মহিলা নেত্রীদের সাজিয়ে রাত বিরাতে বিদেশিদের কাছে ধর্ণা দিয়ে কোন লাভ নেই: তথ্যমন্ত্রী

৭০১ পঠিত ... ১৫:০৫, আগস্ট ১২, ২০২৩

Totthomontry

প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি; মনে হয়েছিলো, এ নিশ্চয়ই ফেইক নিউজ; হয়তো ফেসবুকে আওয়ামী লীগ সমর্থক সিপি গ্যাং এ কথা বলেছে। পরে ভিডিও দেখে নিশ্চিত হলাম তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এমন কথা বলেছেন।

হাছান মাহমুদ আওয়ামী লীগের রাজনীতির পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, মাঝে মাঝে রবীন্দ্র সংগীত গাইতে চেষ্টা করেন। একবার আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা ব্রাসেলসে গেলে আমি ডয়চেভেলে থেকে উনার সাক্ষাতকার নিতে হাছান মাহমুদের সাহায্য নিয়েছিলাম। সেসময় তাকে বেশ শিষ্টাচারসম্পন্ন মানুষ মনে হয়েছিলো।

আসলে আওয়ামী লীগের গত পনের বছরের শাসনকালে বাংলাদেশ সংস্কৃতির নিম্নগামিতার ধারা সূচিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ কর্মীদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে সামনে এগিয়ে আসা কলতলার সৈনিকেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গালাগাল করে রাজনৈতিক আলাপের এই ধারাটি সূচিত করে।

ফলে সেই যে সোহরাওয়ার্দি, ভাসানি, শেখ মুজিবের মতো মানুষেরা রাজনীতিতে যেরকম সুরুচি সম্পন্ন রেটরিক ব্যবহার করতেন; কিংবা তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত যেরকম বক্তব্য রাখতেন; এমনকী ওবায়দুল কাদেরও যে সুষমাটুকু ধরে রেখে কথা-বার্তা বলেন; তা হারিয়ে যেতে থাকল।

সেই হারিয়ে যাওয়া সুষমার প্রামাণিক চিহ্ন; হাছান মাহমুদের বক্তব্য। রাজনীতি ফুলের বিছানা নয়। আওয়ামী লীগের নেতারা যেমন পরিপাটি হয়ে দুদিন আগে দিল্লিতে বিজেপি অফিসে গিয়ে অঙ্গীকার করে এলেন, বিজেপি-আওয়ামী লীগ একসঙ্গে কাজ করবেন; বিএনপি নেতারাও তেমনি পরিপাটি হয়ে পশ্চিমা কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলেন। আওয়ামী লীগ নেতা-নেত্রীরা সেজেগুজে পশ্চিমা কূটনীতিকদের দেখা করতে যান।

পশ্চিমা স্যাংশনে এমেরিকার ভিসা অনিশ্চিত হয়ে পড়া, দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্যাংশানের খাঁড়া, এমেরিকায় যে লুন্ঠিত অর্থ পাচার করেছে আওয়ামী লীগের উন্নয়নের শিখরের দুর্জয় গোলাপেরা; সেখানে এইসব অর্থের ধারাপাত, সেকেন্ড হোম বাজেয়াপ্ত হয়ে যেতে পারে; এমেরিকায় গাদ্দাফির সহমত ভাই; কিংবা পুতিনের শিবব্রত দাদাদের যে সর্বনাশ হয়েছে। সাদ্দামের-লুকাশাংকা আরও অনেক ফ্যাসিস্ট শাসকের দুর্নীতিবাজ বিদূষকদের লুন্ঠিত অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়েছে এমেরিকায়। ক্যানাডাও অনুরূপ সিদ্ধান্তের দিকে হাঁটছে।

এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের লোকেদের মাথা খারাপ হয়ে যাবারই কথা। বঙ্গবন্ধুর ভাষায় "চোরের খনি"-র এই ‘চাটার দলেরা’ যারা পনেরো বছর আগে কুঁড়েঘরের ইঁদুর ছিলো; তারা দেশ লুণ্ঠন করে নতুন প্রাসাদ ও সেকেন্ড হোমের ‘হোয়াইট টাইগার’ হবার পর; এখন পশ্চিমা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো আবার যেন তাদের ইঁদুর বানিয়ে ছেড়েছে। ক'দিন আগে যারা বাঘের মতো ঘুরতো; এখন তাদের চেহারায় স্পষ্ট ইঁদুরের ছাপ।

তাই বলে মাথাটা এতোটা খারাপ করে ফেলা ঠিক নয় যে, নারী সম্পর্কে নিম্নরুচির মন্তব্য করতে হবে। রাজনীতি করতে এসেছেন বলেই, নারীকে কলতলার ঘিন ঘিনে জাঢ্য জরদগব অশালীন ইঙ্গিত সহ্য করতে হবে তা তো নয়।

বিএনপির যে নারী নেত্রীদের বিভিন্ন বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যায়, এরা মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষা সৈনিকের মেয়ে। এদের মা সম্মানজনক শিক্ষকতার পেশায় ছিলেন। আর এই নারী নেত্রীরা অত্যন্ত শিক্ষিত; একবিংশ শতকের মেয়ে।

সমাজের অধিকার বঞ্চিত অংশের মেয়েরা দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে এই আওয়ামী লীগের সময়টাতে সেই যে উন্নয়নের ইঁদুরদের স্থূল চাওয়ায় "পাপিয়ার আসরে" যেতে বাধ্য হতে হয়। নারীর রাজনীতিতে ক্ষমতায়িত হতে গেলে কতগুলো ইঁদুরকে মনোরঞ্জন করতে হবে; এই স্যাঁত সেঁতে কালচারটা দুর্ভাগ্যজনকভাবেই লীগের রাজনীতিতে পরিলক্ষিত হয়েছে "ওয়াস্টিন" ও "ইডেন" কেসস্টাডিতে। যা মিডিয়ার দুঃখজনক জনক খবর হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।

কিন্তু এফলুয়েন্ট পরিবারের মেয়েরা লীগের ‘ইঁদুর থেকে হোয়াইট টাইগার’ হওয়া লোকেদের অভিজ্ঞতার জগতের বাইরের নারী। সমাজ আলাদা হওয়ায় এরকম মেয়েদের ‘চৌধুরী’-দের বাড়ির রাস উৎসবে দূর থেকে টুলটুল করে দেখে ইঁদুরের মনে হয়েছে, নাদের আলী আমি কবে পাওয়ারে যাব!

কিন্তু পাওয়ারে গেলেও ইঁদুরের ভাগ্যে থাকে ওয়েস্টিনের সওদা। চৌধুরী বাড়ির রঙ্গের মেলা; বায়েস্কোপের নেশা; অধরা রয়ে যায়; স্লামডগ বিলিওনিয়ার হবার পরেও। সাংস্কৃতিক মিল ছাড়া কোন মেয়ে কখনো কোন ছেলের সঙ্গে মেশে না। এমনকী অধিকার বঞ্চিত নারী; যে আপোষ না করে যোগ্যতা দিয়ে জীবনকে জয় করতে চায়; সে কখনো নতুন বাবুদের জুরিগাড়িতে চড়ে না। নারীমন একেবারেই অন্যরকম। পুরুষের মতো করে সে জৈবিক তাড়নায় ভোগে না। সে ভালোবাসা খোঁজে। এমনকী বাবুদের জুড়ি গাড়িতে চড়া ‘মুনিয়া’-রও একটি সুন্দর জীবনের স্বপ্ন থাকে।

কাজেই ‘পাপিয়ার আসরে’-র পিঁপড়াবিদ্যার অভিজ্ঞতায় নারী সম্পর্কে সুইপিং কমেন্ট অগ্রহণযোগ্য। নারী আসলে নিজের জন্য সাজে। সাজলে তার মন ভালো লাগে। নারী হচ্ছে নিসর্গের মতো। একটি বকুল বৃক্ষ যেমন নিজের আনন্দে নিজেকে ফুলে ফুলে সাজায়; নারীর রুপসজ্জা ঠিক তেমনি একটি ব্যাপার।

আমরা এখন একবিংশ শতকে আছি। কাজেই অষ্টাদশ শতকের থাগস অফ বেঙ্গল আর লালবাতি এলাকার খদ্দের ধরে আনা শৃগালের মতো চিন্তাগুলো সমাজ থেকে সরাতে হবে।

সজ্ঞানে গ্রাম্য মুচকি হাসিতে নারী সম্পর্কে অশালীন, মুখে যা এলো তাই বলে; আশপাশের কলতলা মাতানোর বদ-অভ্যাসগুলো দূর করতে হবে।

হাছান মাহমুদের এই ‘পলিটিক্যালি ইনকারেক্ট’ বক্তব্যের জন্য সাইবার নিরাপত্তা আইনে উনার ২৫ লাখ টাকা জরিমানা হবার কথা। কিন্তু যেহেতু বিচার বিভাগের সার্বভৌমত্ব নেই; আজকাল বিচারপতির নিয়োগ পেতে গেলে বিদেশি ডিগ্রি নয়; ছাত্রলীগ করার ডিগ্রি নিয়ে আসতে হয়; তাই হাছান মাহমুদের এই ‘মিসোজিনিস্ট’ মন্তব্যকে ওভারলুক করবে আদালত।

 সরকারি নারীবাদীরা কটা দিন অনুশীলিত নির্লিপ্ততায় ঝিঙ্গে ক্ষেতে বাগান বিলাস করবে, যাতে এ প্রসঙ্গে কথা বলতে না হয়।

 আর ‘নারী প্রধানমন্ত্রী’ শেখ হাসিনা এরকম অসাংবিধানিক মন্তব্যে হাছান মাহমুদকে তিরস্কৃত না পুরস্কৃত করেন; সেটা দেখবো, গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করব। ইতিহাসে এসব বিষয় খুব নৈর্ব্যক্তিকভাবে লিখে রাখতে হবে যে, আগামী প্রজন্মের জন্য।

৭০১ পঠিত ... ১৫:০৫, আগস্ট ১২, ২০২৩

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top