হামে ২০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু ও ইন্টেরিমের দায়

পঠিত ... ২ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে

 

১.

ইন্টেরিমের সময়ে হামের টিকা নিয়ে যে কেলেঙ্কারি হয়েছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। কারণ পুরো ঘটনাটা বেশ ঘোলাটে ও অস্পষ্ট।
ইউনিসেফের কাছ থেকে টিকা কেনার যে সিস্টেম চালু ছিল, তা ভেঙে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের এই ‘মহাবৈপ্লবিক’ সিদ্ধান্তটি ঠিক কেন নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

২.

অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী প্রফেসর সায়েদুর রহমান এ বিষয়ে যে যুক্তি দিচ্ছেন, তা বেশ প্রশ্নবিদ্ধ ও অস্পষ্ট। তিনি বলছেন, ইমারজেন্সি প্রোকিউরমেন্ট সিস্টেম থেকে রেগুলার নিয়মতান্ত্রিক প্রোকিউরমেন্ট সিস্টেমে শিফট করা, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকার প্রয়োজন থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

৩.

এ প্রসঙ্গে কয়েকটি সাধারণ বিষয় ভাবা যায়।
প্রথমত, থিওরেটিক্যালি শুনতে যতই আরামদায়ক হোক, বাস্তবে পাবলিক হেলথ সেক্টরে ‘স্পিডি’ ও ইমার্জেন্সি প্রোকিউরমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি মানুষের জীবন-মরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি সেক্টর।
অন্তর্বর্তী সরকার এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আগে এর ফিজিবিলিটি, নিজেদের সক্ষমতা, বর্তমান স্টক, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা (টিকা দানকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা তখন আন্দোলন করছিলেন এবং অনেক টিকাদানকেন্দ্রে সেবাদান বন্ধ ছিল), এসব নিয়ে আদৌ কোনো রিসার্চ করেছিল কি?

দ্বিতীয়ত, অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট ও ইন্টেনশন নিয়ে এখানে প্রশ্ন তৈরি হয়। এ ধরনের টেকনিক্যাল ও সময়সাপেক্ষ পরিবর্তনের উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকার ঠিক কেন নিল? তারা কি ‘৫ বছর স্যার’-এর হিসাব কষছিল? কোনো সরকার যদি আগে থেকেই জানে যে তার মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বা দেড় বছর, তাহলে সে কেন এ ধরনের বিপজ্জনক, ঝুঁকিপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি র‍্যাডিকাল পলিসি শিফটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেবে, তাও পাবলিক হেলথের মতো ইমার্জেন্সি সেক্টরে?

তৃতীয়ত, সম্প্রতি ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে যে ইউনিসেফের বাংলাদেশ রেপ্রেজেন্টেটিভ রানা ফ্লাওয়ার্স সেসময়ই সরকারকে সতর্ক করেছিলেন এবং ‘আল্লাহর ওয়াস্তে’ এ কাজ না করার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি।

অর্থাৎ, সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়নি বা নিজেদের সক্ষমতা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়নি এমন নয়। তবুও সরকার স্বপ্রণোদিত হয়ে বেপরোয়াভাবে এই উদ্যোগ নেয়।

৪.

প্রশ্ন হলো, কেন? কার বা কাদের স্বার্থে? সাধারণত কোনো কারণ ছাড়া সরকার এ ধরনের বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নেয় না।
সায়েদুর রহমান যে যুক্তি দিচ্ছেন, তা একদমই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এ ধরনের স্পর্শকাতর, দীর্ঘমেয়াদি ও র‍্যাডিকাল পলিসি শিফটিংয়ের জন্য যে প্রস্তুতি, সক্ষমতা, রাজনৈতিক ম্যান্ডেট ও স্থিতিশীলতা দরকার, ইন্টেরিমের তার কোনোটাই ছিল না, সেটা যে কেউ জানে।

আবার ইন্টেরিম আমলে সব পাবলিক প্রোকিউরমেন্ট যে সবসময় দরপত্র আহ্বান করে করা হয়েছে, তাও নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের পাবলিক প্রোকিউরমেন্টের ওপর একটি শ্বেতপত্র প্রকাশিত হলেই তার সত্যতা পাওয়া যাবে।

আবার ইউনিসেফের মতো বিদেশি সংস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর ‘বিপ্লবী’ যুক্তিও ইন্টেরিমের ক্ষেত্রে খুবই বেকার ও হাস্যকর।

প্রশ্ন হলো, তাহলে কেন এত বড় একটি সিদ্ধান্ত তারা নিল?

৫.

দেশ ও জাতির স্বার্থে এই ‘কেন’-এর উত্তর দরকার। এবং দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সমাজ যে দাবিটি তুলছে, ইন্টেরিমের আমল নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ, সেটি করা জরুরি।
তবে সাধারণত বাংলাদেশে যা হয়, কিছু মিউচুয়াল স্বার্থভিত্তিক চুক্তির ভিত্তিতে শাসকগোষ্ঠীর লোকেরা একে অপরের দোষ গোপন রাখে। ফলে সঠিক তদন্ত হয় না। বরং এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্কোর অর্জন ও দর কষাকষির টুল হয়ে ওঠে।

অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশের সঙ্গে এ ধরনের বোঝাপড়া বর্তমান সরকারের থাকতে পারে, এই মর্মে কানাঘুষা আছে। তার কিছু লক্ষণও নির্বাচন আগে পরে স্পষ্ট হয়েছে। তাই বর্তমান সরকার মিউচুয়াল বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ‘দোষ গোপন রাখা’র দিকে এগোলে খুব বেশি অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

পঠিত ... ২ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top