শোনেন, জীবনটা এখন হইলো গিয়া হাইওয়ে। সবাই দৌড়ের ওপর। থামার টাইম নাই, মায়ার গিট দেওয়ার সময় কই? আগে মানুষ প্রেম করতো, এখন মানুষ শিপ চালায়। রিলেশনশিপের জাহাজ যখন ফুটা হইয়া ডুবতে বসলো, তখন বাজারে আসলো সিচুয়েশনশিপ। কিন্তু সেইটাও নাকি এখনকার পাবলিকের কাছে অনেক লম্বা মনে হয়। তাই আমদানি হইলো ন্যানোশিপ।
ন্যানোশিপ হইলো গিয়া অনেকটা ট্রেনের জানালার ধারের সিটে বইসা থাকা মানুষের সাথে চোখের পলক পড়ার মতো। একটুখানি বাতচিত, একটু হাই-হ্যালো, একটু প্রেম-প্রেম ভাব। ব্যস, পরের স্টেশনে নামলেন তো সব ভ্যানিশ। কোনো নাম নাই, ঠিকানা নাই, ফোন নাম্বার এক্সচেঞ্জ নাই। তামাশা সিনেমার রণবীর-দীপিকার মতো, কর্সিকার রোদে ভাসলেন, কিন্তু কেউ কাউরে কথা দিলেন না।
এইটা হইলো গিয়া ইনস্ট্যান্ট নুডলসের চাইতেও ফাস্ট। সকালবেলা লিফটে কারো পারফিউমের গন্ধে মনটা একটু উদাস হইলো, দুইটা হাসাহাসি করলেন, লিফট থেইকা নামলেন তো আপনি একদম ফ্রেশ। কোনো মায়া নাই, কোনো প্যারা নাই। যে যার মতো নিজের ট্র্যাকে। এই যে ক্ষণিকের জন্য একটু মন দেওয়া-নেওয়া, কিন্তু তার কোনো ভবিষ্যৎ নাই, এইটাই ন্যানোশিপ। একটা ঘোরের মতো আসে, আবার ধোঁয়ার মতো উইড়া যায়।
এখন প্যাঁচটা লাগছে অন্য জায়গায়। আপনি ভাববেন সিচুয়েশনশিপ আর ন্যানোশিপ তো একই মাল, একই বোতলে ভরা দুই রকমের পানি। কিন্তু ঘটনা তা না।
সিচুয়েশনশিপ হইলো গিয়া অনেকটা ঝুলে থাকা অবস্থা। মায়া আছে, শরীর আছে, আবার আবেগও আছে। কিন্তু কোনো নাম নাই। আপনারা একসাথে ঘুরতেছেন, হাত ধরতেছেন, মাস পার হইয়া বছর গড়াচ্ছে, কিন্তু কেউ কাউরে বলতেছেন না যে, ভাই আমরা কি আসলে লাভার? ওইটা একটা লম্বা ধৈর্যের খেলা।
কিন্তু ন্যানোশিপ হইলো গিয়া টি-টেন ম্যাচের মতো। শুরু হইলো কি হইলো না, এর মধ্যেই ফিনিশ। সিচুয়েশনশিপে তাও একটা মায়া পইড়া যাওয়ার চান্স থাকে, কিন্তু ন্যানোশিপে মায়া হইলো গিয়া নিষিদ্ধ শব্দ। এখানে আবেগটা অনেকটা ডেটিং অ্যাপের সোয়াইপ করার মতো, মুহূর্তে আসলো, মুহূর্তেই হারাইয়া গেল।
সিচুয়েশনশিপ থেকে তাও কোনোদিন বিয়া-সাদির পিঁড়ি পর্যন্ত যাওয়ার ১% আশা থাকে, কিন্তু ন্যানোশিপে কোনো আশাই নাই, কোনো ভরসাও নাই। এখানে সবটাই লিকুইড।
তাই সাবধান! এই ন্যানোশিপের চক্করে পইড়া যদি কারো মনে শিলালিপির মতো প্রেম লেখার শখ জাগে, তাইলে তার কপালে দুঃখ আছে। একজন যখন মনে করবে, ‘আরে জাস্ট চিল’, আর অন্যজন যখন ওইটুকুন স্মৃতি নিয়া ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখবে, তখনই শুরু হয় আসল মানসিক টর্চার।
তাই হাত বাড়ানোর আগে বুইঝা নিয়েন, আপনি কি সাগরে ভাসতে আসছেন, নাকি জাস্ট এক চুমুক পানি খাইয়া বিদায় নিবেন। এই গেমটা সবার জন্য না, বস!



পাঠকের মন্তব্য