাখেশ তা জানালেন। পরে কারেকশন করে পাঠালে সরাসরি সম্মতি দিয়েছি। এসব প্রসঙ্গ শেষ হলে মনে করিয়ে দিলেন, তাজউদ্দীনের জন্মবার্ষিকী পালন করার জন্যেও তিনি আমার উপরে নাখোশ। মনে আছে জন্মদিন পালনের পরের দিন সচিব সাহেব আমাকে ডেকেছিলেন। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের কার্যাবলী উনার সামনে খোলা ছিল। উনি উচ্চারণ করে পড়ছিলেন। আমি ব্যাখ্যা করেছিলাম মন্ত্রণালয় যখন মঈদুল হাসানকে একুশে পদক দিয়েছিল, যিনি তাজউদ্দীনকে নিয়ে লিখতে ও বলতেই পছন্দ করেন, তার সঙ্গে আমার দেখা হয়। তিনি প্রস্তাব দেওয়াতে আমারও মনে হয়েছিল শিক্ষার্থীদের তাজউদ্দীনের কথা জানানো উচিত। আওয়ামী লীগ শেখ মুজিবকে কাল্ট বানানোর নেশায় তাজউদ্দীনকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল, কিন্তু দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বা যুদ্ধকালীন উপস্থিত নায়কের কথা শিক্ষার্থীদের জানার অধিকার আছে বলে আমি মনে করেছিলাম। পাঠ কার্যক্রমের সময়ে দেখি সারা দেশের কলেজের শিক্ষার্থীরাও তাজউদ্দীনকে চেনে না। মঈদুল হাসান সেই অনুষ্ঠানে দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধ থেকে পচাত্তর অবধি দুঃশাসশনের কথা বলে যান। মনে আছে অনুষ্ঠানের পরের দিন এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাকে জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ে ডাকা হয়েছিল। কেন খবর দিইনি। আমি চিঠি দেখিয়েছি। ফেসবুকে প্রচার করেছি, সেটাও দেখিয়েছি। অনুষ্ঠানের বিষয়ে লেখক মঈদুল হাসানের কথা বলাতে তিনি হেসে বিষয়টা ঘুরিয়ে অন্যদিকে নিয়ে গেলেন। বললেন, ‘জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রকে তো সরকার অনেক কাজ দিয়েছে দেখি!’         

১৫ তারিখে কথার মাঝখানে সচিব সাহেব হুট করে বলেছিলেন, ‘চাকরির মেয়াদ শেষ হলে কি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যেতে পারবেন?’ আমি বলেছিলাম, ‘ছেড়ে দিয়ে এসেছি।’ উনি বললেন, ‘সে কী, ছেড়ে কেউ দেয়, ছুটি নিয়ে আসতেন।’ আমি বললাম, ‘ওখানে ছুটির কোনো নিয়ম নেই।’ তিনি বললেন, ‘তাহলে আসলেন কেন?’ আমি উত্তর দিলাম, ‘কাজ করতে।’ তিনি মুচকি হেসে বললেন, ‘আপনি তো খুব ইমোশনাল!’ আমি বিরক্ত বোধ করেছি, চুক্তি শেষ হলে আমি চাকরি করব নাকি না-খেয়ে থাকব সেটা আমার ব্যাপার। উনি কেন অপ্রাসঙ্গিকভাবে আমাকে এসব জিজ্ঞেস করবেন? উনার সঙ্গে আমার কেমন ব্যাক্তিগত কোনো যোগাযোগও তো নেই! তবে এখন মনে হয়, এই কথাগুলো উনি বলছিলেন আমার অব্যহতি ও আরেকজনের যোগদানের ছকটি তখন কাটা হয়ে গেছিল বলে। উনার কি আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা হচ্ছিল? এই ভেবে এখন খানিক হাসিই পায়। যা হোক, তখন মনে হয়েছিল আমার উপরে আগের রাগ-টাগ উনাদের যায়নি। মতের অমিল থাকতেই পারে কিন্তু কথা বলতে আমার কোনো দুঃখ-লজ্জা বোধ হয়নি, কারণ আমি ব্যক্তিগত কোনো লাভালাভের জন্য উনার কাছে যাই না। আমি যাই প্রতিষ্ঠানের ভালোর জন্য, যেটা আমার দায়িত্ব। তাই সেকথা বাদ দিয়ে আমি আবারো সংষ্কারের কথা তুললাম, উনার কাছে সময় চাইলাম। বললাম, ‘আমি দুঃখিত, কিন্তু আমি তো প্রতিষ্ঠান নিয়ে কথা বলতে এসেছি, যে প্রতিষ্ঠান সংষ্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের, এর ভালো হলে মন্ত্রনালয়ের ভালো হবে।’ উনি বললেন, ‘আচ্ছা ২০ তারিখের পরে আসেন।’ তারপর ২০ তারিখে রাতের অন্ধকারে আমার অব্যাহতির খবর এল।

(চলবে)

 

তৃতীয় পর্বের লিংক

প্রথম পর্বের লিংক

 

৭২ পঠিত ... ১৬:২৭, জানুয়ারি ২৪, ২০২৬

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top