ক্যালেন্ডার থেকে জানুয়ারি মাস বয়কট চায় চাকরিজীবী সমাজ

পঠিত ... ১ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে

29 (20)

জানুয়ারি মাস কি আসলে ৩১ দিনের, নাকি ৩১ বছরের? এই মহাজাগতিক রহস্যের কিনারা করতে না পেরে অবশেষে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে 'বাংলাদেশ অলস ও রিক্তহস্ত চাকরিজীবী ফেডারেশন'। তাদের দাবি পরিষ্কার, হয় জানুয়ারি মাসকে ক্যালেন্ডার থেকে চিরতরে মুছে ফেলতে হবে, না হয় ১৫ তারিখের পর সরাসরি ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দিতে হবে।

কেন এই ক্ষোভ?

আন্দোলনকারীদের দাবি, ডিসেম্বর মাস ৩১ দিনের হওয়ায় তারা এমনিতেই 'ক্লান্ত'। সেই ক্লান্তির রেশ কাটতে না কাটতেই আবার আরেকটি ৩১ দিনের মাস হুট করে জীবনে চলে আসাটা তারা মেনে নিতে পারছেন না।

সংগঠনের সভাপতি (যিনি গত ১০ দিন ধরে মানিব্যাগে শুধু একটা ছেঁড়া ১০ টাকার নোট আর বাসের টিকিট নিয়ে ঘুরছেন) বলেন, ভাইরে, ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ থার্টি ফার্স্ট নাইট পালন করতে গিয়ে পকেটে যে ফুটো হয়েছিল, সেই ফুটো এখন ব্ল্যাকহোল হয়ে গেছে। জানুয়ারি মাস শেষ হওয়ার নাম নেই। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টাই, কিন্তু তারিখ আর নড়ে না। এই কুলাঙ্গার জানুয়ারি আমরা চাই না। 

আন্দোলনকারীদের একজন 'যুক্তি' দিয়ে বলেন, আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব এখানে হাতে-কলমে প্রমাণিত। পকেটে টাকা থাকলে মাস দ্রুত চলে যায়, কিন্তু পকেট খালি থাকলে সময় থমকে দাঁড়ায়। আমাদের জন্য এখন প্রতিটা সেকেন্ড এক একটা ঘণ্টার সমান। এই জানুয়ারিতে সূর্য ওঠে ঠিকই, কিন্তু সে সূর্য আর ডুবে না। ১ তারিখ আসে ঠিকই কিন্তু ৩১ তারিখ আর আসে না। 

সরকারের প্রতি আহ্বান
চাকরিজীবী সমাজের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীর কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন লিপ-ইয়ারের মতো প্রতি বছর জানুয়ারি মাসকে ৪ দিন কমিয়ে ২৭ দিনে নামিয়ে আনা হয়। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বাজারে 'বিনিময় প্রথা' চালু করা হোক, অর্থাৎ ঘড়ির বদলে এক কেজি চাল বা স্মার্টফোনের বদলে এক মাসের মেস ভাড়া।

রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা গেছে, অনেক চাকরিজীবী এখন ক্যালেন্ডারের ৩১ তারিখের দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছেন, যেন ওটা কোনো তারিখ নয়, যেন সোনার হরিণ। 

পঠিত ... ১ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে

Top