অদ্ভুত নামের মানুষ আর সেই মানুষগুলোর গল্প

৪০৫ পঠিত ... ১৬:০০, এপ্রিল ১৩, ২০২০

নামের রকমফের থাকবেই। কিন্তু চলতি পথে আমি এমন কিছু নামের মানুষের সাথে মিশেছি যা ভাবলে এখনো অবাক করে, এমন নামও মানুষে হয়। অবিশ্বাসও বা করি কীভাবে! তেমনি কিছু অন্যরকম মানুষের নাম নিয়ে আজকের স্মৃতিচারণ।

 

১. দেশের বাড়িতে পারিবারিক এক অনুষ্ঠান শেষ করে গাড়িতে উঠেছি ফিরে আসার জন্য। হঠাৎ এক ছেলে জানালা দিয়ে বলল, ফুপু কেমন আছেন? ভাল। কিন্তু তুমি কে? চিনতে পারলাম নাতো। বলল, ফুপু আমি ফিনিস। ফিনিস? বলল, হ্যাঁ ওই যে চারমিং, চয়েজ এর ছোট ভাই ফিনিস। পরে জানলাম ও ছোট সন্তান বলে নাম ফিনিস।

২. যথারীতি গ্রামের বাড়িতে ভাইবোনদের আড্ডা চলছে। একজন এলো দেখা করতে, সাথে তার ছেলেমেয়ে। কীরে ছেলে মেয়ের নাম কী? বলল, বালক আর বালিকা। এরকম নামের মানে কী, জানতে চাইলে বলা হলো ওর মা যখন এই বাসায় কাজ করতো, তখন শুনেছে বয় মানে বালক আর গার্ল মানে বালিকা। তাই নাম রেখেছে বালক আর বালিকা।

৩. বেশ আগে বড় চাচার বাড়িতে ঘরের টিনের চাল ঠিক করার কাজ চলছে। হঠাৎ শুনলাম আমার ভাই যে মানুষটি কাজ করছে তাকে উদ্দেশ্য করে বলছে, দইদা ঠিকমতো টিনখান টানি দেও। আমি অবাক হয়ে জানতে চাইলাম, দই? ওর নাম দই? ভাই বলল, হুম ওর নাম দই। ওর ভাইদের নাম ননী আর মাখন।

৪. বাড়িতে বসে গল্প করছি হঠাৎ এসে হাজির গ্যাদলা। আমরা ডাকি গ্যাদলাদা। গ্যাদলাদার অভিযোগ ওর বউ চ্যাপ্টি বেটির বিরুদ্ধে। কারণ চেপ্টি এনজিওর কাজ করে, তাই স্বামীর কথা মান্য করেনা। গ্যাদলাদার ভাষায়, “মোর বউ চেপ্টি এখন এনজিওত কাম কারে। নাগার বিড়ি টানেছে। আল্লাহ-ওসুলের নাম নাই,  স্বামীর প্রতি কোন ভক্তি, শ্রদ্ধা নাই। পাইসার দেমাগ দেখাছে। কিছু কইলে ঝামটি দিয়া উঠেছে।' উল্লেখ গ্যাদলার ভাইয়ের নাম হ্যাদলা।

৫. সেদিন আমি অফিসের কিছু জরুরি কম্পোজের কাজ করাবো বলে একজন কম্পোজারের খোঁজ করছিলাম। একজন একটি ফোন নাম্বার দিয়ে বলল, এই নাম্বারে যোগাযোগ করেন। উনি কাজটা করে দিবেন। ফোন করার পর ভদ্রলোকের সাথে কথা হলো। পরে জানতে চাইলাম, ভাই আপনার নামটাতো জানা হলো না। বলল, আমার নাম ডিবেট। আমি ভাবলাম আমি বুঝি ভুল শুনেছি। বলল, আপা ডিবেট। আমি থাকতে না পেরে জানতে চাইলাম ভাই ডিবেট কেন আপনার নাম? বলল, আমার বাবা ব্যাংকে কাজ করতো তাই আমার নাম ডিবেট আর ভাইয়ের নাম রিবেট।

৬. দাদার পিছে পিছে যে লোকটি সবসময় মোসাহেব হিসেবে উপস্থিত থাকতো, তার নাম ছিল হজো। সবাই ডাকতো হজো বেটা। হজো ব্যাটার চাকরি ছিল একটাই, দাদার কথায় সায় দেয়া। যেমন, দাদা যদি বলতো, হজো এবারের আমের ফলন বেশ ভালই হইছে, নাকি? সাথে সাথে হজো ব্যাটা বলতো, সেইত্তো জ্যাঠো, সেইত্তো খুবে ভাল ফলন হছে। আবার পরক্ষণেই হয়তো দাদা বলতো, হজোরে না এইবার আম কিন্তু ভাল হইলো নারে। সাথে সাথে আবার হজো ব্যাটা বলতো, হয় জ্যাঠো ঠিকই কছেন। আমের ফলন খুবে খারাপ হছে।

৬. আমাদের বাড়ির মসজিদে যে লোকটি নামাজ পড়াতো অনেক আগে তার নাম ছিল দ্যাল্লেত মুন্সী। দ্যাল্লেত মুন্সীজি লম্বায় ছিলেন প্রায় সাড়ে ছয় ফিট। শুকনা-পাতলা গড়ন। আর মাথাটা ছিল ছোট্ট একটা নারকেলের সাইজ। নাকে নাকে কথা বলতেন। ১৯৭৬ সালে আব্বা হজ্জ্ব করে আসার পর সবাইকে টুপি, তজবি বিতরণ করছেন বাড়িতে গিয়ে। দ্যাল্লেত মুন্সীর শখ হলো আব্বার মাথার টুপিটাই নিবেন। তাতে সওয়াব বেশি। আব্বা খুবই মোটাসোটা একজন মানুষ ছিলেন। মাথাটাও ছিল বেজায় বড় সাইজের। আব্বার দেয়া টুপিটি মাথায় দিয়ে দ্যাল্লেত মুন্সী যতোবার রুকু ও সিজদায় যেতেন, ততোবার তার টুপিটা মাথা থেকে খুলে পড়ে যেতো এবং ওই নামাজের মধ্যেই উনি টুপিটা তুলে মাথায় দিতেন। অন্যসময় ওনার মাথার তুলনায় প্রায় ৩ গুণ বড় টুপিটি মাথায় দিয়ে উনি যখন ঘুরতেন, তখন সেটা সত্যিই তার মাথায় রীতিমতো বনবন করে ঘুরতো।

৭. এছাড়া আত্মীয়দের মধ্যে আছে লিচু, কমলা, লেবু, বেদানা, আঙ্গুর। আছে ফিলিপাইন, ম্যানিলা, লাহোর এবং করাচি। আছে টুকু, টুনু, রুনু, ঝুনু ও বুনু। আপনার পরিচিত মানুষের এমন কোনো অদ্ভুত নাম থাকলে আমাদের জানাতে পারেন।

৪০৫ পঠিত ... ১৬:০০, এপ্রিল ১৩, ২০২০

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top