আওয়ামী আমলে লীগের হয়ে ট্রাকে নেচে-গেয়ে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য বিখ্যাত ছিলেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস এবং রিয়াজ। জাতীয় হোক কিংবা স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন সবখানেই দেখা যেত এদের। এই দুই তারকার নাচ-গান ছাড়া যেন কোনো নির্বাচনী মিছিল সম্পূর্ণ হতো না। ট্রাক উঠলেই দেখা যেত এদের ঘাম ঝরানো ‘এক্সট্রা এনার্জি স্টেপ।’ শুধু নাচ-গান নয়, দলকে মিডিয়ায় তেল দেওয়ার কৌশলেও তারা ছিলেন অদ্বিতীয়। বিশেষ করে রিয়াজ, যিনি ক্যামেরার সামনে আওয়ামী লীগের প্রশংসা করতে গিয়ে মাঝে মাঝে নিজের সিনেমার ডায়লগও ভুলে যেতেন।
এখন লীগও নেই এদের নাচন-কুদনও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অনেকদিন ধরেই গায়েব। এদিকে আওয়ামী লীগের পতনের পর আবার হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন, কিন্তু ট্রাকে রিয়াজ-ফেরদৌসের নাচ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারণা খুব একটা জমছে না বলে দাবি করেছেন ভোটার এবং পদপ্রার্থীরা। ডাকসু নির্বাচন মানেই ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তেজনা, পোস্টারবাজি, গলা ফাটানো স্লোগান আর ক্যাম্পাসজুড়ে হইচই। কিন্তু এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় যেন একটা বিরাট শূন্যতা অনুভব করছেন সবাই। ছাত্রছাত্রীদের দাবি—ট্রাকে উঠে রিয়াজ-ফেরদৌস না নাচলে এই নির্বাচন কোনোভাবেই উৎসবমুখর হবে না।
এখন ভোটারদের মধ্যে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে: ‘রিয়াজ-ফেরদৌস আসবে তো?’ এক প্রথম বর্ষের ছাত্র আমাদের প্রতিনিধিদের বলেন, ট্রাকে রিয়াজ ভাইয়ের নাচ না দেখলে ভোট দেওয়ার মুডই আসে না। ওটাই আমাদের জন্য আসল ইলেকশন ভাইব। তবে সরকারের পতনের পর থেকে তারা দুজনেই জার-জার ওবস্তান থেকে পলাতক থাকায় ছাত্ররা আছেন দোটানায়—ট্রাকে কি এবার এই ডুয়োর নাচ হবে না? নাকি পুরনো দিনের নস্টালজিয়াতেই কাটাতে হবে পুরো নির্বাচন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বিষয়টি নিয়ে নিজেদের শংকা জানিয়ে বলছেন, রিয়াজ-ফেরদৌস না আসলে ডাকসু নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৬০% থেকে নেমে যেতে পারে ১২% এ।
অন্যদিকে কিছু ছাত্র প্রস্তাব দিয়েছেন বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে ‘ডাকসু ড্যান্স প্রতিযোগিতা’ চালু করার। আসল না হোক এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কিছু ডামি রিয়াজ-ফেরদৌস পাওয়া গেলেও জমে উঠবে ডাকসু নির্বাচন, এমনটাই ধারণা করছেন কেউ কেউ।