জাকসু আসছে দীর্ঘ ৩৩ বছর পর। ফলে ভোটারদের আবদারও যেন তিন যুগের সুদ-আসল মিলে একত্রে হাজির হয়েছে! তারুণ্যের প্রথম ভোট, যৌবনের প্রথম ভোট, কিন্তু শর্ত একটাই, আগে খাওয়াও পরে ভোট চাও। গতকাল ২৯ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে, ভোট প্রার্থীরা অনলাইন থেকে শুরু করে অফলাইন সব জায়গায় মুভ করে নিজেদের প্রচারণা করছেন, ভোট চাচ্ছেন, আশ্বাস পাচ্ছেন, আশ্বাস দিচ্ছেন।
জাকসু নির্বাচন কেন্দ্র করে ভোট চাইতে গিয়ে বিভিন্ন রকম অদ্ভুত সব আবদারের সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রার্থীদের। সম্পর্ক ভেদে এই আবদার বিরিয়ানি থেকে শুরু করে কাচ্চি কিংবা দই, মিষ্টি, কফি, ফালুদা কোনোকিছুই বাদ যাচ্ছে না। সরেজমিনে ঘুরে দেখতে পেয়েছি প্রার্থীরা আবদারগুলোকে লিস্ট করার জন্য আবদার ম্যানেজার নামে বিশেষ এক সহযোগী রাখতে বাধ্য হচ্ছে, ভোটে জিতলে কার কোন আবদার মেটানো হবে সেইটা লিখতে গিয়ে সেই সহযোগীও ফেসবুকে নিজের পার্সোনাল অ্যাসিস্টেন্টের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছে।
ভোট চাইতে গিয়ে সিগারেট বিষয়ক মধুর সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কিছু ভোটার কঠিন এক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে সিগারেটকে কেন্দ্র করে। সব প্রার্থীর কাছ থেকে দুই-তিনটা করে সিগারেট রেখে দিচ্ছে এই সিন্ডিকেট। অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানা গেছে এই সিন্ডিকেট আগামী ১১ তারিখ পর্যন্ত কয়েক কার্টন সিগারেট মজুদ করবে বলে উদ্যোগ নিয়েছে। নির্বাচনের আগের রাতে ক্যাম্পাস ত্যাগ করার পরিকল্পনাও আছে তাদের। সবার থেকে সিগারেট মেরে দিয়ে কাউকে ভোট না দেওয়াই হবে এই নির্বাচনে তাদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় চমক।
এদিকে সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদপ্রার্থীরা কঠিন এক চাপে আছেন। অঞ্জন দত্ত, কবির সুমন, মৌসুমি ভৌমিক, আনুশেহ আনাদিল আর কৃষ্ণকলিকে নিয়ে জাহাঙ্গীরনগরে যে একটা বিশেষ কনসার্টের আয়োজন করতে পারবে সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে তাকেই ভোট দিতে চাচ্ছেন সবাই। ১১ তারিখ যে-ই সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে জিতুক না কেন, কনসার্ট না করতে পারলে তার জন্য কোয়্যাগমায়ারের মতো পাবলিক শেমিং ইভেন্ট করতেও পিছুপা হবেন না শিক্ষার্থীরা।
ক্যাম্পাসের হলগুলোতে সন্ধ্যার পর থেকে মানুষজন বেশি থাকে বলে ভোটপ্রার্থীর আনাগোনা বেড়েছে। কিছুক্ষণ পরপর কেউ না কেউ এসে ভোট চাইছে বলে বুদ্ধিমানরা জটিল সব উপায় বের করেছে। কারও কারও রুমের দরজায় মোট ভোট সংখ্যা আর ভোটের চাওয়ার জন্য কি পরিমাণ টাকা দিতে হবে অ্যামাউন্ট লিখে রাখছে।
কিছুদিন আগ পর্যন্ত যেখানে ভোট বিক্রি হত, সেখানে জাকসু এসে ভোট চাওয়ার জন্য সময়-স্লট বিক্রি করছেন। ১০০, ৫০০, ১০০০ টাকার বিনিময়ে আপনি চাইলে নিজের জন্য, নিজের সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর জন্য ভোট চাইতে পারবেন, আর ১০০০ টাকা দিলে আপনি আপনার পুরো প্যানেলের জন্য ভোট চাইতে পারবেন।
ভোটের দিনে ভোট কেমন কাস্ট হবে সেটা বলা না গেলেও, ভোট চাওয়ার ক্ষেত্রে কমতি রাখতে চান না কেউ কেউ। এক ভিপি প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছেন, কেউ যদি ভোট দেওয়ার জন্য বাঘের দুধে গোসল করতে চায়, তাতেও আমার আপত্তি নাই, শুধু ভাই ভোটটা দিলেই হবে, বাঘের দুধ দোহনের ব্যবস্থা করব আমি।
এই মূহুর্তে সবচেয়ে ফুরফুরে মেজাজে আছেন ক্যাম্পাসের দোকানিরা। নেতাদের মিটিং কিংবা ভোটারদের আদর আপ্যায়নে কেউ পিছুপা হচ্ছেন না। পারলে একটু বেশিই আপ্যায়ন করে দিচ্ছেন। হাজার হলেও ৩৩ বছর পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন ফিরছে ক্যাম্পাসে। পরের নির্বাচন যদি আবার ৩৩ বছর পরে হয়? এজন্য যা কিছু করার সবাই এই নির্বাচনকে ঘিরেই করে নিচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য