৭ই মার্চের ভাষণ যেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত এই সমাজে, যে ভাষণ শোনা পাপ, যে ভাষণ বাজানো অন্যায়, যে ভাষণের কথা চিন্তা করাটাই একটা চিন্তা অপরাধ, সেই ভাষণ কিভাবে ইউটিউবে থাকতে পারে? ৭ই ভাষণ ইউটিউবের মত একটা প্লাটফর্মে কিভাবে বীর দর্পে ভেসে বেড়াতে দেখে ক্ষেপে গিয়েছেন ডাকসুর একাধিক সদস্য। আজ ৮ মার্চ ইউটিউব সিইও নীল মোহনকে গ্রেফতারের দাবিতে একটি কাল্পনিক সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা। একটি সম্পূর্ণ ভূয়া তথ্যসূত্র থেকে এমনটাই নিশ্চিত হয়েছে eআরকি। একই সাথে দৃঢ় কন্ঠে জানিয়েছে হয় ইউটিউব থাকবে না হয় এই ভাষণ থাকবে, দুইটার এক সাথে সহাবস্থান কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
গতকাল ৭ মার্চ ইউটিউবে স্ক্রোলিং করতে করতে ডাকসুর জনৈক এক সদস্যের সামনে প্রথম বারের মত বিষয়টি সামনে আসে বলে জানতে পেরেছি আমরা। যে ভাষণ শুনলে বুকে ব্যাথা করে, যে ভাষণ শুনলে মনের ভেতরে হাহাকারের জন্ম নেয়, যে ভাষণ শুনলে মনে হয় এসব না থাকলেই বরং জীবনটা শান্তির হত, সেই ভাষণ নাকি ইউটিউবের বিভিন্ন চ্যানেলে কোনো রাখ ঢাক ছাড়াই প্রচার করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মাটিতে থেকে ইউটিউবের এমন বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকান্ড কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারেন নি বলে ডাকসুর অন্য সবার সাথে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন এবং একটা ঐক্যমতে পৌছে আজকের এই কাল্পনিক সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে ডাকসু।
সংবাদ সম্মলনে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে জানানো হয় আজই নীল মোহনের গ্রেফতার ও ইউটিউবের সকল চ্যানেল থেকে ৭ই মার্চের ভাষণ সড়ানোর দাবিতে আইসিটি মন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে লংমার্চ করা হবে এবং তার কাছে প্রতিবাদ লিপি পেশ করা হবে। একই সাথে ৭ দিনের মাথায় ডিসি মাসুদ যদি নীল মোহনকে গ্রেফতার করতে না পারে তাহলে ডিসি মাসুদের সাথে আর কোনো দিন খেলবে না বলেও হুশিয়ারি দিয়েছে ডাকসু।
ডিসি মাসুদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা এখনো সম্ভব হয়নি। তবে তার কাছের এক সূত্র আমাদের জানিয়েছেন যে তারেক রহমানের ফোনের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। এজন্য কারো ফোন ধরছেন না। তারেক রহমানের ফোন পেলে নীল মোহন থেকে শুরু করে সত্য নাদেলা কিংবা ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও ধরে এনে হাজতে ভরতে দুইবার ভাববেন না। আপনারা একটু অপেক্ষা করুন, হয়ত আজকালের মধ্যেই তারেক স্যার ফোন করবেন তাকে।
এদিকে ৭ই মার্চের ভাষণ কেনো পৃথিবীর কোথাও বাজানো যাবে না, এই ভাষণের অস্তিত্ব নষ্ট না করলে বাঙ্গালি জাতির জন্য কত বড় ক্ষতি হবে, এবং ভাষণটি কিভাবে ধীরে ধীরে বাঙ্গালি জাতিকে অস্তিত্ব সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে সেই বিষয়ে ১০ দিনের একটা সেমিনারের আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে ডাকসুর পক্ষ থেকে। সব কিছু ঠিক ঠাক থাকলে আগামীর বাংলাদেশে ৭ই মার্চের আদি ও আসল ভাষণ প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছে ডাকসু। আসল ভাষণ কোনটি সেটা বিস্তারিত না বললেও ইতমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভাষণ ছড়িয়ে পড়েছে বলে আমরা শুনেছি। সেই একই ভঙ্গিমা কিন্তু অবয়বে ভিন্নতা।


