টিফিন টাইম, সময় অল্প, ডিসিশন নেওয়া কঠিন।

৭১ পঠিত ... ১৭:২২, জুন ২৩, ২০২৫

বন্ধুদের সাথে বিশাল মাঠে ফুটবল খেলব? নাকি টিচার্স ট্রেনিঙের কোনায় চটপটি মামার দোকানে হাজিরা দেব?

দামের ওপর ডিপেন্ড করে বিভিন্ন টাইপের সার্ভিং। ৩ টাকায় নামেমাত্র ফুচকা দিয়ে অল্প একটু চটপটি। ৪ টাকায় সেটা ভদ্রস্থ হবে। ৫ টাকা দিলে সাথে ডিম। ৬ টাকায় সাধারণত কেউ খেত না, কিন্তু ৬ টাকার অর্ডার দিলে সবাই চোখ ঘুরিয়ে দেখত। রাজার ছেলে মনে হয়! সম্ভবত বয়েজ স্কুল বলে ফুচকার চাহিদা ছিলো না। অথবা, ফুচকার কনসেপ্টটাই তখনও আসেনি।

সময় যতই গড়িয়েছে, আমি সেই চটপটির ততই ভক্ত হয়েছি। নস্টালজিয়া? হতে পারে। তবে তারচেয়ে বেশি সম্ভবত মামার ডাবলির ঘনত্ব। এটা ট্যালটেলে করা যাবে না, যেটায় ডাবলিগুলো প্যাটপ্যাট করে তাকিয়ে থাকে। আবার ঘুগনির মতো ঘন করলে কেচ্ছাই শেষ। সাথে টুকরো আলুর একটা পারফেক্ট ব্লেন্ড। আলু যত নরম, জিনিসটা জমে তত ভালো। স্কুলের মামা এইদিকে ছিলেন সেরা। আমি সেজন্য তার ফ্যান।

তারমানে এরপর মনের মতো চটপটি পাচ্ছি না? হ্যাঁ, পাচ্ছি। তবে বেশিরভাগ সময় পাচ্ছি না। অনেকের একটা 'সিরকেট' মশলা থাকে। যারাই এই মশলা দিয়ে চটপটি বানায়, আমি তাদের থেকে সাবধান হয়ে যাই। ঝানু কারিগররা সিক্রেট মশলা বানান না। সব মশলা হাতের সামনে থাকে, হাতের জাদুতে সব ব্যালান্স।

আমার কাছে পারফেক্ট চটপটির সংজ্ঞা কী? প্রথমটা তো বললামই। ডাবলির থিকনেস, সাথে আলুর ব্লেন্ড। সেকেন্ডে আসবে এইটাকে সার্ভিং প্লেটে নেওয়ার পর চামচ দিয়ে যে খেলাধুলাটা হয়, সেখানে কবজির ফ্লেক্সিবিলিটি। ইয়েস, নাড়ানোতে স্বাদ ভ্যারি করে। ওস্তাদ কারিগরের দুইটা বাড়ি খেলেই ডাবলি বুঝে যায় কার হাতে পড়েছে, এখন কেমন স্বাদ তাকে হতে হবে।

তৃতীয়ত, আমি তোমাকে চাই। থুক্কু আই মিন, তৃতীয়ত, মশলার হিসাব-কেতাব। মূলত, একজন কারিগরের মুন্সিয়ানাটাই এখানে। শুকনা মরিচের টালা, জিরার গুঁড়া, বিট লবণ, সব দেবেন ঠিক আছে; কিন্তু এখানেই আন্দাজের খেলা। এই আন্দাজের কারণেই কারোরটা হয় দোকানের চটপটি, কারোরটা বাসার। এবং সবিনয়ে বলতে চাই, বাসার চটপটির চেয়ে অন্তত নব্বই ভাগ টঙের চটপটি ভালো।

এরপর কেউ দেন টমেটো, কেউ শসা, কেউ ধনিয়াপাতা, পেঁয়াজ-মরিচ, কেউ সবগুলোই। এইগুলো টেক্সচারের ব্যালান্স, যে যেভাবে সামলায়। এটা নিয়ে আমার অনেককিছু বলার নাই।

পঞ্চমত, ফুচকা। অনেকের ধারণা, ঠেসে ফুচকা দিলেই চটপটির স্বাদ বেড়ে যায়। ভুল! অনেকে ভেঙে যাওয়া ফুচকাগুলো আলাদা করে রাখে চটপটির জন্য। এটাও ভুল! ফুচকার সাথে ডাবলির একটা রেশিও আছে। এর থেকে একচুল কম ফুচকা হলে চটপটি পাইনশা। একচুল বেশি হলে চটপটি কইষ্ঠা! অনেকটা চায়ের লিকারের হিসাব। আর, যখনই আপনি অবহেলা করে ভাঙা ফুচকা ডাবলির ওপর ছড়িয়ে দেবেন, চটপটি মজা হবেই না! এই বাটি খুবই অভিমানী, বিশ্বাস করেন!

ষষ্ঠত, ডিম। ইদানিং যেভাবে গ্রেটারে ঘষে ডিম ছড়িয়ে দেয়, দেখতে লাগে তুষারের মতো। এবং, খেতেও লাগে তুষারেরই মতো! বরফকুচি, স্বাদহীন। এই জিনিসটা আমি নিতেই পারি না। ডিম হাতে কেটে টুমো টুমো ফালি চাঁদের মতো যদি না দেওয়া হয়, দাঁতের নিচে টেরটা পাবেন কী? এমনিতে ডিম খাওয়া নিয়ে আমার চ্যাদভোত নেই, কিন্তু চটপটির ডিমটা লালচে কুসুমের হাঁসের ডিম হতেই হবে। সূর্যরঙা কুসুম যখম ডাবলিতে মিশে জিভের সাথে মিশে যায়, এর সুখ বর্ণনা করার মতো সাহিত্যিক খুব বেশি নেই।

সপ্তমত টক, সেটা খানা আপ রুচি। চটপটিতে আমার চাই ঝাল-টক। ফুচকায় মিষ্টি-টক। কেউ ডাবলির ঝোলও মেশান, আমার চলে না।

অষ্টমত, বোম্বাই মরিচের ঝাল। এটা সম্ভবত সবার জন্য না। আমার লাগবেই! যে টঙে বোম্বাই মরিচ নেই, আমাকে বেঁধে পেটালেও সে টঙে চটপটি মুখে তুলব না। আস্ত বোম্বাই মরিচের চটপটি আমার ডিপ্রেশন হিলিং মেডিসিন। আমার ব্যক্তিগত পছন্দের চটপটি মামা জানেন। একবার অতিরিক্ত ঝালে সম্ভবত জ্ঞান হারিয়েছিলাম কিছুক্ষণের জন্য। এরপর থেকে যেদিন বেশি ঝাল দিতে বলি, উনি বাচ্চা ছেলেটাকে চটপটি বানাতে বলে আমার সাথে এসে বসেন। আমি খাওয়ার পর উনি কাজে ফেরত যান। এক জীবনে কতজনের ভালোবাসা আর ফেরত দেব?

আই লাভ ইউ চটপটি। যদিও আজ সন্ধ্যায় খেলাম, তারপরও, আই মিস ইউ।

৭১ পঠিত ... ১৭:২২, জুন ২৩, ২০২৫

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top