ইরান ও আমেরিকার মধ্যে হঠাৎ যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হওয়ায় বাংলাদেশের পেট্রোল পাম্প মালিক ও তেল আমদানিকারকদের মধ্যে চরম শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার সুবাদে যে সোনার সময় তারা পার করছিলেন, এক নিমেষে তাতে পানি ঢেলে দিয়েছে এই শান্তি চুক্তি। ব্যবসায়ীদের দাবি—বিশ্বের এই অস্থির সময়ে এভাবে শান্তি কায়েম করা কেবল অনৈতিকই নয়, বরং ব্যবসায়ীদের পেটে লাথি মারার শামিল।
রাজধানীর একটি অভিজাত পেট্রোল পাম্পের মালিক, নাম প্রকাশ না করার শর্তে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, গত এক মাস ধরে পাম্পে তেল নেই সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে যে দামে তেল বেচছিলাম, তাতে বড় ছেলেটাকে কানাডায় পাঠানোর প্রসেসিং শেষ করে এনেছিলাম। এখন যুদ্ধ থেমে যাওয়ায় লোকে আবার রেশনিং ছাড়া তেল চাচ্ছে। এই মানসিক চাপ আমরা সইবো কীভাবে? শান্তি যদি আসতেই হতো, তবে অন্তত কুরবানির ঈদ পর্যন্ত কি যুদ্ধটা চালানো যেত না?
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম মজুতদার ও কৃত্রিম সংকট তৈরি সমিতির (বিপিএমকেএস) এক জরুরি সভায় বক্তারা বলেন, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ থামিয়ে দিয়ে আমাদের মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। যেখানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১৫০ ডলার হওয়ার স্বপ্নে আমরা বিভোর ছিলাম, সেখানে এখন দাম কমে যাওয়ার ভয়ে আমাদের গুদামে রাখা তেলের ড্রামগুলোও যেন ঘামছে। আমরা জাতিসংঘকে অবিলম্বে এই যুদ্ধবিরতি বাতিলের আহ্বান জানাই। প্রয়োজনে আমরা নিজেরা ড্রাম বাজিয়ে যুদ্ধের দামামা বাজাবো।
পাম্পগুলোতে এখন আর ৫ কিলোমিটার লম্বা লাইন নেই, নেই সেই ২ লিটারের রেশনিং করার আনন্দ। এক পাম্প অপারেটর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ভাইরে, গত মাসে মোটরসাইকেল চালকদের লাইনে দাঁড় করিয়ে যে ভাব নিয়ে বলতাম তেল নাই, ভাগেন, সেই পাওয়ারটা এখন আর পাচ্ছি না। এখন লোকগুলো এসে বলছে ফুল ট্যাঙ্ক করেন। কাস্টমারকে এত তেল দিতে গেলে তো আমাদের কলিজা ফেটে যায়!
পাম্প মালিকদের প্রধান দাবিগুলো:
ভর্তুকি না, যুদ্ধ চাই: বিশ্বশান্তি বজায় থাকলে ব্যবসায়ীদের যে মানসিক ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতি লিটারে অতিরিক্ত ২০ টাকা শান্তি-ট্যাক্স বসাতে হবে।
কৃত্রিম ড্রাম সংকট: তেল আসলেও বাজারে যেন সবসময় একটা নাই নাই ভাব থাকে, সেজন্য বিপিসি-কে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।
সপ্তাহে দুই দিন যুদ্ধ: বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা বজায় রাখতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন মধ্যপ্রাচ্যে হালকা কামড়াকামড়ি বা ড্রোন হামলার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দাম স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া এবং লাইন কমে যাওয়াটা দেশের সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির হলেও, যারা তেলের ড্রামের ওপর বসে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন, তাদের জন্য এই যুদ্ধবিরতি একটি জাতীয় ট্র্যাজেডি।


