রন্ধন নন্দীর চাওমিন

৪২ পঠিত ... ১৯ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে

দূতাবাস কর্মকর্তাদের পরিবারবর্গকে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে; এখবর শুনে বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিবার দাবি করে, আমাদেরকেও ফিরিয়ে নেওয়া হোক; এখানে দম আটকে যাচ্ছে।

অগ্নিহোত্রী কয়েকজন হানিট্র্যাপারের ফোন পায়। সবাই বলছে, এতদিন অখণ্ড মাতার সেবা করেও কি পরিবারের সদস্য হতে পারিনি; মুঝে ওয়াপস লো।

অগ্নিহোত্রী তাদের বোঝায়, তোমরা না থাকলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কে করবে গো!

সাউথব্লকে বৈঠক বসে। বিজিত দোভালকে সমস্যার কথা জানায় অগ্নিহোত্রী। কালচারাল ফ্যামিলি মেম্বাররা সবাই এখানে আশ্রয় চাইছে।

বিজিত দোভাল চমকে ওঠে, পাগল নাকি! ফুল ফ্যামিলি রবিনসন এলে খেতে দেবো কোথা থেকে! আমাদের রিসোর্স সীমিত। গত দেড় দশকের সব ইনভেস্টমেন্ট সাংককস্ট।

বিমর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলে, ফেয়ার ইলেকশন হলে শত্রুপক্ষ ক্ষমতায় আসতে পারবে না। বন্ধুপক্ষ ক্ষমতায় এলে তখন বুবুপক্ষকে পুশ ইন করা যাবে। এই শরণার্থীদের বোঝা ঘাড় থেকে না নামালে আর পারা যাচ্ছে না।

বিজিত দোভাল আক্ষেপ করে, ভুতুম লাহিড়ী তার বাংলাদেশ অ্যাট ক্রস রোড শীর্ষক অনুষ্ঠান জমাতে পারেনি। হাশিনাকে ওদেশের মানুষ যা যা বলে গালি দেয়, হাশিনা ঠিক ঐ ঐ গালি ইউনুশকে দিয়েছে; এভাবে কপি পেস্ট করে হয় নাকি! নতুন গালি তৈরি না করলে কি ন্যারেটিভ দাঁড় করানো যায়। অগ্নিবীণা সিক্রির উচিত ছিলো ক্রিপ্টটা ভালো করে দেখে দেয়া। যারা লিখে দিয়েছে ওগুলো বোকার হদ্দ।

অগ্নিবীণা সিক্রি খ্যাস খ্যাস করে বলে, শশী থরো থরোর সাহায্য চেয়েছিলাম স্ক্রিপ্ট লেখার জন্য; সে বললে, আপনারা অযথা একটা বৃদ্ধ ঘোড়া দিয়ে জুরিগাড়ি চালাতে চাইছেন; অন্তর্জলী যাত্রার বুড়ি দিয়ে কি কাম ব্যাক করা যায়।

কক্ষজুড়ে দীর্ঘশ্বাস। মাথায় হাত দিয়ে বসে ফুলকি শর্মা। সে বলে, দ্য প্রিন্সকে নিয়ে চেষ্টা করা যেতে পারে।

সিক্রি উত্তর দেয়, দেখলাম তো, দ্য প্রিন্স ইজ ফুল অফ সাউন্ড অ্যান্ড ফিউরি সিগনিফাইং নাথিং। পরনের স্যুট ছাড়া আর কোন কিছুই ভালো ছিলো না। আমাদের পাপ্পুটাও এর চেয়ে বেটার।

দোভাল বলে, ভাবছি, এরা কি লায়াবিলিটি হয়ে গেলো! ফটোশপ করে পুলিশের রক্তাক্ত ছবি দিয়ে কিসব গপ্পো বানিয়ে ফলকার তুর্কের কাছে পাঠিয়েছে! এর চেয়ে বলিউডকে দিয়ে একটা ফিল্ম বানালে ভালো ফল দেবে।

ফুলকি শর্মা বলে, মেট্রোরেল ইজ ফলিং ডাউন নাম হতে পারে মুভিটার। হাসিনা অশ্রুসজল চোখে মেট্রোরেলের ক্ষয়ক্ষতি দেখছেন; সেখান থেকে শুরু করে আরাফাত পোড়া টিভি স্টেশনে বসে; আর শহর জুড়ে তরবারি হাতে দাড়ি টুপি-চোখে সুরমা; গলায় তাবিজ।

বিষাদ বর্ধন শ্রিংলা পরামর্শ দেয়,  ফুলকিজি চিত্রনাট্য লিখে ফেলুন। ২৬ মার্চে ফিলিম রিলিজ করতে পারলে ভালো হয়।

এসময় কাঁচুমাচু ভঙ্গিতে কক্ষে ঢুকে ভুতুম লাহিড়ী। সে বাংলাদেশ অ্যাট ক্রস রোড অনুষ্ঠানের ফিডব্যাক নিতে এসেছে। কাতর চোখে তাকিয়ে থাকে।

অগ্নিহোত্রী এসে তাকে কানে কানে বলে, অনুষ্ঠানের খরচের হিসাবটা অ্যাকাউন্টস সেকশনে দিয়ে মানে মানে কেটে পড়ুন মশয়। নইলে দোভালজি আপনাকে জল দিয়ে জ্যান্ত গিলে খাবে!

ভুতুম লাহিড়ী চলে যাবার ভঙ্গি করতেই দোভাল হুংকার দেয়, আপনি যে এত বড় অপদার্থ তা তো আগে বুঝিনি। এত টাকার শ্রাদ্ধ করে এমন ফ্লপ শো করেছেন; আবার কোন মুখে এখানে এসেছেন।

দ্রুত পায়ে হেঁটে পালিয়ে যায় ভুতুম লাহিড়ী। এমন সময় রন্ধন নন্দী এসে ঢোকে। সে মোবাইল ফোনে নর্থ ইস্ট পোর্টালে প্রকাশিত আর্টিকেল দেখায়, টার্কি-পাকিস্তান-চায়না; দ্য ডান্সিং চাওমিন।

: এসব ভাটের আলাপ পড়ার সময় নাই; সংক্ষেপে বলুন, কি রেঁধেছেন!

রন্ধন নন্দী বলে, প্রথমে পাকিস্তানের তেল-নুন-মশলা দিয়ে তড়কা দিয়েছি; এরপর তাতে কুচি কুচি করে কেটে দিয়েছি টার্কিশ চিকেন; আলাদা পাত্রে সেদ্ধ করা চাইনিজ নুডলস দিয়ে মাখিয়ে চাওমিন বানিয়েছি।

৪২ পঠিত ... ১৯ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top