নিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগের দায়িত্ব কার হাতে থাকবে—সরকার নাকি বিচার বিভাগ? এই অমীমাংসিত মহাযুদ্ধ যখন তুঙ্গে, তখন দেশের আইনমন্ত্রী এক যুগান্তকারী শর্টকাট আবিষ্কার করেছেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি স্মিত হেসে জানিয়ে দিলেন, ভাইরে, সব উত্তর আমার কাছে কেন? সালাউদ্দিন আহমেদ ভাই যখন সংসদে সংবিধানের তফশিল থেকে শুরু করে আইনের দাড়ি-কমা পর্যন্ত মুখস্থ বলে দিচ্ছেন, তখন এই বিষয়ে তিনিই বলবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল পাসিং দ্য বল গেম। যেখানে গোলকিপার আইনমন্ত্রী গোলপোস্ট ফাঁকা রেখে বল পাঠিয়ে দিয়েছেন স্ট্রাইকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পায়ে বল পেয়ে ভালোই খেলছেন। মেসির মতো ড্রিবল করে বিরোধীদলের সব খেলোয়াড়দেরকে তো কাটিয়ে গোলপোস্টের দিকে যাচ্ছেনই। পাশাপাশি গোল করবেন নাকি করবেন না সে সিদ্ধান্তও তিনিই নিচ্ছেন। সংবিধান থেকে জুলাই সনদ, মানবাধিকার থেকে বিচারক নিয়োগ, কোনো দুর্ভেদ্য দেয়ালই আটকাতে পারছে না সালাউদ্দিন আহমেদকে।
অনেকে মনে করছেন এই কারণেই আইনমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্ত! আইনমন্ত্রী সম্ভবত বুঝে গেছেন, মুখ খুললেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে জটিল উত্তর দিতে হবে। তার চেয়ে সালাউদ্দিন ভাইয়ের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে চা খাওয়া অনেক নিরাপদ। কারণ, সালাউদ্দিন ভাই যখন বলবেন, তখন আইন-কানুন সব পানির মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে।
এদিকে সচিবালয়ের করিডোরে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে বিচারক নিয়োগের ইন্টারভিউ বোর্ডেও হয়তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। সেখানে প্রার্থীদের আইন নিয়ে প্রশ্ন করার বদলে জিজ্ঞেস করা হতে পারে, সালাউদ্দিন ভাইয়ের সর্বশেষ ভাষণের মূল থিম কী ছিল?
সবশেষে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অবস্থা জানতে আমরা সালাউদ্দিন আহমেদের দপ্তরে ফোন দিলে অপারেটর বলেন, সালাউদ্দিন ভাই এখন সংসদে আইন শেখাতে ব্যস্ত। দয়া করে সংবিধানের কত নম্বর অনুচ্ছেদ সম্পর্কে জানতে চান—তা খুঁজে বের করে আবার কল দিন।


