সৌদি আরবে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীদের নির্যাতন, বকেয়া মজুরি ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। দেশে ফেরার পর তাঁদের অনেকের অভিজ্ঞতায় উঠে আসে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর পদক্ষেপের অভাবের চিত্র। সরকারি নথিতে অভিযোগ গ্রহণ, আইনি সহায়তা, সেফ হোম ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা থাকলেও এসব সুবিধা ভুক্তভোগীদের কতটা সুরক্ষা দিতে পারছে? কতজন নারী অভিযোগ করে প্রতিকার পাচ্ছেন, নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দেশে ফেরার পর তাঁদের পুনর্বাসনের সুযোগ কতটা কার্যকর? প্রকাশিত পরিসংখ্যান, সংবাদ প্রতিবেদন ও সরকারি বক্তব্য বিশ্লেষণ করে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি এখানে।
সৌদি আরবে কাজের জন্য গিয়ে অহরহ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশসহ আরও অনেক দেশের নারীরা। সাম্প্রতিক সময়ে নেত্র নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সৌদি আরব থেকে ফেরত আসা অনেক নারী তাঁদের সৌদি জীবনের বেদনাদায়ক দিনগুলো সম্পর্কে জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যগামী নারী কিংবা পুরুষ, সবারই ধারণা থাকে যে এই জায়গাগুলো তাঁদের জন্য অনেক নিরাপদ হবে। তবে বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। শুধু নির্যাতনই করা হয় না, তাঁদের বিক্রি করে দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, লাশ হয়ে দেশে ফিরতে হয়।
বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ঘাঁটতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠার মতো তথ্য বের হয়ে এসেছে। ঢাকা ট্রিবিউনে প্রকাশিত এক সংবাদে দেখা গেছে, ২০১৮-১৯ সালে সৌদি আরব থেকে ২,৩১৫ জন নারী ফেরত এসেছেন, যাঁদের বেশিরভাগই যৌন, শারীরিক বা মানসিক সহিংসতার কথা বলেছেন। সংসদীয় কমিটিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের আগস্টে সৌদি আরব থেকে ফেরত আসা ১১০ জন নারীর মধ্যে ৩৫ শতাংশ শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৩৮ জন একই সঙ্গে দুই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং ৪৮ জন নিয়মিত বেতনও পাননি।
এ ছাড়া, ব্র্যাক ঢাকা বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছিল, ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৪৭৩ জন নারীর মরদেহ এসেছে। এর মধ্যে ১৭৫টি সৌদি আরব থেকে এবং অন্তত ৮১টি আত্মহত্যার ঘটনা ছিল। আল জাজিরা ২০১৯ সালে লিখেছিল, আগের চার বছরে সৌদি আরবে অন্তত ৬৬ জন বাংলাদেশি নারীর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৫২টি আত্মহত্যা।
প্রবাসে নারীদের ওপর নির্যাতনের হার যখন উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, তখন অনেক নারী মধ্যপ্রাচ্যে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এ কারণে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যগামী নারীদের সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে। এসব বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানান, ১৩টি দেশের ২২টি আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের চুক্তি আছে। সৌদি আরবে মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে দুটি সেফ হোম এবং ওমানে একটি সেফ হোম চালু আছে। অভিযোগ জানানোর জন্য দুটি কল সেন্টারও রয়েছে। তাঁর দাবি, হয়রানি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যদিও বর্তমানে তুলনামূলক কমসংখ্যক নারী সৌদি আরবে যাচ্ছেন। ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট ঢাকায় সৌদি উপমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রণালয় নারী গৃহকর্মীদের অধিকার সুরক্ষা, চুক্তি নবায়ন, যৌথ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং আটক বাংলাদেশিদের ক্ষমার অনুরোধ জানিয়েছে। সৌদি পক্ষ জানিয়েছে, মজুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা ও বিমার ব্যবস্থা রয়েছে এবং তালিকা পেলে ক্ষমার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়া, ২০২৫ সালের অক্টোবরে দুই দেশ একটি সাধারণ নিয়োগ চুক্তি সই করেছে।
২০২৬ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীদের নির্যাতন বা যৌন সহিংসতা নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কোনো পৃথক প্রকাশ্য বিবৃতি পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সরকারি অবস্থান মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নথি ও বক্তব্য প্রয়োজন। শ্রম অভিবাসন ও কর্মীদের কল্যাণের দায়িত্ব মূলত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের। অন্যদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাস কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সহায়তায় ভূমিকা রাখে। তবে অতীতে উভয় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেই বিষয়টি নিয়ে কিছু বক্তব্য এসেছে।
২০১৯ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীদের নির্যাতনের ঘটনা স্বীকার করেন। মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি জানান, নির্যাতনের শিকার নারীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষকে নিয়মিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়। তবে এসব ঘটনার কারণে সৌদি আরবে নারী কর্মী পাঠানো বন্ধ করা হবে না। একই বছর এএফপিকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, কিছু অভিবাসী নির্যাতনের শিকার হলেও তার অর্থ এই নয় যে সৌদি সরকারই তাঁদের নির্যাতন করছে। অন্যদিকে, ২০১৯ সালে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রথমে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে সংসদীয় কমিটির কাছে দেওয়া প্রতিবেদনে নারী কর্মীদের শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের তথ্য স্বীকার করে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ২০২১ সালে সৌদি আদালতে বাংলাদেশি গৃহকর্মী আবিরুন বেগম হত্যার মামলায় তাঁর নিয়োগকর্তার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে স্বাগত জানান তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি অন্যান্য নির্যাতনের ঘটনারও তদন্তের আহ্বান জানান বলে আল জাজিরা জানায়। এসব বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বিষয়টি নিয়ে অতীতে সরকারি পর্যায়ে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এসব প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের প্রতিকার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কী অগ্রগতি হয়েছে, তা মূল্যায়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো বক্তব্য বা লিখিত বিবৃতি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবে নারী ও পুরুষ উভয় অভিবাসীর জন্য কাগজে-কলমে অনেক সুযোগ-সুবিধার কথা বলা হয়ে থাকে। যেমন, রিয়াদের দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের ঘোষিত দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে চুক্তি সত্যায়ন, মালিকের সঙ্গে বিরোধে কাউন্সেলিং, শ্রম আদালতে হাজিরা, পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে শরিয়া আদালতে পাওনা দাবি এবং বকেয়া অর্থ আদায় করে বিএমইটির মাধ্যমে পরিবারের কাছে পাঠানো। এ ছাড়া, যেকোনো অভিযোগের জন্য সৌদি সরকারের মুসানেদ প্ল্যাটফর্ম ও ১৯৯১১ হটলাইনও রয়েছে। আশ্রয়ের জন্য রিয়াদ ও জেদ্দায় দূতাবাস পরিচালিত সেফ হোম আছে।
কিন্তু বাস্তবে প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা একেবারেই ভিন্ন। দ্য ডেইলি স্টারের ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে রহিমার গল্পে উঠে আসে, সেফ হোমে মাত্র তিন দিন রাখার পর তাঁকে বলা হয়, তাঁর মালিক টিকিট দিয়েছেন, তাই তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরে যেতে হবে। অথচ তাঁর শেষ দুই মাসের বেতন তখনও বকেয়া ছিল। ব্র্যাকের শরিফুল হাসানের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো নারী গৃহকর্মী নিয়োগকর্তার বাড়ি থেকে পালিয়ে এলে তাঁর বিরুদ্ধে চুরির মামলা করা হতে পারে। অন্যদিকে, দূতাবাসের ভূমিকা অনেক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। রিমা (ছদ্মনাম) নামের আরেক নারীর ঘটনায় ব্র্যাক প্রশ্ন তোলে, তাঁর অভিযোগ তদন্তের জন্য দূতাবাস কেন সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়নি। সমস্যাটি অবশ্য নতুন নয়। মিডল ইস্ট আই ২০১৮ সালে জেদ্দায় বাংলাদেশ দূতাবাস পরিচালিত আশ্রয়কেন্দ্রে নারীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগের খবর প্রকাশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দূতাবাস দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানায়। এসব ঘটনা ইঙ্গিত দেয়, কাগজে-কলমে সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে অভিযোগের তদন্ত, বকেয়া মজুরি আদায় এবং নির্যাতনের শিকার নারীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুতর ঘাটতি রয়ে গেছে।
দেশে ফিরে আসার পরও অভিবাসী নারীদের অভিযোগ জানানোর একাধিক আনুষ্ঠানিক পথ রয়েছে। তাঁরা ovijogbmet.org পোর্টালে, বিএমইটি বা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে, ২৪ ঘণ্টার প্রবাস বন্ধু কল সেন্টারে কিংবা বায়রার সালিশ সেলে অভিযোগ করতে পারেন। বিএমইটি সাধারণত অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিকে ডেকে সালিশের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করে। এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার জামানত থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। কিন্তু এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা বোঝার জন্য শুধু কতটি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে, তা দেখলেই চলে না। কতজন নারী বাস্তবে ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, কত টাকা পেয়েছেন এবং কত সময় লেগেছে, সেগুলোও বিবেচনা করা জরুরি।
বাস্তবে এই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। দ্য ডেইলি স্টারের এপ্রিল ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিএমইটি নারীদের দায়ের করা ২,০৩৬টি অভিযোগের মধ্যে ১,৯৬৯টি নিষ্পত্তি করেছে বলে জানা গেছে। অথচ ১১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে আগের বছর মাত্র ১৪টিকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানা যায়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস)-এর জানুয়ারি ২০২৪-এর প্রতিবেদনেও ক্ষতিপূরণ আদায়ের সীমিত চিত্র উঠে আসে। ২০২৩ সালের আগস্টে দায়ের করা ১৮৬টি অভিযোগের মধ্যে ৯৬টি নিষ্পত্তি হয়েছিল। ভুক্তভোগীপ্রতি গড়ে আদায় হয়েছিল প্রায় ৭৪ হাজার টাকা, যেখানে বিদেশ যেতে একজন অভিবাসীকে ব্যয় করতে হয়েছিল প্রায় সাড়ে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা। প্রতিটি অভিযোগ নিষ্পত্তিতে লেগেছিল অন্তত চার মাস। অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে আইনি সহায়তা পেয়েছেন ৩৯৫ জন অভিবাসী, যাঁদের মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র ১১ জন। এই পরিসংখ্যান মিশনগুলোর আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ ও তার বাস্তব ব্যবহারের মধ্যে সম্ভাব্য ব্যবধানের প্রশ্ন তোলে।
সৌদি আরবে নারীদের নিয়োগকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও কার্যকর পদক্ষেপের প্রকাশ্য প্রমাণ সীমিত। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে রিয়াদের একটি আদালত বাংলাদেশি গৃহকর্মী আবিরুন বেগমকে হত্যার দায়ে তাঁর সৌদি নারী নিয়োগকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং নিয়োগকর্তার স্বামীকে তিন বছরের বেশি কারাদণ্ড দেন। বাংলাদেশ সরকার ঘটনাটিকে সৌদি নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে প্রথম এ ধরনের রায় হিসেবে উল্লেখ করেছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও একে বিরল বিচারিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছিল। তবে এই রায়ের বাইরে নির্যাতন বা মৃত্যুর জন্য দায়ী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ্য তালিকা পাওয়া যায়নি। জবাবদিহির এই সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত মেলে আরও আগে প্রকাশিত বক্তব্যেও। ২০১৯ সালে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের (ওয়েব) তৎকালীন মহাপরিচালক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক নারী মামলা করতে আগ্রহী হন না। একই বছর মিডল ইস্ট আই-কে ব্র্যাকের শরিফুল হাসান জানান, তাঁর জানা মতে, কোনো সৌদি নিয়োগকর্তাকে অভিযুক্ত বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। এসব বক্তব্যের সময়কাল ও পরিসর বিবেচনায় রেখেই বলা যায়, নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক ব্যবস্থা কতটা নিয়মিতভাবে নেওয়া হয়, তা মূল্যায়নের জন্য আরও স্বচ্ছ ও হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন।
সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় কাগজে-কলমে সরকারি ব্যবস্থার অভাব নেই। রয়েছে অভিযোগ জানানোর পথ, সেফ হোম, আইনি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের বিধান। কিন্তু এসব ব্যবস্থার প্রকৃত কার্যকারিতা কতগুলো অভিযোগ গ্রহণ করা হলো, তার চেয়ে বেশি নির্ভর করে কতজন ভুক্তভোগী বাস্তবে নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও প্রাপ্য অর্থ পেলেন, তার ওপর। নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার, বকেয়া মজুরি আদায়, অভিযোগের স্বচ্ছ নিষ্পত্তি এবং দেশে ফেরার পর কার্যকর পুনর্বাসনের ফলাফল নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা না হলে সরকারি প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব সুরক্ষার মধ্যকার ব্যবধান নিরূপণ করা কঠিন। নারী অভিবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাই শুধু বিদ্যমান ব্যবস্থার বিবরণ নয়, সেই ব্যবস্থাগুলো কতটা কার্যকর হচ্ছে, তারও জবাবদিহিমূলক মূল্যায়ন প্রয়োজন।



পাঠকের মন্তব্য