বিশ্ব কফি দিবস: কফি নিয়ে মজার গল্প, কৌতুক ও উক্তি

২৯৮০ পঠিত ... ২০:৫৪, অক্টোবর ০১, ২০১৮

কফি নিয়ে আমাদের দেশে খুব একটা মাতামাতি না থাকলেও বাকি দুনিয়ার হিসাব করলে কফি পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর একটি। পানি আর চায়ের পর বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি যে পানীয়টি পান করা হয়, তা হলো কফি। চীন, ভারতের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে চা সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় হওয়ায় কফির এই র‍্যাংকিংয়ে এক ধাপ নেমে যেতে হয়েছে। তবে এক আমেরিকাতেই কফি বিক্রি হয় মিনারেল ওয়াটার কিংবা সোডা ওয়াটারের চাইতে বেশি। এমনকি এখন আমাদের দেশেও এতো শত ক্যাফে হয়ে গিয়েছে আর সেখানে পাওয়া যাচ্ছে হরেক রকমের কফি; অর্থাৎ কফি আমাদের দেশেও এখন শহরাঞ্চলে বেশ গুরুত্বপূর্ণ পানীয়।

আজ ১ অক্টোবর বিশ্ব কফি দিবসে eআরকির পাঠকদের জন্য থাকছে কফি নিয়ে সাতকাহন (এবং একটি কাহন বোনাস)! 

 

১# সেরেনা উইলিয়ামসের কফিপ্রেম

 

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে হপম্যান কাপের এক ম্যাচে টেনিস সুপারস্টার সেরেনা উইলিয়ামসের প্রতিপক্ষ ছিলেন ফ্লাভিয়া প্যানেটা। প্রথম সেটে সেরেনাকে ৬-০ গেমে হারিয়ে দেন ফ্লাভিয়া। দ্বিতীয় সেটের আগে নিজেকে চাঙ্গা করার জন্য সেরেনা আম্পায়ারের সাথে কথা বলে জাস্ট এক কাপ কফি খাওয়ার অনুমতি চেয়ে নেন।

এক বলগার্ল তার জন্যে নিয়ে আসে এক কাপ তিতকুটে স্বাদের এসপ্রেসো। সেরেনা সেই কফি পান করে আবার ম্যাচে ফিরে আসেন। পরের দুই সেটের ফলাফল ৬-৩ এবং ৬-০। দুটোই সেরেনার পক্ষে। প্রথম সেটে হেরে এভাবেও ফিরে আসা যায়, তাও ছোট্ট এক কাপ এসপ্রেসোর সাথে। সেরেনা যেন কফির হয়ে এক বিশাল ব্র্যান্ডিং করে দিলেন।

 

২# কফিকুলের মাঝে নিগৃহীত চা!

 

৩# সন্তানের বইয়ের পাতা ছিড়ে ধনী বনে যাওয়া মা

১৯০৮ সালের আগে কফির ছাঁকনি হিসেবে কাপড়, সাধারণত লিনেন, ব্যবহার হতো। এমনকি কখনো কখনো মোজাও ব্যবহার করা হত ফিল্টার হিসেবে। কিন্তু এই কারণে প্রায়ই কফিতে একটা বাজে স্বাদ পাওয়া যেত। জার্মান গৃহিণী মেলিটা বেন্টজ এই স্বাদে খুবই বিরক্ত ছিলেন।

তিনি একদিন সন্তানের স্কুলবইয়ের পাতা ছিড়ে তা দিয়ে নিজেই ফিল্টার বানিয়ে নিলেন। সেই ফিল্টার ব্যবহার করে কফি বানিয়ে তা খেয়েই হয়ত তার মাথায় চলে আসল চমৎকার বুদ্ধি। মেলিটা তার এই উদ্ভাবনকে খুব দ্রুতই পেটেন্ট করিয়ে ফেলেন।

এরপর এই পেপার ফিল্টার তাকে করে দিয়েছিল প্রচণ্ড টাকা পয়সার মালিক!

 

৪# ভ্যাম্পায়ারের কফিতে এলার্জি!

 

৫# ইউরোপে কফির প্রসার এবং একজন পোপ

দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা বিশ্বে, ঠিক করে বলতে ইউরোপে কফি সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এই পনের শতকেও ইউরোপের কোথাও কেউ কফি চিনত না। তখন কফি শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্য আর উত্তর আফ্রিকার একাংশেই পাওয়া যেত। ষোল শতকের মাঝামাঝি সময়ে কফি ইতালিতে প্রবেশ করার মাধ্যমে ইউরোপিয়ানরা প্রথমবারের মত কফির দেখা পায়।

সেই সময়ে ইতালিতে, বিশেষ করে ভেনিসে, কফির চাহিদা বাড়তে থাকে। আরবরাও সুয়েজ খাল দিয়ে কফির বিনিময়ে নানান দ্রব্য বিনিময় করত। কিন্তু কফি জনপ্রিয় হতে থাকলে ইতালির গোঁড়া খ্রিস্টানদের এক অংশ কফিকে ‘মুসলিম পানীয়’, ‘শয়তানের পানীয়’ ইত্যাদি নানা নামে অভিহিত করতে থাকে।

তখন তৎকালীন পোপ অস্টম ক্লেমেন্ট এসব কথার প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেন যে, এই সুস্বাদু পানীয় শুধুমাত্র আরবদের পান করতে দেয়াটা একটা পাপ। তিনি যেন একরকম উৎসাহই দেন ইউরোপের সকল ক্যাথলিকদেরকে কফি পানের জন্য। ইউরোপের লোকজন পোপ ক্লেমেন্টকে ধন্যবাদ দিতেই পারেন।

 

৬# শীতনিদ্রায় ব্যস্ত ভালুকদলের এক ইনসমনিয়াক ভালুক 

 

৭# কফি নিয়ে নিয়ে হুলস্থূল

আমেরিকার নিউ মেক্সিকো প্রদেশের অ্যালবাকার্কি শহরকে দুনিয়াজোড়া মানুষ চেনে ‘ব্রেকিং ব্যাড’ টিভি সিরিজের কল্যাণে। এই শহরেই ১৯৯২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি স্টেলা লাইবেক নামক এক ৭৯ বছর বয়সী ভদ্রমহিলা কফি কিনতে যেয়ে মোটামুটি ইতিহাসের অংশ হয়ে যান।

নাতির সাথে গাড়িতে করে স্থানীয় ম্যাকডোনাল্ডসের ব্রাঞ্চ থেকে কফি কিনতে যান। গাড়ির জানালা দিয়েই কফির কাপ হাতে পান। এরপর তিনি কাপের ঢাকনা খুলে ফেলেন আর তখনই এক্সট্রা ক্রিম আর চিনির জন্য নাতি গাড়ি চালিয়ে সামনের জানালার কাছে চলে যান। গাড়ির ঝাঁকুনিতে প্রায় ৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার (সাধারণত বাড়িতে কফি মেশিন দিয়ে বানানো কফির তাপমাত্রা হয় ৫৫-৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াল) কফি তার কোলে ছলকে পড়ে। থার্ড-ডিগ্রি বার্নের শিকার এই বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় বেশ অনেকদিনের জন্য। তার শরীরের ৬% পুড়ে যায়।

স্টেলা ম্যাকডোনাল্ডসের কাছে ২০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণের মামলা করে বসেন। তখন এই ফাস্টফুড জায়ান্ট এই টাকা দিতে অস্মমতি জানায়। কিন্তু তখন এই মামলার সময়ে কেঁচো খুড়তে সাপ বের হয়ে আসে। জানা যায়, আমেরিকাজুড়ে ম্যাকডোনাল্ডসের কফিতে পুড়ে যাওয়া বিষয়ক প্রায় ৭০০ অভিযোগ আছে।

পরবর্তীতে স্টেলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে আদালত ২ লক্ষ ডলার জরিমানা করে ম্যাকডোনাল্ডসকে। পরে অবশ্য এই ক্ষতিপূরণ কমিয়ে ১ লক্ষ ৬০ হাজার ডলারে নিয়ে আসা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, কফি ছলকে পড়ায় স্টেলা লাইবেকের ভুল ছিল ২০%। এখানেই শেষ নয়, আদালতের আদেশে ম্যাকডোনাল্ডস ক্ষতিপূরণ হিসেবে স্টেলাকে দেয় আরও ২৭ লক্ষ ডলার।

এই মামলা পরবর্তী সময়ে লক্ষ্য করা যায়, ম্যাকডোনাল্ডসের কফির তাপমাত্রা ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে।

 

৮# 

২৯৮০ পঠিত ... ২০:৫৪, অক্টোবর ০১, ২০১৮

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top