বাঙালির স্বাস্থ্যসচেতনতা: আমরা যেভাবে ডায়েট করি

৮৭৬ পঠিত ... ১৯:৪৯, অক্টোবর ০৫, ২০২১

bangalir shasthoshochetonota

২৭ নভেম্বর
থাক, আজ থেকে ব্যায়াম শুরু না করলেও চলবে। সামনের মাসের ১ তারিখ থেকে করবো। ১ তারিখ, রোজ শুক্রবার। রাউন্ড একটা ফিগার, পবিত্র একটা দিন।

 

১ ডিসেম্বর
আজ শুরু করার কথা ছিলো। ভাবছি শুরু করবো কি না?
আচ্ছা? জানুয়ারি থেকে শুরু করলে কেমন হয়?
নতুন একটা বছর। জীবনটাকে নতুন করে শুরু করলাম, খারাপ কী! ওকে, আগামী মাস
অর্থাৎ আগামী বছর থেকেই স্বাস্থ্যসচেতনতা শুরু। ডিসিশন ফাইনাল।

 

১ জানুয়ারি
৩০ মিনিট হাঁটলাম। বাহ! ভালো লাগছে। বিষয়টা সবাইকে জানানো দরকার।

ফেসবুক স্ট্যাটাস-
জীবনটা একটা ছকে আনা শুরু করলাম। আজ থেকে সবকিছু নিয়ম মেনে করবো।
ডেইলি হাটাহাটি চলবে। খাওয়া দাওয়াও কন্ট্রোলে। কবি বলেছেন স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।

ফোনে পুরোনো বন্ধুকে-
আরে হাবিব কী অবস্থা? আরে মিয়া ভালো থাকবা ক্যামনে? শরীরটার দিকে নজর দেও। এভাবে আর কতো? একটু দৌঁড়াও, হাঁটাহাঁটি করো, খাওয়া দাওয়া কন্ট্রোল করো। আর শোনো, আমি তো আজ থেকে দৌঁড়ানো শুরু করে দিছি। খুব ফ্রেশ লাগতেছে,
বুঝছো? আসবা নাকি সকালে এইদিকে? চলে আসো একসাথে দৌঁড়ানো যাবে নে।

 

২ জানুয়ারি
ত্রিশ মিনিট হাটলাম। দুইটা আটার রুটি আর তেল ছাড়া ভাজি, বাহ ভালো লাগছে। জীবনটা সুখের। মনে হচ্ছে ওজন অনেকখানি কমে গেছে। দেখি আজকে ওজনটা মাপতে হবে।

ফেসবুক স্ট্যাটাস-
অনেকে আমার ডায়েট চার্ট জানতে চেয়েছেন। খুব ব্যাস্ততার মধ্যে আছি। তাও আপনাদের সাথে শেয়ার করছি আমার ডায়েট চার্ট।
সকাল বেলা- একটা আটার রুটি, এক চামচ তেল ছাড়া সবজী... দুপুরবেলা এক মুঠো ভাত... রাতে দুইটা আটার রুটি দুই চামচ সবজী।


৩ জানুয়ারি
ওজন মেপেছিলাম। কমেনি। তবে কমবে। আশাবাদী।


৭ জানুয়ারি
৭ দিন এক্সারসাইজ করে ফেললাম। কোনো উন্নতি নাই। বিষয়টা কী?
সমস্যা নাই। হবে।

ফেসবুক স্ট্যাটাস-
ওজন মাপিয়েছিলাম। এক কেজি বেশি দেখাচ্ছে। মনে হয় মেশিনটা নষ্ট।


১০ জানুয়ারি
বন্ধু সাইফুলের বিয়ে। যাওয়াটা কি ঠিক হবে? গেলেই তো তেল চর্বি খেয়ে আগের যায়গায় চলে আসবো।
আচ্ছা, যাই না হয়। সমস্যা নাই। খাবো কম। জাস্ট একটু দই। কন্ট্রোল তো সব নিজের কাছে।

খেতে বসে-
আচ্ছা একটু ভাত নেই।... খারাপ না।
একটু গরু নেয়া যায়।... বাহ এটাও খারাপ না।
আরেকটু কি নেবো?
আরে ধুর, একদিনই তো। একদিন খেলে কিচ্ছু হয়না। 'ভাই, মাংসের বাটিটা এইদিনে একটু ঠ্যালা দেন।'

 

১১ জানুয়ারি

সকালবেলা-
নাহ! গতকাল এতো খাওয়াটা ঠিক হয়নি আজকে ৫ মিনিট বেশি হাটতে হবে।

বিকেলবেলা-
একটা সমুচা কি খাবো? এগুলোতে তো খুব তেল। থাক, অর্ধেকটা খাই।


২০ জানুয়ারি
নাহ! আজকে হাটা হলো না। সকালে ঘুম ভাঙ্গে নাই সকালে। এতো শীতের মধ্যে উঠা যায় নাকি? কাল থেকে মিস করা যাবে না।

 

২১ জানুয়ারি
আজকেও হাটাহাটি মিস। এভাবে কি হবে?

বিকেলবেলা- সিংগাড়া খাওয়াটা কি ঠিক হবে? চিন্তার বিষয়। খাই, শীত কাটবে। খুব শীত পড়েছে আজ।

 

২২ জানুয়ারি
আজকেও উঠতে পারলাম না। দুঃখজনক

 

২৯ জানুয়ারি
আজকেও দৌড়ানো হলো না। তার উপর খেয়েছি পেট ভরে ভাত। অস্বস্থি লাগছে।

 

৩১ জানুয়ারি
ধুর, এতো স্বাস্থ্যসচেতনতার কোনো মানেই নাই। দুই দিনের জীবন। এতো দৌড়াদৌড়ি করে হবেটা কী? এইসব বাদ। আজকেই পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টে গিয়ে ভরপেট খেয়ে আসবো। সচেতনতার গুল্লি মারি।
ফোনে- হাবিব, দোস্ত চলে আসো। বহুতদিন ভালো মন্দ খাই না। আরে ধুর... আমি খাওয়াবো নে। আসো।

৮৭৬ পঠিত ... ১৯:৪৯, অক্টোবর ০৫, ২০২১

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top