লং স্টোরি শর্ট। ল্যাতিন আমেরিকাকে বলা হয় আমেরিকার 'পেছনের উঠান'। 'কর্তা' যা 'ভালো মনে করবেন', সেভাবেই উঠান চলবে। নাহলে কি কর্তা মারবেন? না না, তা কেন? কিন্তু নিজের ভালোটা কি তুমি বুঝবে না? তাই আরকি...
এই উঠানেরই এক বেদ্দপ দেশ ভেনিজুয়েলা। একসময় তো ভালোই ছিল। পুরোই তেলতেলে দেশ। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ক্রুড অয়েলের মজুদ তাদের হাতে। মার্কিনপন্থী এলিটরা মনের ফূর্তিতে তেলের বাণিজ্য করত। উঠানে কর্তা যা বার্তা পাঠাতো, সেভাবেই।
তাদের ঘাড়টা ত্যাড়া হলো মূলত হুগো শ্যাভেজের আমলে। কী সাহস! উঠানের একটা সমাজতান্ত্রিক দেশ স্বাধীনভাবে চলতে চায়! লাগাও স্যাংশন! তেল বিক্রির ওপর, এটার ওপর, সেটার ওপর!
ভেনেজুয়েলাও কম কী! বেচো তেল চিপায়-চাপায়। ছদ্মনামে। আলু বেচো, ছোলা বেচো, বেচো তেলের খনি। আর ডিসকাউন্টে দেয় দেখে তাদের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হয়ে গেল চায়না!
কাজেই, 'গণতন্ত্র' আনতে হবে ভেনেজুয়েলায়। গতকাল প্রেসিডেন্ট মাদুরো আর তার স্ত্রীকে তুলে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন নৌজাহাজে করে তাদের নেওয়া হয়েছে নিউ ইয়র্কে। খোদ ট্রাম্প এই ছবি তার এক্স হ্যান্ডেলে দিয়েছেন। 'আধুনিক' বিশ্ব একটা দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে তুলে আনার এমন কারবার বাপের জন্মেও দেখেনি!
বলা হয়ে থাকে, ইরাকে সাদ্দাম হোসেনকেও এইভাবে তুলে আনলে ব্যাপক খরচ আর ধ্বংসের দায় থেকে আমেরিকা মুক্তি পেত। এই 'ভুল' তারা এবার করেনি। কিন্তু আরও বড় ভুল হলো কিনা, সময়ই বলবে। কে জানে, চায়না-রাশিয়া আবার আলু পোড়া খেতে অস্ত্র বেচতে শুরু করে কিনা!
এইসব ছোটো ছোটো বিবাদই কিন্তু বিশ্বযুদ্ধের বারুদ যোগায় দারুনভাবে।
ভালো কথা, মাদুরোকে নিউ ইয়র্কে এনে কি মামদানীর জন্যও হালকা একটু বার্তা রাখা হলো? দেখে রাখো বাবুসোনা, দেখে রাখো একটু!



পাঠকের মন্তব্য