মাঝে আটলান্টিক বহেরে

৪৪৫ পঠিত ... ১৬:০৯, মে ২৫, ২০২৩

Atlantic

প্রিয় রুখসানা,

দুঃসংবাদটা শুনছো নিশ্চয়ই। বধু তোমার আমার এই যে বিরহ একজনমের নহে। মনে পড়ে তুমি যখন ইডেন কলেজের গেট দিয়া বেণী দুলাইয়া বাইর হইতা; আমি বাদামের ঠোঙ্গা হাতে দাঁড়াইয়া থাকতাম কড়ই গাছের নীচে। প্রেম একবারই এসেছিলো জীবনে!

আজ রাতে এইসব কথা বুকের মধ্যে হাপর ফাঁফর করতেছে। তুমি আর এইদিকে আইসো না সোনা। কইছে লাইলাতুল ইলেকশনের আত্মীয় স্বজনের ভিসাও ক্যানসেল হইবো। তুমি একদম ঘাপটি মাইরা ঐহানে পইড়া থাহো লক্ষীটি।

পোলা-মাইয়াগুলি দেইহা রাইখো; কী সব আইস টাইস খায়। মাইয়ারে মিনি স্কার্ট পরতে নিষেধ করবা। খোদায় গুনা দিবো। পোলারে স্পোর্টস কারে বেশি স্পিড তুলতে নিষেধ করবা। দেখলা তো বেশি স্পিড তুইলা আমার কী হইলো।

আর লক্ষী বউ আমার; ঐখানে যেও না তুমি; কথা কইও না ইহুদি নাসারা পুরুষের লগে। প্লিজ আল্লার কসম লাগে; হাত কাটা জামা পইরো না!

বিশ্বাস করো পাপিয়ার আসরে আমি শুধু একবারই গেছিলাম; তাও কুচিন্তার খপ্পরে পইড়া। আর যাই নাইক্যা। তুমি আমার শত জনমের প্রেম মানিক।

বাড়ির ট্যাক্স-টুক্স দিও ঠিক মতো। নাইলে আবার সব যাইবো গিয়া। অরা আমগো বাড়ি বাজেয়াপ্ত করার তালে আছে।

আমগো ঐ হাজারিবাগের এক রুমের বাসাটাই ভালো ছিলো। কেন যে বড় লোক হওয়ার সাধ জাগলো। তুমি কইতা হাজারিবাগে ট্যানারির গন্ধ আসে। অহন হাতির ঝিলের পাশে গুলশানে আইসাও দেখি একই গন্ধ। দুর্গন্ধ আমার পিছ ছাড়ে না রুখসানা।

হয় না রুখসানা; ফইন্নি যতোই বিলওনিয়ার হইতে চেষ্টা করুক; শেষ পর্যন্ত ঠিকই ধরা খাইয়া যায়।

রাইতে ঘুমাইতে পারি না। নির্বাচনী এলাকায় প্রতিপক্ষ খতম করতে ক্রসফায়ার করাইছিলাম। অহন লাশগুলি আমার চারপাশ থিকা ডাক দেয়; ও টগর ভাই কেমুন আছেন!

আমি বেসিনে গিয়া বারবার হাত ধুই; তাও রক্তের দাগ আর যায় না।

নিজেরে দেশের মালিক ভাবছিলাম। ভুইলা গেছিলাম; বাপে আমার করাত কলে কাঠ ফাঁড়াই করতো। আমিও চেষ্টা করছি পাওয়ারের করাত কল দিয়া দেশটারে ফাঁড়তে।

ঐপারে তুমি আর এইপারে আমি; মাঝে আটলান্টিক বহেরে।

যাউক গিয়া; এইপারে ক্ষমতায় কামড় দিয়া বইয়া আছি। ঐপারে রুখসানা তুমি শুধু আমার থাইকোগো। আমি তোমারে ছাড়া বাঁচবো না রুখসানা। এইসব শো বিজের বান্ধবীরা; ডেন্টিং পেন্টিং কইরা ক্যাটরিনা কায়েফ সাইজা থাকে; কিন্তু রুখসানা তোমার তো ঐসব লাগে না; তোমার রুপের নেশা আমারে দিওয়ানা কইরা রাখছে বিশটা বছর। চুন্দরি প্রিন্টের ওড়না পইরা যেইদিন তুমি টিএসসি আসছিলা; আমার দোস্তেরা বলছিলো, ঐ পরীডা কেডারে!

হাইসা কইছিলাম; আমার রুখ রুখ রুখসানা।

দোহাই লাগে, আমার জীবনেই থাইমা থাইকো জানেমান; গুলজাবিন, দিলনাশিন; রুখ রুখ রুখসানা।

শুধু তোমারই টগর ওরফে

রাতের গণতন্ত্র

৪৪৫ পঠিত ... ১৬:০৯, মে ২৫, ২০২৩

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top