লেখা: সৈকত দে
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি আমার এক ব্যক্তিগত ঋণ আছে৷ তাঁর জীবদ্দশায় কখনো বলিনি। তাঁর আমলেই বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই দূরশিক্ষণ পদ্ধতির প্রতিষ্ঠান না থাকলে আমি আজও মাধ্যমিক পাশই থাকতাম।
আমার কোনও ইনস্টিটিউশনাল প্রাইড নাই। কেউ কেউ দেখি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে পড়বার ফুটানি থেকে সারাজীবনেও বেরোতে পারেন না। জুনিয়রদের ক্ষণে ক্ষণে মনে পড়িয়ে দেন।
শুক্রবারের সেই ক্লাসগুলোতে আমি দেখতাম, জীবনকে জয় করা অসংখ্য মানুষকে। একজন বয়স্ক মানুষ ক্লাস করতে আসতেন, বাজারের ব্যাগ নিয়ে। আমরা চাচা ডাকতাম। তিনি, আমাদের ঐ কোর্সে প্রথম হয়েছিলেন। টাকাপয়সার কারণে জীবনের শুরুতেই মাধ্যমিকের পর পড়তে পারেন নাই।
আমি তো ছিলাম ফাঁকিবাজ। ভাবতাম, নতুন সময় নতুন সমাজ দরকার। এইসব পুরনো ধাঁচের স্কুল কলেজ ভেঙে ফেলা দরকার। অ্যাকাডেমিক বই বাদ দিয়ে আমি পড়তাম, বাংলা ভাষার ধ্রুপদী বইপত্র। যেমন—সন্দীপন পাঠশালা, যেমন—শ্রীমতি কাফে।
হুমায়ুন আজাদ লিখেছিলেন—দরিদ্র গ্রহের সবচেয়ে সুন্দরী প্রধানমন্ত্রী।
তাঁর প্রয়াণে, যদি কিন্তু বাদেই গভীর শ্রদ্ধা জানাই। নিশ্চয়ই, আগামীর বিএনপি তাঁর অনমনীয়তা থেকে শিক্ষা নেবে।
জুলাইয়ের সুফল, তাঁদের দিক থেকে, যদি কিছু ঘটে, এইটি তিনি দেখে যেতে পারলেন না, এইটেই দুঃখের বিষয়।
জীবনে প্রথম আমি সদ্য প্রয়াত মানুষটিকে নিয়ে কিছু লিখলাম।



পাঠকের মন্তব্য