পারিবারিক সম্মিলিত আড্ডা, বিনোদন-সময়কে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য মোবাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনল টিভি

১৪ পঠিত ... ১৪ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে

একটা সময় ছিল যখন মোবাইল হাতে হাতে ছিল অপ্রতুল। সবার বিনোদনের প্রধান মাধ্যম ছিল টিভি।
দিনের একটা বড় সময় পরিবারের সবাই একসাথে টিভি দেখত। একজনের রুচি-অরুচি, পছন্দ-অপছন্দ অন্যরা জানত। টিভি দেখতে দেখতে নানান পারিবারিক আলোচনা ও টুকটাক কথা হত।

আস্তে আস্তে মোবাইল সহজলভ্য হলো। বিনোদন চলে এল হাতের মুঠোয়। দেরিতে হলেও টিভি উপলব্ধি করল, আরে, এখন তো মানুষকে আর একসাথে বসতেই দেখা যায় না। সম্প্রতি সে IEC, ইন্টারন্যাশনাল এন্টারটেইনমেন্ট কমিটিতে মোবাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে; মোবাইল পারিবারিক বন্ধন ধরে রাখতে পারছে না। ফ্যামিলি বিনোদন-আড্ডা নামে যে কিছু হতে পারে, সেটাই মানুষ ভুলতে বসেছে ওদের জন্য।

অভিযোগপত্রে টিভি জানিয়েছে; মানুষ একসময় ঘাড় সোজা করে, সিনা টান করে থাকত। কারণ তারা দেখত টিভি। এখন মানুষ মাথা নিচু করে থাকে। পৃথিবীর সবকিছু ঊর্ধ্বমুখী হলেও তাদের ঘাড় হয়ে গেছে নিম্নমুখী। অথচ মানুষ নাকি মাথা নোয়াবার নয়। কী সেলুকাস!

একসময় টিভিতে খেলা দেখতে দেখতে সবাই একসাথে চিৎকার করত, হাততালি দিত। কণ্ঠের, হাতের এক্সারসাইজ হত। আজকাল সেটাও ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। পরিবারের সদস্যরা জানে না কে কোন দলের সমর্থক, কারণ তারা যে যার মতো খেলা দেখছে। একই বাসায় থেকেও তাদের সবার জগৎ আলাদা, যেখানে অন্যের কোনো প্রবেশাধিকার নেই।

টিভি মানুষকে শেখায় স্যাক্রিফাইস। বাসার কেউ সিরিয়াল পছন্দ করলে ওই সময় তাকে যেমন স্ক্রিন ছেড়ে দিতে হয়, তেমনি খবর দেখার সময় খবরের যিনি ভক্ত, তার সঙ্গী করে দিতে হয় রিমোটকে। মোবাইল কী শেখাচ্ছে? দিনরাত সঠিক-ভুল, এআই-অথেনটিক মারামারি করেই মানুষের বিশ্রাম নেই।

দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে স্যাড ইমো দিয়ে টিভি আরও লিখেছে, আমি কি কখনও বলেছি টিভিতে যে মোবাইল খারাপ? মোবাইলের উল্টো বিজ্ঞাপন দিই। আর সেদিন দেখি একজন মোবাইলে দেখছে; একটা গাজর কাঠগড়ায় টিভিকে আটকে রেখে বিটরুটকে বলছে, ‘মাননীয় আদালত, এই হচ্ছে টিভি, যে সকল নষ্টের কারণ।’ বিশ্বাস করুন, এটা দেখার পর আমার ইচ্ছে হয়েছে এখনই নিজের সব সার্কিট কেটে নষ্ট হয়ে যাই। আমাকে ওরা এত নিচে নামিয়েছে...

আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে সঠিক বিচার চাইছি।

১৪ পঠিত ... ১৪ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে

Top