মিডিয়ায় এনসিপি পদযাত্রা ব্ল্যাকআউট

৩০১ পঠিত ... ১৭:৫১, জুলাই ০৭, ২০২৫

গত পয়লা বৈশাখে এনসিপির অনুষ্ঠানে দর্শক কম হয়েছিল; এই খবরটা প্রত্যেকটি মিডিয়া গুরুত্বের সঙ্গে ছেপেছিল; প্রেস ফটোগ্রাফার খুঁজে নিয়েছিলো সেই এঙ্গেল; যেখান থেকে ছবি তুললে দর্শক সবচেয়ে কম দেখাবে।

এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় লাখো মানুষের ঢল নেমেছে; রঙ দে বাসন্তি চলচ্চিত্রের বাস্তব রুপায়ন ঘটেছে যেন জুলাই তরুণ তরুণীদের ট্রাকে করে উত্তরবঙ্গের জনপদ থেকে জনপদে ঘুরে ঘুরে এরপর পদযাত্রায় সহস্র জনতার হাতে হাত রেখে জীবন মিছিলে। এনসিপির পদযাত্রাগুলো জীবন্ত বাংলাদেশ যাত্রা হয়ে উঠেছে। তাদের পথসভা বিস্তীর্ণ জনসভায় রুপ নিয়েছে। জুলাই বিপ্লবের শহীদের মা জুলাই তরুণ-তরুণীর মাঝে নিজের হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরে পেয়েছেন। বাংলাদেশ আগামীর এসব চিত্রকল্প মূলধারার মিডিয়ায় অনুপস্থিত। সেখানে বরং ছিদ্রান্বেষী নর্তকদের শেষ নৃত্য; ফুরিয়ে যাওয়া নর্তকদের বাইজি নৃত্যে বাজিমাত করার ব্যর্থ চেষ্টার আলাপ।

ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে নতুন সূর্য ওঠার খবর মিডিয়ার রোমশ শরীর দিয়ে ঢেকে রেখে; পুরোনো জমিদারি ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা সেখানে। রাজনীতির পুরোনো জমিদারের ছেলে-মেয়ে-জামাই-ছেলের বউ বিলেত থেকে প্রিন্স দ্বারকানাথ হয়ে ফিরেছে; তাদের কেতাদুরস্ত ফ্যাশান প্যারেডের মধ্যে প্লাস্টিক তারুণ্যের মুখাবয়ব খুঁজছে দেশ লুন্ঠক ব্যবসায়ী ও তাদের মিডিয়াগুলো। বেগুনী মুখমন্ডল ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে চেকনাই ফুটিয়ে ঠিক যেভাবে নওফেল, আরাফাত, পলক, ব্যারিস্টার সুমন হাজির হয়েছিলো; যেভাবে তাদের সিক্স ডিজিট বুদ্ধিজীবী সুখন হাজির হয়েছিলো তরুণ প্রজন্মের মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে; ঠিক সেইভাবে নতুন নওফেল-আরাফাত-সুখন ইংলিশ ভিংলিশ বলতে বলতে গণতন্ত্র, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, আভিজাত্যের গপ্পো নিয়ে হাজির হয়েছে। একই সার্কাস; একইরকম ক্লাউনের ডিগবাজি।

আর যেসব সাংবাদিক হাসিনাকে বুবু ডেকেছিল; যেসব অধ্যাপক দলীয় আত্মীয়তাসূত্রে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হয়েছিল, যেসব সংস্কৃতি মামা ও খালা কলকাতার বুদ্ধিজীবীদের মতো জোড়াসাঁকোর পোশাকে আসর মাতিয়েছিল; তাদের মধ্যে যারা জুলাই মাসের একেবারে শেষে হাসিনার পতন অবশ্যম্ভাবী বুঝে অখণ্ড ভারতের বি টিম হিসেবে অগাস্ট ব্রিগেডে যোগ দিয়েছিল; তারা ঠিকই জুলাই বিপ্লবীদের নানারকম তকমা দিয়ে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের সংকল্পে টিভি টকশোতে তবে কিন্তুর খেয়াল গাইছে। কাঁচামাল কণ্ঠ ও কাঁচামাল বেলা তাদের বক্তব্যের চুম্বক অংশ নিয়ে ফটো কার্ড ছাপাচ্ছে।

গত জুলাইয়ে যেভাবে ছাত্রলীগের ছেলে-মেয়েরা বলেছিল, জুলাই বিপ্লবীদের নিশ্চিহ্ন করতে সাত মিনিট সময়ও লাগবে না; এই জুলাইয়ে দেখলাম পুরোনো জমিদারের কোটাল পুত্র ফেসবুকে লিখছে, জুলাই বিপ্লবীদের নিশ্চিহ্ন করতে তিরিশ মিনিটও লাগবে না। এমন দেজা-ভু কেবল বাংলাদেশ সমাজেই দেখা সম্ভব।

আওয়ামী লীগ প্রণব মুখার্জির মেটিকিউলাস ডিজাইনে হাসিনার ফ্যাসিজমের শিলান্যাস করেছিল; ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় পিলখানা হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত হয়েছে; সুজাতা সিং-এর মধ্যস্থতায় ২০১৪-র একপেশে নির্বাচন নাটক করেছে; মোদির সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক পাতিয়ে লাইলাতুল ইলেকশন করেছে; জঙ্গি বিরোধী অভিযান নাটকে ধৃত লোকেদের জিজ্ঞাসাবাদে হিন্দিতে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছে বলে ভিক্টিমেরা সাক্ষ্য দিয়েছে; এমনকি জুলাই বিপ্লবে খুনে পুলিশ হিন্দিতে গালাগাল করেছে বলে জুলাই বিপ্লবে আহত তরুণেরা জানিয়েছে। যেহেতু ক্ষমতায় যেতে ও ক্ষমতা ধরে রাখতে লীগকে ইন্ডিয়ার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা নিতে হয়েছে; ফলে বাংলাদেশের মানুষের অন্তর্গত শক্তি সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা নেই। তাই তো চোখের সামনে প্রায় ১৪০০ মানুষ হত্যা করে হাজার হাজার মানুষকে পঙ্গু করে ক্যানিবাল লীগ এখন জুলাই বিপ্লবের পেছনে এমেরিকার মদত খুঁজছে। নকল করে পাশ করা ছেলেরা যেমন মনে করে, নকল না করলে পরীক্ষা পাশ করা যায়না।

জুলাই বিপ্লবের ফলে ভারতের গোয়েন্দাদের আতিথেয়তার বিশ্রাম গৃহবন্দী থেকে ফেরা বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের কথা সংবিধানে যুক্ত করার কোন যৌক্তিকতা নেই। রাজনীতিতে আবেগের কোন স্থান নেই।

বাংলাদেশের মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের বন্দীদশা থেকে মুক্ত করে আনা জুলাই বিপ্লবীদের এখন অতীন্দ্রিয় অকৃতজ্ঞতার বিশেষণে বিশেষায়িত করছে; পুরনো বন্দোবস্তের ব্যবসায়ীর মিডিয়া, পতিত আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতা থেকে ছয় মাস দূরে থাকা পুরোনো জমিদারির লোকেরা। যারা চিরস্থায়ী বন্দোবস্তীর অপেক্ষায় অশান্ত হয়ে উঠেছেন।

জুলাই বিপ্লবীদের সঙ্গে পুরোনো জমিদারি বন্দোবস্তের বেনিফিশিয়ারিদের এই দ্বন্দ্ব মূলত প্রজন্ম ব্যবধান। দুর্নীতি, লুণ্ঠন, কালো টাকা, পেশীশক্তি, চাঁদাবাজি, ক্রসফায়ারের লাইসেন্স পাওয়া রাজনীতি বনাম জনমানুষের রাজনীতি। ভি আই পি কালচার বনাম সাম্য চিন্তার বহুত্ববাদী সমাজ। এ কারণেই এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, পুরোনো খেলার নতুন খেলোয়াড় হতে আসিনি।

বাংলাদেশকে পুরোনো খেলার ক্যানিবাল কালচারে আটকে রাখার যে জাঢ্য জরদগব লালসার লালা মাখা লোল চর্ম লোভ, অন্তর্জলী যাত্রার বৃদ্ধের মরার আগে কিশোরী বিবাহের যে প্রতীকী আকাংক্ষা; ৫৪ বছর ধরে নির্বাচনী এলাকায় গদিনশীন পীরের গদিতে নিজের ছেলে-মেয়ে-ছেলের বউ, জামাইকে বসিয়ে রেখে যাবার যে ধ্যাড়ধেড়ে গোবিন্দপুর মার্কা রাজনীতি; ওটাই পুরোনো খেলা; আদি ও অকৃত্রিম ভিলেজ পলিটিক্স।

জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন ও সভ্য বাংলাদেশের যে আকাংক্ষা ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে ছড়িয়ে পড়েছে; তাতে ঢাকার সাহেব বিবি গোলাম কোটালের  অসভ্য ব্যবস্থাকে আঁকড়ে থাকা; আর মিডিয়ায় হিজড়ে লাগিয়ে দিয়ে প্রাচীন নৃত্যর সময় প্রায় ফুরিয়ে এসেছে।

The old order changeth yielding place to new

৩০১ পঠিত ... ১৭:৫১, জুলাই ০৭, ২০২৫

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top