সিগারেট যেভাবে লোকটার জীবন বাঁচাল

২০৭ পঠিত ... ১৫:৪৭, জুন ০১, ২০২৪

30

স্মোকারদের ব্যাপারে আমার দেখা জেনারেলাইজড একটি পয়েন্ট অফ ভিউ হলো—এরা অত্যন্ত লয়্যাল হয়। রোদ বৃষ্টি খরা, প্রচণ্ড সুখ, প্রচণ্ড দুঃখ, বিশেষ কিংবা সাধারণ কোনো দিন—সিগারেটকে এরা কখনোই ছেড়ে যাবে না। সিগারেট হলো সেই না হওয়া প্রেমিকার মতো—যাকে পেলে মনে হতো পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাদের আলাদা করতে পারবে না। কেন বলছি, কারণ—একেকটি সিগারেট মানুষের আয়ু থেকে ১১ মিনিট কমিয়ে দেয় জানার পরও মানুষ যখন অনুগত থাকে, এই লয়্যালটির দিকে প্রশ্ন তোলার কোনো কারণই নেই! 

তখন ডিউটি চলছে সিসিইউতে। একটু ভেঙে বলি। সিসিইউ (বা, CCU) হলো করোনারি কেয়ার ইউনিট—হাসপাতালের সবচেয়ে ব্যস্ততম, সবচেয়ে খারাপ এবং ইমার্জেন্সি রোগীগুলোর আখড়া। এটি হার্ট অ্যাটাক, আনস্টেবল অ্যাঞ্জাইনা অর্থাৎ বুক সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যার রাজধানী। এখানে সারারাত ধরে রোগী আসে—কাউকে ইমারজেন্সি ডিসি শক দেওয়া লাগে, পাঁচ মিনিট আগে ভালো থাকা রোগী হঠাৎ করে মারা যায়, কেউ শকে চলে যায়।

রাত নেই, দিন নেই—এখানে গেলেই হাউমাউ করে দলবদ্ধ কান্নার শব্দ পাওয়া যায়।

যাই হোক, তখন ডিউটি চলছে সিসিইউতে। রাত সাড়ে তিনটা বাজে। ঘুমে চোখ ঢুলুঢুলু। রাত ৯টা থেকে ২০ জনের বেশি রোগী রিসিভ করে শরীরে ভর করেছে ক্লান্তি। টেবিলের উপর মাথা ঠেকিয়ে কিছুটা ঘুমিয়েই গিয়েছিলাম বোধ হয়।

তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব কাটল রোগীর লোকের ডাকে।

ম্যাডাম…ম্যাডাম...আমার রোগীর দুইদিন ধরে পায়খানা হয় না… 

কিছুটা বিরক্ত হলাম। রাত সাড়ে তিনটার সময় পায়খানা কেন করানো লাগবে?

মনের কথা মনে রেখে বললাম, ফাইল (ভর্তির কাগজ এবং প্রেস্ক্রিপশন) নিয়ে আসেন।

ফাইল আনার পর ডায়াগনোসিস দেখলাম— ইনফেরিয়র মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন, মানে বড় সড় একটা হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। রোগীর বয়সও বেশি না। ৩৫ কী ৩৮ এর কোঠায়।

চারটা সাপোজিটরি গ্লিসারিন লিখে দিয়ে বললাম, পায়খানার রাস্তায় ঢুকিয়ে দেবেন। এখন ফার্মেসি খোলা পাবেন না। সকালে দিয়েন।

আচ্ছা, বলে রোগীর লোক চলে গেল।

ততক্ষণে আমার ঘুম কেটে গেছে। দেখলাম রোগী কী যেন বলছে ওই লোকটিকে। কিছুক্ষণ পর অ্যাটেন্ডেন্ট বিরস মুখে আবার এলো। ইতস্তত করে আস্তে আস্তে বলল, ম্যাডাম, যদি কিছু মনে না করেন, একটা কথা বলি?

উদাস মুখে বললাম, বলেন…

রোগীর লোক আরও কাছে এগিয়ে এলো। গোপনীয়তার ভঙ্গিতে ফিসফিস করে বলল, রোগী কচ্ছে বাথরুমেত যায়ে একটা সিগারেট খালেই পায়খানা হবে...ওষুধ লাগপি না। আমি কি দিয়ে আসমো?

ভোর চারটায় আমি ভাষাহীন হয়ে গেলাম।

রোগীটির দিকে কটমট করে তাকিয়ে দেখি সেও আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখে অসহায়ত্ব।

মনে মনে বলি, আহারে...

২০৭ পঠিত ... ১৫:৪৭, জুন ০১, ২০২৪

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top