আমরা প্রায় সকলেই জানি, বাংলাদেশের কালচারাল অঙ্গনের বেশির ভাগ বিখ্যাতরাই আওয়ামী সফট। তাদেরকে বাদ দিতে গিয়া যেমন এনসিপি ধরা খাইছে ধর্মের কোলে, তেমনই বিএনপি ধরা খাইতে যাইতেছে গুরুত্বহীন কবি-অসাহিত্যিকদের কাণ্ডজ্ঞানহীনতার দ্বারা।
যারা ন্যারেটিভ তৈরিতে অপারগ দলীয় কর্মী কিংবা বিএনপির সৈনিক মাত্র। বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব দুইজন, যাদেরকে বিশ্বের সকলে চিনে: শফিক রেহমান ও ফাহাম আবদুস সালাম। তারা ভাল।
তবে এই দুইজন আবার যত না সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হইতে চান তার চাইতে অনেক বেশি চান লাইফ স্টাইল ও মোটিভেশনাল ব্যক্তিত্ব হিসাবে নিজেদের প্রকাশ করতে। সেইটা খারাপ না, তবে তাতে সাংস্কৃতিক শূন্যতার কার্য সমাধা হয় না।
মনে রাখতে হবে, হাসিনার কাছাকাছি যারা ছিলেন সাংস্কৃতিক লোকজন, তারা আদতে হাসিনার কাছে ছিলেন না, ছিলেন ক্ষমতার কাছে। যেহেতু সংস্কৃতি ক্ষমতার কাছেই থাকতে পছন্দ করে। সম্রাট আকবরের আমলেও তাই ছিল। নাইলে সেই সংস্কৃতি টিকতে পারে না। পুরাতন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের তাই গ্রহণ করা দরকার ক্ষমতায় আপনারা যাবেন বইলাই। যেমন প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারকে গ্রহণ করছেন। এবং এইটা একটা গুড ডিসিশন।
আপনাদের প্রচারযন্ত্রের একটা অংশ হবে পুরাতন এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরাই। যেহেতু নতুনরা তাদেরই ধারাবাহিকতা। নচেৎ, জাইনেন, ঐতিহ্যরে রাজনীতি দিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে ফ্যাসিবাদের জাগরণ ঘটে। যেমনটা ঘটছিল শেখ হাসিনার আমলে। এর বদলে নতুন কইরা বিএনপি পন্থী লোকজন দিয়া সাংস্কৃতিক বিকল্প তৈরির চিন্তা আত্মঘাতি। কালচার নিয়া ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হয় না।
বিরোধী মতাদর্শরে নিজের কইরা নেওয়াটাই বরং শক্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষণ।
আপনারা নতুন কইরা যেমন বড় ব্যবসায়ী তৈরি করতে পারবেন না, তেমনই নতুন কইরা গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বও তৈরি করতে পারবেন না। আবার বিএনপি তো এমন প্রতিষ্ঠানও না যে ইসলামি সংস্কৃতি দিয়া দল ভরাইয়া তুলবেন। সেইটা জামায়াত এবং বোধকরি এনসিপির গন্তব্য।
কাজেই কালচারাল ফ্যাসিবাদ নিয়া গলাবাজি যারা করে তাদের দিয়া বিভ্রান্ত হইয়েন না।
কালচার এমনিতেই সংকীর্ণতার একটা ক্ষেত্র। সেইটারে দলীয় করণ কইরা আরো সংকীর্ণ কইরা তুলবেন না যেন!



পাঠকের মন্তব্য