ফুকোও কেন আঙ্গুল চুষছেন?

৩৯৮ পঠিত ... ১৫:৪০, অক্টোবর ০২, ২০১৯

ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোকে চেনে না বাংলাদেশে এমন ইন্টেলেকচুয়াল পাওয়া যাবে না। ফরাসি এই দার্শনিকের বই থেকে কোট না করলে এখন আর বুদ্ধিজীবী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া যায় না। কারণ তাঁর বইগুলো খুব কঠিন, দাঁত বসানো যায় না। তাছাড়া দার্শনিকদের মধ্যে একমাত্র মিশেল ফুকোরই করোটি আছে। আর কারও নাই।

এমনিতে ফুকোর জীবনে এমন কোনো গুপ্ত বিষয় ছিল না। এমনকি তাঁর সমকামী স্বভাবও প্রকাশ্যই ছিল। সে কারণে ফুকোর এই ছবিটা নিয়ে eআরকি টিমের খটকা লেগেছে।

কথা হলো ফুকোকে এমন চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন? আর তিনি এভাবে আঙ্গুলই বা চুষছেন কেন?

ছবিটার দিকে ভালো করে তাকালে ফুকোর চোখেমুখে একটা অসহায় আতঙ্কিত চাহনি কারো নজর এড়াবে না।

কী এমন বিপাকে পড়েছিলেন ফুকো?

এ ব্যাপারে eআরকি টিম অনেক ঘাঁটাঘাটি করেছে। তাদের অনুসন্ধানের প্রাথমিক ফলাফল এখানে তুলে ধরা হলো:

ঢাকা শহরে ক্যাসিনো ব্যবসা কী করে সবার চোখের সামনে এমন রমরমা হয়ে গেল, পুলিশ, প্রশাসন ও সাংবাদিকেরা কী করছিলেন--এইসব নিয়ে ভাবতে গিয়ে ফুকো যে আঙ্গুল চুষছিলেন না, এটা নিশ্চিত। কেননা ছবিটা ১৯৭৮ সালে তোলা। আর ফুকো এই ক্যাসিনোকাণ্ডের অনেক আগেই ১৯৮৪ সালে দেহ রেখেছেন। তবে শোনা যায়, এই সময় (১৯৭৬ ও ১৯৭৮) থেকে নাকি ঢাকাসহ বাংলাদেশের বড় শহরগুলোকে জুয়ার নিষেধাজ্ঞার বাইরে আনা হয়েছিল। সেক্ষেত্রেও ফুকোর দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ার কারণ নেই।

ফুকোর প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দার্শনিক রলা বার্থ ও জাঁক দেরিদা কিছুদিন ধরেই ফুকোর সঙ্গে লেংড়িবাজি করছিলেন। দুজনে হাত মিলিয়েছিলেন ফুকোর বিরুদ্ধে। সম্ভবত ওইদিন দুপুরবেলা এসে এদুজন তাঁকে ‘দেখে নেবেন’ বলে শাসিয়ে গেছেন। ভাবা যায়! রলা না হয় বয়সে বছর দশেকের বড়। কিন্তু দেরি তো জুনিয়র। বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাভঙ্গি উঠে গেছে! এই জন্যেও ফুকোকে চিন্তিত দেখানোর কারণ নেই। দার্শনিকদের মধ্যে লাগাবাজা নিয়মিত ব্যাপার।

নিবিড় অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে ফুকোকে ঢাকা থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ঢাকার বুদ্ধিজীবীদের সামনে একটা বক্তৃতা দিতে। ভেন্যু ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ফুকো তাতে সায় দিয়ে ফেলেছিলেন। শোনা যায়, বাংলাদেশে রওনা দেওয়ার আগে তিনি এখানকার বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে কিছু খোঁজখবর নিয়েছিলেন। তাঁদের লেখা জোগাড় করে পড়েছিলেন। এই ছবিটা ফুকোর বাংলাদেশের রওনা দেওয়ার আগের দিন তোলা।

পুনশ্চ: ফুকোকে বাংলাদেশে পা রাখতে হয়নি। তাঁকে বহনকারী ফরাসি বিমান আলজিয়ার্সে জরুরি অবতরণ করে। একজন যাত্রীর প্রবল খিঁচুনি এসেছিল। তাঁকে দ্রুত আলজিয়ার্স ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুদিন থেকে সুস্থ হয়ে ওই যাত্রী সেখান থেকে প্যারিসে ফিরে যান। যাত্রীটির নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন অনেক পরে বলেছিলেন, খিচুনির শিকার রোগী চান্দিছিলা ছিলেন।       

৩৯৮ পঠিত ... ১৫:৪০, অক্টোবর ০২, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top