ট্রাকে উঠেন ভাই, ট্রাকে উঠেন!

৩১২ পঠিত ... ১৫:১০, জানুয়ারি ০৩, ২০২৬

বয়স যখন কম ছিল, তখন ফেসবুকে একটা ফানি পোস্ট ঘুরে বেড়াতে দেখতাম। একদল কমবয়সী টিকটকার ছেলেপিলের প্ল্যান। ঈদ বা পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে তারা একটা ট্রাক ভাড়া করে ঘুরে বেড়াবে, জনপ্রতি খরচ ৫০০ টাকা। দুপুরের খাবার শেষে ট্রাকে উঠবে সবাই, রাত ১০টা পর্যন্ত ঘুরবে।

ট্রাকে বড় বড় সাইজের সাউন্ডবক্স ও মাইক থাকবে এবং টিকটক নৃত্য চলবে। ইতোমধ্যে নাকি ডিজে বাহারুলকে কনফার্ম করা হয়েছে। যারা টাকা দিবে, তাদের সবাইকে একটা সাদা লুঙ্গী ও লাল গামছা দেওয়া হবে। তাদের সকল অ্যাডমিন ও মডারেটর চুল লাল করবে। মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে অন্য যে কেউ চুল লাল করতে পারবে।

এই প্ল্যানের স্ট্যাটাস দেখে এক জীবনে অসংখ্যবার বিনোদন পেয়েছি, হাসতে হাসতে কুটিকুটি হয়েছি। সমস্যা হলো, ইদানিং আর লেখাটা দেখে হাসি আসছে না। এইসব কাজ করার জন্য আগে যাদের দিকে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তাকাতাম, এখন আর তাদের দিকে সেই দৃষ্টিতে তাকাতেও পারি না।

কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া যার সামনেই আমার লেখাটা পড়বে, তার জন্য বরং আমার পরামর্শ থাকবে, এরকম একটা প্ল্যানের অংশ হয়ে যান ভাই। সময় থাকতে থাকতেই কোনো একটা উৎসব উপলক্ষে ৫০০ টাকা চাঁদা দিয়ে একটা ট্রাকের পিছনে উঠে যান, রাত দশটা পর্যন্ত ঘোরেন।

ডিজে বাহারুলকে কনফার্ম করেন। সাদা লুঙ্গী আর লাল গামছা পরে চুলটা লাল করে ফেলেন। ট্রাকে বড় বড় সাউন্ডবক্স বাজিয়ে আপনার লাল চুল ঝাঁকিয়ে টিকটকে নৃত্য করেন। বন্ধুদের সাথে নাচতে গিয়ে আর্মির দাবড়ানি খান, ধরা পড়েন, লাঠির বাড়ি খান।

কেন?

কারণ, কয়েকবছর পরে কোনো এক উৎসবের সময় আপনি রাত এগারোটায় একটা কর্পোরেট অফিস থেকে বের হবেন। আকাশ ভর্তি আতশবাজির রঙের খেলা দেখতে দেখতে ঠোঁটের কোণে একটা অ্যাডভান্স ঝুলিয়ে হুট করে আপনি আবিষ্কার করবেন, আপনার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নাই। আপনার বন্ধুবান্ধব আপনার মতই যার যার ক্যারিয়ার নিয়ে আটকা।

আপনার ডাক্তার বন্ধুটা মানিকগঞ্জ গিয়ে রোগী দেখছে। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া বন্ধুটা আইবিএ এর সেমিস্টার ফাইনাল নিয়ে বিজি। ব্যাঙ্কার বন্ধুটা অসুস্থ মায়ের জন্য হাসপাতালে দৌড়াচ্ছে। ম্যাজিস্ট্রেট বন্ধুটা পাঞ্জাবী লাগিয়ে ডিসি স্যারের প্রটোকলে। এক পৃথিবী ভর্তি মানুষের জঙ্গলে আপনার উৎসব আনন্দ করার একটা মানুষ নাই।

ভাইরে, সময় থাকতে ৫০০ টাকা দিয়ে ট্রাকে উঠে গান বাজিয়ে লুঙ্গী গামছা পরে নাচেন। বিশ্বাস করেন,  ট্রাকে উঠে নাচা ছেলেটারও ক্যারিয়ার হবে। সেও একদিন অফিস থেকে বের হয়ে আনন্দ করার জন্য কাউকে পাবে না। কিন্তু সে অন্তত কাউকে ফোন করে বলতে পারবে, “মামা, মনে আছে এমন একটা চানরাইতে ট্রাকের উপ্রে উইঠা নাচতে গিয়া আর্মির হাতে ধরা খাইসিলাম?? ওরে মারতে পারে হালারা!! ভাগ্যিস লুঙ্গীর উপ্রে ছালা পইরা নিসিলাম!!”

জীবনে নস্টালজিয়া তৈরী করার মত গল্প থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আনন্দের বয়স পার করে ফেলার পরে বুঝবেন ব্যাপারটা। জীবন আটকে যেতে পারে, গল্প কখনো আটকায় না। এইসব গল্পের স্রোতে ভেসে ভেসেই মানুষ একটা আটকে যাওয়া জীবন কাটিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

ট্রাকে উঠেন ভাই, ট্রাকে উঠেন!

 

৩১২ পঠিত ... ১৫:১০, জানুয়ারি ০৩, ২০২৬

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top