
ক্রেডিট কার্ডের উপরে ১৫ বা ১৬ ডিজিটের একটা নাম্বার থাকে। দেখতে র্যান্ডম মনে হলেও এই নাম্বারগুলোর প্রতিটির ভিন্ন ভিন্ন অর্থ আছে। পুরো নাম্বারটা বুঝলে কার্ড না দেখেও বলে দেওয়া যাবে এটা কোন কোম্পানির কার্ড, কোন অঞ্চলের কার্ড কিংবা আরও অনেক প্রাসঙ্গিক তথ্য।
এটা জানার আগে আরেকটা জিনিস জানা দরকার। সেটি হচ্ছে- পৃথিবীর সব ক্রেডিট কার্ডের নাম্বার একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করে। এই প্রতিষ্ঠানটির নাম American National Standards Institute (ANSI)। বিশ্বব্যাপী ১ লাখ ২৫ হাজার কোম্পানি এই প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্ত। ANSI প্রতিটা কার্ড নাম্বার একেকটা স্পেসেফিক সিস্টেমের জন্য নির্ধারণ করে। এই কারণেই আপনি যখন আপনার মাস্টারকার্ড কোনো স্টোরে সোয়াইপ করেন, তখন এটি কোন ব্যাংক থেকে ইস্যু করা, কোন চ্যানেলে টাকা যাবে, সব কম্পিউটার ধরতে পারে। এই কারণেই ক্রেডিট কার্ডের প্রতিটা নাম্বার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এবার আসা যাক কার্ডের নাম্বারে। প্রথম ডিজিট বা প্রথম দুটি ডিজিট দিয়ে বোঝা যায় এটি কোন কোম্পানির কার্ড। যেমন- প্রথম ডিজিটটি 4 হওয়া মানে এটি একটি Visa কার্ড, 5 হওয়া মানে মাস্টারকার্ড, প্রথম দুটি সংখ্যা ৩৪ বা ৩৭ হওয়া মানে এটি আমেরিকান এক্সেপ্রেস কার্ড।
ভিসা কার্ডের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ সংখ্যাগুলো দিয়ে বোঝায় কার্ডটি কোন ব্যাংক থেকে ইস্যু করা হয়েছে। সপ্তম থেকে ১২তম ডিজিট দিয়ে একাউন্ট নাম্বার বোঝায়। ১৬তম ডিজিটটি হচ্ছে চেক ডিজিট। কোনো কারনে যদি পস মেশিন কাজ না করে এবং কার্ডের নাম্বারগুলো ম্যানুয়ালি ইনপুট দিতে হয়, তাহলে এই ডিজিটটি ইনপুট দিলেই কম্পিউটার বুঝতে পারবে বাকী ডিজিটগুলো ঠিকমতো এন্ট্রি হয়েছে কিনা।
মাস্টারকার্ডের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় এবং তৃতীয়, দ্বিতীয় এবং চতুর্থ, কিংবা দ্বিতীয় এবং পঞ্চম নাম্বারটি দিয়ে বোঝা যায় এটি কোন ব্যাংক থেকে ইস্যু করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ১৬তম ডিজিটটি হচ্ছে চেক ডিজিট।
আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ডের ক্ষেত্রে যথাক্রমে কার্ডের টাইপ (বিজনেস অথবা পার্সোনাল) এবং কারেন্সি (টাকা, আমেরিকান ডলার কিংবা কানাডিয়ান ডলার) নির্দেশ করে।
পঞ্চম থেকে একাদশ ডিজিট পর্যন্ত একাউন্ট নাম্বার নির্দেশ করে। ১৫তম ডিজিটটি হচ্ছে চেক ডিজিট।


পাঠকের মন্তব্য