ভাষা আন্দোলনের মাস কয়েক পর জন্মেছিলেন তিনি এই ঢাকাতেই। বাবার বদলির চাকরির সুবাদে প্রথম জীবন কেটেছে দেশের নানান প্রান্তে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যাালয়ে ভর্তি হয়েছেন, এরপর সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। সেই সময়টায় বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দিয়ে পুরোদস্তুর বোহেমিয়ান জীবন কাটান বছর পাঁচেক। পরে আবার ভর্তি হন বিশ্ববিদ্যালয়ে, এবার জাহাঙ্গীরনগরে। তখনই পরিচয় হয় পরবর্তী সময়ে দেশের সবচাইতে অসাধারণ নাট্যকার সেলিম আল দীনের সাথে। তার আয়োজিত নাট্যোৎসবে নিজেরই লেখা, নির্দেশিত এবং অভিনীত নাটক মঞ্চত্ব করেন, যা কি না উৎসবটির সেরা নাটক হয়ে যায়। এই মানুষটা হুমায়ুন ফরীদি।
প্রথম অভিনয় কিন্তু এরও এক যুগ আগে মফস্বল শহরে আয়োজিত এক নাটকে। তখন কেই বা জানত এই মানুষটা অভিনয়কে নিয়ে যাবেন অন্য এক পর্যায়ে। মৃত্যুর পর যার তুলনা হবে মারলন ব্র্যান্ডোর মত অভিনেতাদের সাথে। অবশ্য ফরীদির তুলনা তিনি নিজেই। টিভি পর্দায় 'সংশপ্তক' এর 'কান-কাটা রমজান' কিংবা 'ভাঙনের শব্দ শুনি'র ধুরন্ধর 'সেরাজ তালুকদার' থেকে শুরু করে রূপালি পর্দার 'সন্ত্রাস', 'বিশ্বপ্রেমিক', 'পালাবি কোথায়', 'ভণ্ড' কিংবা শেষদিকে এসে 'ব্যাচেলর' সিনেমার ফরীদি নিজেই প্রতিনিয়ত নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। খলনায়কের জন্যও এ সিনেমা হলে দর্শকের স্রোত নামতে পারে তা বোধহয় ফরীদির আগে বাঙাল মুলুকে কখনো দেখা যায়নি।
পর্দায় বৈচিত্র্যময় ফরীদি বাস্তব জীবনে ছিলেন অসম্ভব প্রাণবন্ত একজন মানুষ, একইসাথে ছিলেন প্রচন্ড সাদাসিধে। হয়ত তাকে দেখা যাচ্ছে রিকশা করে কোথাও যাচ্ছেন, পাশের রিকশাতেই হয়ত কোন ভক্তের অবাক চাহনি টের পেলে স্মিত হাসিতে ভরিয়ে দিয়েছেন ভক্তের মন। কোথাও হয়ত তাকে আবিষ্কার করা যেত কোন চায়ের দোকানে চারপাশে প্রচন্ড ভিড়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে সবার সাথে হাসিমুখে বসে চা খাচ্ছেন। কাছের মানুষেরা তাকে প্রায়শই বলতে শুনতেন 'বাঁচো এবং এবং বাঁচতে দাও!'
প্রাণবন্ত অথচ সাদাসিধে জীবনের পর্দাকাঁপানো এই অভিনেতার জন্মদিনে তারই জীবনের কিছু মজার ঘটনা আজ থাকছে eআরকির পাঠকদের জন্য।
#১

#২

#৩

#৪

#৫



পাঠকের মন্তব্য