যে কারণে আড়ং ইস্যুতে কোন পক্ষে স্ট্যাটাস দেবো বুঝতে পারছি না

৩২৯ পঠিত ... ১৮:২৩, জুন ০৪, ২০১৯

আড়ং ইস্যুতে একটা লেখা লিখব বলে গত রাত থেকেই ভাবছি। কিন্তু কোন পক্ষ অবলম্বন করলে বেশি লাইক পাব— বুঝতে পারিনি বলে লিখে উঠতে পারছি না।

বুঝে উঠতে পারছি না— বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভোক্তা-অধিকার অধিদপ্তরের কর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে লিখলে বেশি লাইক পাব, নাকি ম্যাজিস্ট্রেটরা ব্যবসায়ীদেরকে অহেতুক হয়রানি করে দেশের অর্থনীতির বারোটা বাজাচ্ছেন লিখলে বেশি লাইক পাব। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহার করে তা কেবল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের হাতে রাখার পক্ষে রাখলে লাইক কত পাব, সেটাও বুঝে উঠতে পারছি না।

আড়ংকে জরিমানা করার কারণেই আলোচ্য উপ-পরিচালকটিকে খুলনায় রপ্তানি করা হয়েছিল লিখলে বেশি লাইক মিলবে, নাকি অতীতে তিনি অন্য দানবদেরকেও জরিমানা করেছেন বলেই তিনি খুলনার ভিসা পেয়েছেন লিখলে বেশি লাইক মিলবে— তাও ঠাহর করতে পারছি না। মালুম করতে পারছি না— আড়ং তৃণমূল শ্রমিকদের কাছ থেকে একশো টাকা দিয়ে পণ্য কিনে এনে লোগো সেঁটে আটশো টাকায় বিক্রি করে শ্রমিকদেরকে শুষে-চুষে খাচ্ছে লিখলে বেশি লাইক জুটবে, নাকি তৃণমূল থেকে পণ্য কিনে আড়ং পঞ্চাশ হাজার শ্রমিকের জীবন বাঁচিয়ে রেখেছে লিখলে বেশি লাইক জুটবে।

শুধু আড়ংকে বর্জন করার আহ্বান জানালেই বেশি লাইক আসবে; নাকি আড়ংয়ের পাশাপাশি ব্র্যাকের অন্যান্য অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ব্যাংক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, বিকাশ— এসবকে বর্জন করার আহ্বান জানালে বেশি লাইক আসবে; তাও বুঝে উঠতে পারছি না (বিকাশে বই বেচি বলে পারছি না বিকাশ বর্জনেরও ডাক দিতে)। আর কখনও আড়ংয়ে কেনাকাটা করতে যাব না— লিখলে বেশি বাহবা পাব, নাকি আড়ংয়েই কেনাকাটা করে দেশের টাকা দেশে রাখব লিখলে বেশি বাহবা পাব; ধরতে পারছি না (ওদিকে ইদ উপলক্ষে উপহার পাওয়া তিন পাঞ্জাবির মধ্যে আড়ংয়েরটাই ইদের দিন পরব বলে এক সপ্তাহ আগে ধুয়ে ইস্ত্রি করিয়ে রেখেছি। আগামীকাল ইদ হলে অন্য পাঞ্জাবি আজকের মধ্যে ধুয়ে শুকোনোও যাবে না, সিরিয়াল পাওয়া যাবে না লন্ড্রিতেও)।

ব্র্যাকের মালিক ফজলে হাসান আবেদ কারো চোখে নাইটহুড খেতাবপ্রাপ্ত ম্যাগসেসে পদকধারী বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদ, কারো চোখে তিনি হিলারির পা-চাটা দালাল। এই মুহূর্তে আবেদ-বন্দনা করলে বেশি লাইক কুড়োতে পারব, নাকি ইদ-উল-ফিতরের প্রাক্কালে আবেদের চামড়া তুলে ফ্রিজে রেখে ঐ চামড়া ইদ-উল-আজহায় বিক্রি করলে বেশি লাইক কুড়োতে পারব; সেই পালসও ধরে উঠতে পারছি না।

ঐ উপ-পরিচালককে বদলি করতে রাষ্ট্রপতি কেন কীভাবে আদেশ দিলেন— এই মর্মে রাষ্ট্রপতিকে ধুয়ে দিলে বেশি 'আপনি পারেনও, ভাই' পাব, নাকি আমাদের সহজ-সরল আলাভোলা রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হয়েছে লিখে তার অনাড়ম্বর জীবনযাপন নিয়ে একটা মর্সিয়া ফাঁদলে বেশি 'একদম কাঁদিয়ে ছাড়লেন, ভাই' পাব— এটি বোঝাও এই মুহূর্তে দুষ্কর। বদলির আদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় ধন্যবাদটা প্রধানমন্ত্রীকে, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীকে নাকি ছাত্রলিগের সেক্রেটারিকে দিলে লাইকসংখ্যা বেশি হবে— এ নিয়েও দ্বন্দ্বে আছি।

ফেসবুকে মাঝে-মাঝেই এমন কিছু ইশু আসে, যেগুলোয় বিবদমান সব পক্ষের বক্তব্য পড়েই ওয়াজ মাহফিলের একান্ত বাধ্যগত শ্রোতাদের মতো বলতে ইচ্ছে করে— ঠেক, ঠেএক, ঠেএএক। আড়ং আমাকে আজ এরশাদের মতো দ্বিধায় ফেলে দিয়েছে। আজ কোনোভাবেই জোরগলায় বলতে পারছি না— লক্ষ্য আমার পক্ষ নেওয়া।

আজ বাদে কাল ইদ, আমার এখন দরকার লাইক। এই পোস্টে হাজার পাঁচেক লাইক পেলে ভোরে কারওয়ানবাজারে লাইকগুলো বেচে পাঁচ প্যাকেট সেমাই কিনতে পারব। লাইকের পাইকারদেরকে বলে এসেছি ইদের দিন ভোরেই আমি লাইক নিয়ে চলে আসব। পাইকারদের কাছে আমার মান বাঁচাতে লাইকাররা এগিয়ে আসুন।

৩২৯ পঠিত ... ১৮:২৩, জুন ০৪, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top