ভিঞ্চির যে তথ্যগুলো আপনি না-ও জানতে পারেন

১৬ পঠিত ... ১ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি (১৪৫২–১৫১৯)-র নাম জানেন না এমন মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে বিরল। তিনি এত বেশি মাত্রায় প্রতিভাবান ছিলেন যে, বলা হয় তিনি তাঁর সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন। আজও তিনি গবেষক ও বিশ্লেষকদের কাছে প্রচণ্ড আগ্রহের মানুষ। আগ্রহের যুক্তিসঙ্গত কারণও অবশ্য আছে। এক মানুষের ভেতরে এত কিছু থাকলে আগ্রহ তো হবেই, তাই না?

তিনি শুধু শিল্পীই ছিলেন না; একাধারে ছিলেন প্রকৌশলী, ভাস্কর, স্থপতি, বিজ্ঞানী এবং উদ্ভাবক, চিন্তা-ভাবনার এক আধার।

তিনি প্রায়শই ‘মিরর রাইটিং’ করতেন। মানে, লিওনার্দো তাঁর নোটবুক বা জার্নালে ডান দিক থেকে বামে উল্টো করে লিখতেন, যা আয়নায় ধরলে সোজা পড়া যেত। ধারণা করা হয়, তিনি যেহেতু বামহাতি ছিলেন, তাই কালির দাগ এড়াতে এটি করতেন; অথবা নিজের গোপনীয়তা রক্ষার জন্যও এমনটা করে থাকতে পারেন।

লিওনার্দো সব্যসাচী ছিলেন। মানে, তিনি তাঁর দুই হাতই সমান দক্ষতায় ব্যবহার করতে পারতেন। বলা হয়, অনেক সময় তিনি এক হাতে লেখা ও অন্য হাতে আঁকা একসঙ্গে করতে পারতেন।

তিনি ঘুমাতেন খুব অদ্ভুতভাবে। কিছু সূত্রে বলা হয়, তিনি ছোট ছোট বিরতিতে দিনে বহুবার ঘুমাতেন; একটানা দীর্ঘ ঘুম কম দিতেন।

তিনি পশুদের খুব ভালোবাসতেন এবং প্রায়শই খাঁচায় বন্দি পাখি কিনে এনে তাদের মুক্ত করে দিতেন। তাঁর সমসাময়িকরা বলতেন, তিনি নিরামিষভোজী ছিলেন।

দা ভিঞ্চি মানুষের মুখ দেখে চরিত্র আন্দাজ করার চেষ্টা করতেন। রাস্তায় লোকজনকে দেখে তাদের মুখভঙ্গি নোট করতেন।

তিনি প্রচণ্ড অলস ছিলেন এমন কথাও বলা হয়। তাঁর জীবনের অনেক কাজই শেষ করে যেতে পারেননি। বিখ্যাত Mona Lisa আঁকতে তাঁর অনেক বছর সময় লেগেছিল। Adoration of the Magi-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করেও তা অসমাপ্ত রেখেছিলেন।

তিনি শহরের জন্য ভবিষ্যৎধর্মী পরিকল্পনা করেছিলেন। দুই তলা রাস্তা, আলাদা ড্রেনেজ, পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা; অনেকটা আধুনিক শহর ভাবনার মতো।

তিনি যুদ্ধযন্ত্রও ডিজাইন করেছিলেন, ট্যাঙ্কের মতো গাড়ি, বিশাল ক্রসবো, হেলিকপ্টার, প্যারাসুট, দুর্গ ভাঙার যন্ত্র ইত্যাদি।

সঠিক চিত্রাঙ্কনের জন্য তিনি গোপনে মৃত মানবদেহ এনে ব্যবচ্ছেদ করতেন এবং পেশি ও হাড়ের গঠন অধ্যয়ন করতেন।

মোনালিসার হাসি এত রহস্যময় হওয়ার একটি কারণ হলো, তিনি খুব সূক্ষ্ম ছায়া-আলোর কৌশল ব্যবহার করেছিলেন, যাকে ‘স্ফুমাতো’ বলা হয়।

মজার ব্যাপার হলো, তাঁর কোনো প্রথাগত বা আনুষ্ঠানিক স্কুলশিক্ষা ছিল না। তিনি মূলত আত্মশিক্ষিত ছিলেন—পড়া, লেখা আর গণিত শিখেছিলেন।

তিনি নাকি অনেক সময় নিজের সঙ্গে নিজেই তর্ক করতেন। একই নোটে প্রশ্ন লিখে পরে তার উত্তর দিতেন।

তিনি রান্নাঘরের কাজেও আগ্রহী ছিলেন। কিছু কাহিনিতে তাঁকে অদ্ভুত রান্নার আইডিয়া দিতে দেখা যায়।

তিনি বৃষ্টির পানি, নদীর স্রোত, ঘূর্ণি এসব ঘণ্টার পর ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করতেন। পানির গতিবিদ্যায় তাঁর দারুণ আগ্রহ ছিল।

তাঁর নামের শেষে যুক্ত “দা ভিঞ্চি” কোনো পারিবারিক পদবি বা সারনেম ছিল না; এর অর্থ “ভিঞ্চি শহর থেকে আগত”।

তিনি চমৎকার বাঁশি ও লায়ার (এক ধরনের তারের বাদ্যযন্ত্র) বাজাতেন এবং গান গাইতেন।

তিনি অবিবাহিত বাবা-মায়ের সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সেই যুগে এটি সামাজিক কলঙ্ক হলেও, এই কারণে তিনি বাধ্যতামূলকভাবে বাবার পেশা (নোটারি) অনুসরণ করা থেকে বেঁচে যান—যা তাঁকে শিল্পী হওয়ার সুযোগ করে দেয়।

মৃত্যুর সময় তিনি আক্ষেপ করেছিলেন যে, তাঁর কাজ যে মানের হওয়া উচিত ছিল, সেই মানে পৌঁছাতে না পারায় তিনি ঈশ্বর ও মানবজাতিকে অসন্তুষ্ট করেছেন।

একজন চিত্রশিল্পী, ভাস্কর বা উদ্ভাবক, যাই বলা হোক না কেন, তার চেয়েও ব্যক্তি লিওনার্দো দা ভিঞ্চি অনেক বেশি কৌতূহলের বিষয় বলেই মনে হয়।

১৬ পঠিত ... ১ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top