লেখা: অন্বয় আকিব
২০১২ সালে দিল্লিতে নির্ভয়া নামে এক কলেজছাত্রীকে কয়েকটা অমানুষ চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে, প্রচণ্ড মারধর করে বাস থেকে ফেলে দেয়। ১৩ দিন পর হতভাগ্য মেয়েটি মারা যায়।
এই ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর সবাই শিউরে উঠেছিল, ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। জনরোষ এতটাই প্রচণ্ড ছিল যে সরকার ধর্ষণ সংক্রান্ত নতুন আইন প্রণয়ন করতে বাধ্য হয়। দোষীদের ফাঁসি দেয়া হয়েছিল।
চলে আসি বাংলাদেশে। দুইদিন আগে রাতে এক ছাত্রী রেডিও কলোনি থেকে আশুলিয়ায় উদ্দেশে সাভার পরিবহনে উঠেছিল। সাভারে থাকায় এই বাসে আমরাও প্রায়ই যাওয়া আসা করি।
বাসের যাত্রীরা যে যার গন্তব্য নেমে যাওয়ার পর মেয়েটাকে আটকে রেখে সোনাদানা, মোবাইল, টাকা কেড়ে তো নেয়ই, সারারাত বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরেফিরে গণধর্ষণ করে। এমনকি ভিডিও-ও করে রাখে। পরবর্তীতে হাইওয়ে পুলিশ বাস আটক করেছে, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে।এই ঘটনা নিয়ে কোথাও উচ্চবাচ্য নেই।
অনেকে এসে বলবে একটা মেয়ের এত রাতে বাসে যেতে হবে কেন?
একটা মেয়ে রাতে কেন বাসে চড়তে পারবে না? সে একা বাসে চড়লেই তাকে ধর্ষণ করা যাবে?
এই ঘটনার বিচার হওয়া জরুরি। এই ঘটনা লাইম লাইটে আসা জরুরি। আইনের প্রয়োগ ঠিকঠাক হওয়ার জন্য আন্দোলন হওয়া জরুরি। প্রতিবার এমন দু-একটি ঘটনা ঘটে, কিছু কথাবার্তা হয়, সরকার আলু পড়া দিয়ে বুঝ দিয়ে সব থামায়ে দেয়। পরবর্তীতে আবারও একই কেস।
এই যে ভুইফোঁড় সব বাস কোম্পানি চাইলাম আর খুলে ফেললাম, যাকে ইচ্ছে ড্রাইভার হেল্পার বানিয়ে দিলাম, এসব দেখার দায়িত্ব কার?
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেপরোয়া শ্রেণির মানুষদের একদল হচ্ছে এসব ড্রাইভার আর হেল্পারেরা। রাফ ড্রাইভিং করে কত মানুষ মারে, বিচার হয় এদের? বিচার হয় না জন্যেই এরা যা ইচ্ছে করার সাহস পায়।
মহানগর সিরিজে মোশাররফ করিম বলেছিল এদেশের সিস্টেমের কোনায় কোনায় ভূত। এদেশের সিস্টেমের কোনায় ভূত না, সিস্টেমটাই ভূতদের। কিছু মানুষ ভুল করে এখানে বসবাস করে...



পাঠকের মন্তব্য