বিবর্তন

১৫ পঠিত ... ১৫:৫৬, মার্চ ২৫, ২০২৬

বিয়ের পিঁড়িতে বসার সাথে সাথে মানুষটার খোলস বদলে যায়,
প্রেমিক নামের সেই সত্তাটা কর্পূরের মতো উড়ে গিয়ে সেখানে জাঁকিয়ে বসে এক ‘স্বামী’।
যার হাতে ঘড়ি আছে, ক্যালেন্ডার আছে, কিন্তু প্রিয়তমার জন্য জমানো কোনো মুহূর্ত নেই।

প্রেমিক থাকতে যে কর্কশ চিৎকার সুর মনে হতো,
স্বামী হওয়ার পর সেই কণ্ঠস্বরই যেন কানের পর্দায় বিঁধে থাকা তপ্ত সিসা।
ভাতের পাতে লবণের পরিমাণ কিংবা তরকারির ঝাল—
এখন এসবই জীবনের মুখ্য ব্যাকরণ, চোখের জলের চেয়েও দামী।

প্রেমিকরা কি অনুমতি দিত? না, তারা তো শ্রদ্ধায় নত হয়ে থাকত।
অথচ এখন স্বামীরা দয়ার সাগর হয়ে স্ত্রীকে শ্বাস নেওয়ার অনুমতি দেয়!
কি অদ্ভুত মহানুভবতা! বেঁচে থাকার অধিকারটাও যেন তার দয়ার দান।

সেই কবি, সেই সাহিত্যিক, সেই রোমান্টিক পুরুষটা আজ কেবলই এক যান্ত্রিক কর্মজীবী।
অফিসের ক্লান্তি আর ত্যাগের খতিয়ান শোনানোই যার একমাত্র আলাপ।
স্ত্রীর কান্নার শব্দ শোনার জন্য চারপাশের দেয়াল ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট থাকে না।

আগে সাধারণ সাজেও যে চোখ দুটো মুগ্ধতায় ভিজে যেত,
আজ যত্ন করে পরা শাড়ির ভাঁজগুলোও তার চোখে পড়ে না।
প্রেমিক যখন স্বামী হয়, সে কেবল স্বামীই থেকে যায়,
ভেতরের সেই প্রেমিক মানুষটা কবেই যেন অপঘাতে মারা পড়ে।

১৫ পঠিত ... ১৫:৫৬, মার্চ ২৫, ২০২৬

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ


Top