পিএইচডি থিসিসের ২% নিজে থেকে লেখায় ঢাবি শিক্ষককে নিয়ে গর্বিত দেশের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

৩৪০১ পঠিত ... ২০:৩২, জানুয়ারি ২৩, ২০২০

৯৮ শতাংশ হুবহু নকল পিএইচডি গবেষণা থিসিসের মাধ্যমে ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ওষুধপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবুল কালাম লুৎফুল কবীর। প্রথম আলোয় এমন সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর প্রশংসায় ভেসে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক। প্রশংসার কারণ, গবেষণাপত্রের ২ শতাংশ তিনি লিখেছেন নিজে থেকে!

 

কোথাও থেকে কপি না করেও পুরো গবেষণাপত্রের দুই পার্সেন্ট লেখার কারণে লুৎফুল কবির তাই পরিণত হয়েছেন জাতীয় আইকনে। দেশি বিদেশি বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকগণ হচ্ছেন তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। নিজে থেকে দুই শতাংশ লিখে যে মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের পরিচয় তিনি দিয়েছেন, এ যুগে তা বিরল বলে মন্তব্য করেছেন নকল গবেষণাপত্র দিয়ে ডক্টরেট নেয়া শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠান 'আমরাও কপি করি' বা 'আকক' এর সভাপতি জনাব হারুনুর রশিদ ওরফে কপিক্যাট রশিদ (উনার নামটাও মূলত কপি করা)। তিনি eআরকিকে বলেন, 'আমাদের সংগঠনে দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যরা আছেন। আমরা সবসময় পুরো থিসিস কপি করেই ডিগ্রি নেই। কিন্তু লুৎফুল কবীর আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন ইচ্ছাশক্তি আর প্রতিভা থাকলে দুই শতাংশ থিসিস নিজে থেকে লেখা যায়। আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে এই মহামানবকে স্যালুট।'

দেশের শিক্ষা ও গবেষণায় এমন দুই পার্সেন্ট নিজস্ব অবদান রাখায় লুৎফুল কবীরকে বিভিন্ন পদকে ভূষিত করছেন জনপ্রিয় সব পদক প্রদানকারী সংস্থা। তাদেরই একজন আমাদেরকে জানান, 'গবেষণার ইতিহাসে শীঘ্রই লুৎফুল কবিরের নাম সোনার অক্ষরে লেখা হবে। আর উনার কাজের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সেই সোনার অক্ষরের দুই পার্সেন্ট সোনা আর আটানব্বই পার্সেন্ট হবে খাদ।'

eআরকিক: সাজেদুল ইসলাম শুভ্র

সবশেষে ঢাবির এই শিক্ষক লুৎফুল কবীরের নিকট আমরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি 'কাউকে কিন্তু বলবেন না যে আমি বলছি' এই শর্তে eআরকিকে বলেন, 'আমি যখন গবেষণার জন্য থিসিস কপি করা শুরু করি তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আর সবার মত পুরোটা নকল করব না। নিজে থেকে কিছু লিখব। এবং আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম। শেষ পর্যন্ত অনেক ভেবেচিন্তে আমি থিসিসের শুরুতে তারিখ এবং শেষে নাম ঠিকানা নিজে থেকে লিখে ইতিহাস গড়ে ফেলি। এই দুই শতাংশ লিখতে আমার অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। আজ সেই কষ্টের প্রতিদান পাচ্ছি দেখে আমি খুব খুশি।'

তবে প্রিয় স্যারের এই অবদানে প্রচন্ড খুশি ও গর্বিত ঢাবির গর্বিত শিক্ষার্থীরা। প্রচুর গর্ব নিয়ে একজন গর্বিত ঢাবিয়ান বলেন, 'আমরা যখন অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেই, পুরোটাই নানান জায়গা থেকে কপি করেই দিই। স্যার টু পার্সেন্ট নিজে থেকে লিখে দেখিয়ে দিলেন, শিক্ষার্থীদের চেয়ে দুই পা এগিয়ে থাকেন যিনি তিনিই শিক্ষক।' এই পর্যায়ে শিক্ষার্থীটি স্যারের উদ্দেশ্যে একটি নেট থেকে কপি করা অভিনন্দনপত্র বানিয়েছেন বলে আমাদের দেখান।

৩৪০১ পঠিত ... ২০:৩২, জানুয়ারি ২৩, ২০২০

Top