যে কারণে নিজেকে আমার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতো লাগে

১৩৫৪ পঠিত ... ২২:১৯, জুলাই ১৪, ২০২০

 

আপনারা অনেকেই হয়তো আমাকে জাজ করতে পারেন, কিন্ত সত্যি বলতে, আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী লোকটাকে আমার ভালো লাগে।

ভালো লাগে বলতে, আসলে তাকে খুবই আপন আপন লাগে। আপন লাগে কারণ, নিজের সাথে প্রচুর মিল খুঁজে পাই। মাঝে মাঝে আয়নার সামনে দাঁড়ালে মনে হয় আমাকে না, এই আলাভোলা উদাসীন সহজ সরল মানুষটাকেই দেখছি।

আমি একজন সামান্য সাধারণ ক্ষমতাবান মামা-চাচাহীন মানুষ, কিঞ্চিৎ স্বাস্থ্য ভালো বটে, তবে মন্ত্রী হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আগামী বা বিগত (ডার্ক দেখছি) ১০০০ বছরেও নেই। তাহলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিল, কেমনে কি! হকচকিয়ে এই প্রশ্ন আপনি করতেই পারেন। তবে এই করোনাকালে যখন দেশের স্বাস্থ্য বিভাগকেই ফ্রন্টলাইন যোদ্ধার ভূমিকা নিতে হচ্ছে, তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নানান কথা, কাজ আমাকে বারবার যেন নস্টালজিক করে তুলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে একবার তিনি পিপিইকে বললেন পিপিপি। কী আশ্চর্য! টিচারদের সামনে স্কুলে আমিও এভাবে নার্ভাস হয়ে ভুলভাল উচ্চারণ বলতাম। একবার মানডে কে বললাম মণ্ডে, সে কি লজ্জা!

স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে এক সাংবাদিক ভিডিও কলে করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি 'কঠিন' প্রশ্ন করায় তিনি শান্তভাবে নেটওয়ার্ক প্রবলেম টাইপ একটা ভাব দেখিয়ে লাইনই কেটে দিলেন। আমাকেও যখন কলেজে স্যাররা প্রশ্ন করতো, মনে হতো ধরণী দ্বিধা হলে সোজা মাটির নিচে ঢুকে যেতাম! ভিডিও কল হলে যে নগদে কেটে দিতাম, এতে কোনো সন্দেহ নেই!

স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অফিসে পাওয়া যায় না। দিনের পর দিন তিনি অফিসে যান না। দাবি করেন, 'আমি যেখানে বসবো সেটাই অফিস!' সত্যি, কথাটা শুনেই খুব মনে পড়ছিল ভার্সিটি লাইফের কথা। দিনের পর দিন ক্লাসে যেতাম না। ক্যাম্পাসে গেলেও ক্লাসে থাকতাম না। টিএসসি, কার্জন এসব জায়গায় বসে থাকতাম। ঘাসের উপর শুয়ে শুয়ে ভাবতাম, 'আমি যেখানে বসবো সেখানেই ক্লাস!'

করোনার এমন সংকটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিংবা মন্ত্রণালয়ে কোথায় কী হচ্ছে, তিনি নাকি কিছুই জানেন না। একাধিকবার তিনি এই কথাটি মিডিয়ায় বলেছেন। আমার ভার্সিটি লাইফটাও যেন কেটেছে ঠিক এভাবেই, কোথায় কী হলো, কেমনে কী কিছুই জানলাম না!

এবার একটা রিজেন্ট, সরি, রিসেন্ট ঘটনাই বলি।

ভুয়া করোনা টেস্টসহ একাধিক বাটপারির কারণে ধরা খাওয়া রিজেন্ট গ্রুপ ও হাসপাতাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিল, নিশ্চয়ই জানেন। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ছিলেন। সেই অনুষ্ঠানের ছবিতে তাকে উৎফুল্ল এবং অংশগ্রহণমুখী মেজাজে দেখা যায়। কিন্তু ঐ অনুষ্ঠানে থাকলেও চুক্তির ব্যাপারে নাকি তিনি কিছুই জানতেন না। তিনি অবশ্য সেখানে ডিজি সাহেবের অনুরোধে গেছিলেন বলে জানিয়েছেন।

রিজেন্টের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চুক্তি অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তবে চুক্তির ব্যাপারে তিনি অবশ্য কিছুই জানতেন না...

খবরটা পড়ার পর আমি খুবই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি। ভার্সিটিতে পড়ার সময় এমন অনেক ক্লাসেই আমি উপস্থিত থাকতাম (বন্ধুবান্ধবের অনুরোধে), কিন্তু কী ক্লাস কোন কোর্স কী পড়াইতেছে, কিছুই জানতাম না। এমনকি মাঝে মাঝে পরীক্ষার হলেও উপস্থিত থাকতাম, কিন্তু কী পরীক্ষা, কোন কোর্স, কী সিলেবাস, কিছুই জানতাম না। কোর্স নাম্বারটাও পাশেরজনের কাছ থেকে দেইখা লেখার মতো অবস্থা...

এমন অনেক প্রেজেন্টেশনেও উপস্থিত থাকতাম, তবে কী টপিক গ্রুপ মেম্বার কারা আমি কোন গ্রুপে কী চলতাছে কাহিনী কী কিছুই জানতাম না।

একটা অমিল আছে। এসব নানাবিধ 'না জানা'র কারণে আমাকে অনেক ঝামেলা পোহাইতে হইছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এতসব ঝামেলা নাই। সব স্মুথ।

অমিলের কথা থাক। একটা মিলের কথা বলেই শেষ করি। এত না জানার পরেও স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিতে আমি ড্রপ আউট হই নাই, কোনোরকমে হলেও পাশ করে বের হয়ে গেছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীও ইহজগতের কিছুই যদি না জানেন, ড্রপ হবেন না ইনশাল্লাহ। অনন্তকাল পাশ করে বের হয়ে যেতে থাকবেন...

১৩৫৪ পঠিত ... ২২:১৯, জুলাই ১৪, ২০২০

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top