মডার্ন ডেটিং টিপস! এক্সপোজড হতে না চাইলে ভুলেও যা করবেন না

৪৩৬ পঠিত ... ৭ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে

স্কুলের ছুটি হলে গার্লস স্কুলের সামনে কি এখনো ছেলেরা দাঁড়িয়ে থেকে হাজিরা দেয়? কিংবা কলেজে দেখা সুন্দরী রমণীর জন্য কি কলেজের গোলাপ গাছ নেড়া করে ফেলে? ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারের যুগে এখন আর রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা লাগে না। প্রোফাইলে গেলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকা যায়। চাইলে ইনবক্সে মনের কথা জানানো যায়। পাঠানো যায় রিলস, মিমস কিংবা যেকোনো কিছু। এসবের মাঝে কখনো খেয়াল করেছেন কি, আপনি শুধু মাত্র কথা বলার জন্য একটা টেক্সট দিয়েছেন, উত্তর না পেয়ে দুইটা, তার উত্তর না পেয়ে হয়তো আপনি মাসে একবার করে পুরো বছরে ১২ বার কথা বলার জন্য অ্যাপ্রোচ নিয়েছেন—শুধু মাত্র কথা বলার জন্যই তো টেক্সট দিয়েছেন, অথচ আপনার নাম চলে আসছে এক্সপোজড লিস্টে।

আপনি দুনিয়াতে এসেছেন একা, যাবেন একা; কিন্তু মাঝের এই সময়টাতে একা থাকতে তো নিশ্চয়ই চাইবেন না। সবাই চায় তারও কেউ থাকুক, যে নিয়ম করে কথা বলবে, সেহরিতে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেবে, ইফতারের আগের এক ঘণ্টা কথা বলবে। মাঝে মাঝে বাদাম খেতে বের হবে, বাদাম না হোক বাদাম শেক, চা না হোক কফি খাবেন একসাথে। কাউকে ভালো লাগলে নক দিচ্ছেন, একটু কথা বলতে চাচ্ছেন, অথচ আপনার টেক্সটের উত্তর পাচ্ছেন না। আর আপনিও পরাজয়ে ডরে না বীর কিংবা ‘একবার না পারিলে দেখো শতবার’ মন্ত্রে বিশ্বাসী হয়ে সপ্তাহে একবার করে নক দিয়ে যাচ্ছেন। আপনি হয়তো জানেনই না, আপনার দেওয়া টেক্সট চলে যাচ্ছে প্রাইভেট গ্রুপে। আপনাকে নিয়ে মজা করা হচ্ছে। “আহারে বেচারা!” বলে আপনাকে নিয়ে হাসাহাসি করছে।

মডার্ন ডে-তে ডেটিং করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই নিম্নে উল্লেখিত বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে, নাহলে এক্সপোজড হওয়াটা শুধু মাত্র সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।

১. দুই বারের বেশি নক দেওয়া যাবে না

আপনি হাই-হ্যালো করার জন্য একটা নক দিলেন, ওপাশ থেকে সিন করে রেখে দিলে সর্বোচ্চ আরেকটা মেসেজ করতে পারেন। কিন্তু দিনের পর দিন মেসেজ পাঠালে তো কোনো লাভ হবে না। যে দুইটা মেসেজ দেখেও রিপ্লাই দেয় না, বুঝতে হবে আপনাকে তার ভালো লাগে নাই, নাহলে তার অন্য কোনো সমস্যা আছে। যার উত্তর দেওয়ার, সে একবারেই দেবে। বারবার মেসেজ দিয়ে নিজেকে তার বন্ধু মহলে হাসির পাত্র বানানো যাবে না।

২.গুড মর্নিং, গুড নাইট—এসবে আটকালে হবে না

আপনি কাউকে ইমপ্রেস করতে গিয়ে যদি প্রতিদিন সূর্যোদয়ের ছবি, ফুলের জিফ আর ‘শুভ সকাল’, ‘হাসি দিয়ে দিন শুরু করুন’ ইত্যাদি পাঠান, তাহলে বুঝতে হবে আপনি প্রেম না, মুদি দোকান চালাচ্ছেন। যে মেয়ে আপনার গুড মর্নিং-এর রিপ্লাই দেয় না, সে আপনার ফুলে অ্যালার্জিক না, সে আপনাকেই অ্যালার্জিক। এক-দুই দিন দিলে সমস্যা নাই, কিন্তু টানা ৪০ দিন পাঠালে সেটা প্রেম না, সেটা আপনার মুদি দোকানের বিজ্ঞাপন।

৩. নিজের দুঃখ দিয়ে সহানুভূতি কিনতে যাবেন না

কারো সাথে কথা বলতে গিয়ে কিংবা নিজের প্রোফাইলে—‘আমার লাইফে অনেক কষ্ট’, ‘আমি খুব একা’, ‘কেউ আমাকে বোঝে না’—এসব বলে বেড়াবেন না। এসব দেখলে মনে হবে আপনি আসলে অন্য সবার মতো না, আপনি একটু আলাদা। আপনার কাউন্সেলিংয়ের দরকার আছে। মানুষ নরমাল মানুষকে ডেট করতে চায়, কাউন্সেলিং সেন্টার খুলতে না। সহানুভূতি দিয়ে শুরু হওয়া প্রেম বেশিরভাগ সময় স্ক্রিনশটে শেষ হয়।

৪.অতিরিক্ত রিঅ্যাকশন দেওয়া যাবে না

সে একটা স্টোরি দিল: Feeling tired
আর আপনি সাথে সাথে ইনবক্সে হামলে পড়লেন—কে কষ্ট দিয়েছে? নাম বলো! আমি দেখে নিচ্ছি! ভাই, আপনি তো নরমাল মানুষ না, আপনি মোবাইল বডিগার্ড। সব স্টোরির উত্তর দিতে হয় না। সব দুঃখের হিরো হতে হয় না। তাকে তার কথাগুলো বলার স্পেস করে দিন। নিজের হিরোগিরি দেখাতে গিয়ে লেবু চিপে তিতা করবেন না।

৫.Last Seen নিয়ে গবেষণা বন্ধ করুন

সে রাত ২টায় অনলাইন ছিল, কিন্তু আপনার মেসেজের রিপ্লাই দেয় নাই—এটা নিয়ে পিএইচডি থিসিস লিখতে বসবেন না। তাকে জেরাও করতে যাবেন না। সে আপনার বেতনভুক্ত কর্মচারী না যে রাত দুইটায় আপনাকে উত্তর দেয় নাই বলে আপনার কাছে জবাবদিহি করতে হবে। আপনি যদি Last Seen Analyst হয়ে যান, তাহলে প্রেম হবে না, বরং মানসম্মানহানি হবে। যে রিপ্লাই দিতে চায়, সে ব্যস্ততার মধ্যেও দেয়। যে চায় না, সে ফ্রি থাকলেও দেয় না।

৬. কাউকে ভালো লাগলে সরাসরি ইনবক্সে ঝাঁপ দেবেন না

সরাসরি অপরিচিত মানুষ হিসেবে ইনবক্সে কথা বলার চেয়ে ভালো—এক-দুইটা কমেন্ট করুন। এতে সে আপনাকে চিনতে পারবে। নিয়মিত কমেন্ট করে আমেরিকাকে গালাগালি করুন, ইসরায়েলের গোষ্ঠী উদ্ধার করুন। এরপর একদিন ইরানের জন্য কী করা যায়, সেটা নিয়ে আলাপ করার জন্য মেসেজ দিন—দেখবেন কথা আগাবে।

৭.জীবনকে অনলাইনে আটকে রাখবেন না

আপনার জীবন ও প্রেম যদি ইনবক্স-নির্ভর হয়, তাহলে বুঝতে হবে আপনি প্রেম খুঁজছেন না, ডেটা প্যাক শেষ করছেন। নিজের কাজ, বন্ধু, ক্যারিয়ার, জিম, বই—এসব রাখুন। সপ্তাহে একবার করে কোনো এক্সিবিশনে যান, কনসার্টে যান কিংবা থিয়েটারের নাটক দেখতে যান। সেখানে বিভিন্ন মানুষের সাথে আলাপ করুন, বন্ধুত্ব বাড়ান। মানুষ আকৃষ্ট হয় ব্যস্ত ও আত্মসম্মানী মানুষের প্রতি, ২৪/৭ অনলাইন পাহারাদারের প্রতি না।

৮. এক্সপোজড লিস্টের ভয় পেয়ে প্রেম বাদ দেবেন না

এই যুগে স্ক্রিনশট আছে, গ্রুপ আছে, হাসাহাসি আছে।
কিন্তু একটা কথা মনে রাখবেন—আপনি কাউকে সম্মান দিয়ে, সীমা মেনে, জোর না করে কথা বলেছেন, তাহলে এক্সপোজড হলেও আপনি অপরাধী না। বরং যে মানুষ কারো ভদ্র নক নিয়ে গ্রুপে মজা করে, একদিন তার ইনবক্সও ইতিহাস হয়ে যায়।

৪৩৬ পঠিত ... ৭ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সাক্ষাৎকারকি


Top