ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে: নজরুল ও আব্বাসউদ্দীনের কালজয়ী সেই অমর সৃষ্টি

১০ পঠিত ... ৪ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে

 

 

সালটা আছিল ১৯৩১। আমাগো ঢাকা থেইকা কলকাতা,সব জায়গায় তখন গান-বাজনা মানেই হয় কাওয়ালি, না হয় আরবি-ফার্সি মারফতি। মাইনষে ভক্তিভরে মাথা ঝাকাইত ঠিকই, কিন্তু নিজের মাতৃভাষা বাংলায় যে খোদার নাম লন যায়, এই বুদ্ধি কারোর ঘিলুতে আছিল না।

হেই সময় আমাগো দয়াল কবি নজরুল ইসলাম তখন কলকাতায় গ্রামোফোন কোম্পানিতে তুখোড় ফর্মে। ভজন-কীর্তন লিখে ফালাইতাছেন। তো একদিন ২৩ বছরের আব্বাসউদ্দীন, নজরুলের দরবারে আইসা বললেন, কাজিদা, উর্দু কাওয়ালি তো মেলা শুনলাম, এবার আমাগো লিগা বাংলায় একটা ঈদের গান লেইখা ফালান তো! যাতে মুসলমানের ঘরেও গ্রামোফোন বাজে!

নজরুল প্রথমে একটু উঁকিঝুঁকি দিছিলেন, ভাবছিলেন মাইনষে কি আদৌও বাংলা গান শুইনা রোজা ভাঙব? কিন্তু আব্বাসউদ্দীন তো নাছোড়বান্দা! একদিন বৃষ্টির দুপুরে নজরুলের ঘরে ঢুইকা একদম তরী ভিড়াইয়া দিলেন। দরজা দিছেন বন্ধ কইরা, সাথে এক ঠোঙা জর্দা দেওয়া পান আর ধোঁয়া ওঠা চা। হুকুম হইলো;কাজিদা, এখনই লেখেন, আর এখনই সুর করেন। দেরি করলে তো আমেজ থাইকব না!

তারপরে যা হইলো হেইডা হইলো এক আলৌকিক কারবার! নজরুল মাত্র আধা ঘণ্টার মইধ্যে কলম ঘষলেন আর বাইর হইয়া আইল হেই কালজয়ী গান! 

ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এল খুশির ঈদ। 

পরের দিনই আবার আরেকটা গান লেখলেন, ইসলামের ঐ সওদা লয়ে এলো নবীন সওদাগর।

কিন্তু আসল গ্যাঞ্জাম পাকাইছিল গ্রামোফোন কোম্পানির বড়বাবু ভগবতী বাবু। উনি নাক সিটকা বললেন, আরে মিয়া, মুসলমানদের পকেটে তো ট্যাকা নাই, এই ঈদের গান কিনব কেডায়?

আব্বাসউদ্দীনও ছাইড়া দেওয়ার পাত্র না, ছয় মাস ঘইষা তলা ফকফকা কইরা অনুমতি আদায় করলেন।

১৯৩২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন রেকর্ড নম্বর N-4111 বাজারে আইল, পুরো বাংলা মুল্লুকে একদম আগুন ধইরা গেল! যে বাঙালি মুসলমান আগে গান-বাজনা থেইকা দশ হাত দূরে থাকত, হেরা পর্যন্ত হুমড়ি খাইয়া পড়ল। আব্বাসউদ্দীন নিজেই কইছিলেন, বাজারে-ঘাটে, গোরের মাঠে সব জায়গায় খালি নজরুলের গান বাজতাছে। 

আজ প্রায় ৯৫ বছর পার হইয়া গেল। ক্যাসেট গেল, সিডি গেল, এখন ইউটিউবের যুগ। কিন্তু শাওয়ালের চাঁদ উঠলে এই গান ছাড়া বাঙালির ঈদ আজও পানসে। টিভিতে যখনই এই সুর বাজে, তখনই মনে হয়, আরে ঈদ তো আইসা গেল! নজরুল আসলে গান লেখেন নাই, আমাগো বাঙালি মুসলমানের ঈদের এক্কেরে জাতীয় সংগীত দিয়া গেছেন।

১০ পঠিত ... ৪ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top