কোথাও প্রেমিক-প্রেমিকা দেখলে যারা মোরাল পুলিশিং করে, ওরা কারা?

৫৬ পঠিত ... ১৭:০৫, আগস্ট ১৭, ২০২৬

সম্প্রতি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থী একটি বাসায় গিয়ে হামলা চালায়। তাদের সন্দেহ ছিল, ওই বাসায় নাকি এক প্রেমিক-প্রেমিকা লিভ-ইন রিলেশনে থাকছে। পরে দেখা গেল, সেই কাপল আসলে বিবাহিত! এই চারজন শিক্ষার্থীর কি আসলে কোনো কাজকাম নেই? লেখাপড়া নেই? ওরা কি জানে না, কারও বাসায় গিয়ে এভাবে জেরা করা তাদের কাজ নয়? এটা হ্যারাসমেন্ট। অপরাধ। জানে। জেনেও করে। কেন করে? আসুন, বুঝি।

স্বেচ্ছায় দুজন মানুষ কোথায় থাকবে বা কার সঙ্গে সময় কাটাবে, হোক তা কোনো বাসা, পার্ক কিংবা আবাসিক হোটেল, সেখানে কিছু মানুষের মাথাব্যথার যেন শেষ নেই। নীতি-নৈতিকতার অলিখিত ইজারা নিয়ে এরা তেড়ে আসে। এই মানুষগুলোকে আমরা আদর করে বলি মোরাল পুলিশ। কিন্তু এই মোরাল পুলিশিংয়ের নেপথ্যে আসলে কী কাজ করে? একটু গভীরে গেলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যও কিন্তু অন্য কিছু ছিল না, এমন সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে। সিলেট এমসি কলেজের মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি নিশ্চয়ই আমাদের ভুলে যাওয়ার কথা নয়! যেকোনো কাপলকে নির্জনে বা নিজেদের ব্যক্তিগত পরিসরে পেয়ে নীতি শিক্ষা দিতে যাওয়া লোকগুলোর উদ্দেশ্য প্রায়ই মূলত দুটি হতে পারে:

প্রথমটা ছিনতাই ও চাঁদাবাজি। সুযোগ বুঝে ছেলে-মেয়ের হাত থেকে মোবাইল, ঘড়ি, গহনা বা টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়া।

দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হতে পারে মেয়েটির ওপর যৌন নিপীড়ন আর ছেলেটির ওপর নির্যাতন। পরিস্থিতি সুবিধাজনক দেখলে মেয়েটিকে যৌন হেনস্তা করা কিংবা তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো শুরু হয়।

আপনি যদি এমন ঘটনাগুলোর খবর নেন, দেখবেন অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের অপরাধ সামনে আসে।

যদি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে আক্রান্ত ওই দম্পতি বিবাহিত না হয়ে কেবল প্রেমিক-প্রেমিকা হতো, তবে সেখানেও যে ছিনতাই, নিপীড়ন বা ধর্ষণের মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটত না, তা হলফ করে বলা যায় না। প্রেমিক-প্রেমিকা হলে ঘটনাটি কোন দিকে গড়াত, সেটিও নিশ্চিত করে বলা যায় না। স্বামী-স্ত্রী হওয়াতেও যে ঘটনা ছিনতাই বা অ্যাসল্টের দিকে যেত না, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

সিলেট এমসি কলেজের ওই দম্পতিও বিবাহিত ছিলেন। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা যে নারীকে ধর্ষণ করেছিল, তিনি তাঁর স্বামীর সঙ্গেই সেখানে ছিলেন। এই কাপলের ভাগ্যেও এমন কিছু ঘটতে পারত, যদি তাদের বাসায় সিসিটিভি না থাকত। যথেষ্ট সুযোগ পেলে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চারজন অভিযুক্তও আরও হিংস্র হয়ে উঠত কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

আপনার আশপাশেই এমন অনেক সম্ভাব্য অপরাধী ঘুরে বেড়াচ্ছে, যারা সুযোগ পেলেই হিংস্র হয়ে উঠতে পারে। বন্ধুবান্ধব বা পরিচিত হিসেবে এদের এখনই চেনা এবং জীবন থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া জরুরি।

মোরাল পুলিশিংয়ের এই খেলা কেবল একদল বখাটে বা উগ্র মানসিকতার শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর আরেক রূপ দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের মধ্যেও।

দুই দিন পরপর কোনো কোনো হোটেলে এমনভাবে রেইড দেওয়া হয়, যেন ভেতরে কোনো ভয়ংকর জঙ্গি আস্তানা গেড়েছে কিংবা বড় কোনো ড্রাগ ডিল হচ্ছে! অথচ তল্লাশি চালিয়ে যাদের ধরা হয়, তারা প্রাপ্তবয়স্ক দুজন নর-নারী, যারা পারস্পরিক সম্মতিতে সেখানে সময় কাটাচ্ছিলেন। তারপর? থানায় নিয়ে বা হোটেলেই টাকা-পয়সা আদায় করে রফা করা হয়। অপরাধ দমন নয়, মূলত পকেট ভারী করাই থাকে এই রেইডগুলোর অন্তরালের উদ্দেশ্য।

আরেক দল পুলিশ আছে, যারা পার্কে পার্কে ঘুরে বেড়ায়। বড় কোনো অপরাধী ধরায় এদের দক্ষতা না থাকলেও প্রেমিক-প্রেমিকা ধরায় তারা এক পায়ে খাড়া! সঙ্গে থাকে ক্যামেরা বা ভিডিও করার লোক। এরা অবশ্য টাকার চেয়ে ফুটেজ আর সস্তা বাহবার কাঙাল। ক্যারিয়ারে কোনো সাফল্য নেই, থানায় কেউ পাত্তা দেয় না, আসল অপরাধীরা যাকে গুনেও ধরে না, সে তখন পার্কে গিয়ে সাধারণ প্রেমিক-প্রেমিকার ওপর নিজের ক্ষমতার হেডম দেখিয়ে আত্মতৃপ্তি খোঁজে।

নীতি-নৈতিকতার মুখোশ পরে যারা ঘুরে বেড়ায়, তাদের এই ছদ্মবেশের আড়ালে অনেক সময় লুকিয়ে থাকে চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা বিকৃত মানসিকতা। ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় এই অহেতুক সামাজিক ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক হস্তক্ষেপ বন্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি।

৫৬ পঠিত ... ১৭:০৫, আগস্ট ১৭, ২০২৬

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top