এক যুগ—চৈত্রের খরতাপ আর শ্রাবণের প্লাবনের মতো
পার হয়ে গেল আমার আয়ুর ওপর দিয়ে।
যেদিন প্রথম তোমাকে ভালোবেসেছিলাম, গোপনে,
উঠোনের এক কোণে যে চারাগাছটি পুঁতেছিলাম কৌতূহলে—
আজ তার শরীর জুড়ে মহীরুহের দম্ভ,
আমাদের জীর্ণ দেয়াল ঘেঁষে সে আকাশ মাপতে চায়;
অথচ আমার ভালোবাসা আজও সেই চারাটির মতোই অবুঝ।
এই বারো বছরে খবরের কাগজে দেখেছি কত বিভীষিকা,
দূর দেশের সীমান্তে কামানের গর্জন আর শিশুর ক্রন্দন।
ফিলিস্তিনের ধূসর ধূলিকণা কিংবা ইউক্রেনের বরফশীতল পথে
রক্তের দাগ লেপ্টে থাকতে দেখেছি টিভির পর্দায়;
শুনেছি ভিনদেশের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আসা দীর্ঘশ্বাস।
আমার পাড়ার সেই নক্সা করা মায়াবী বাড়িটা, যেখানে বিকেল নামত—
সেখানে আজ কাঁচ-কংক্রিটের শপিং মল, নিয়ন আলোর ঝলকানি।
যে সিনেমা হলে একদিন ভিড় থাকত উপচে পড়া,
সে আজ ভাঙা কঙ্কালের মতো নির্জন পড়ে আছে রাস্তার মোড়ে।
জীবন পাল্টেছে তার রঙ, মরে গিয়েও জন্মেছে নতুন করে,
পৃথিবীর মানচিত্রে কাঁটাতার সরেছে বারবার—
শুধু আমার নির্জন স্টেশনের বুক চিরে চলে যাওয়া ট্রেনের মতো
একপাক্ষিক এই নীরব হাহাকারটুকু আজও অবিকল রয়ে গেল।
সব পাল্টে যাক, ধ্বংস হোক পৃথিবীর সব জনপদ,
আমি এই মহাকালের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে শুধু এটুকুই বলব—
বারো বছর আগেও যেমন, আজ এই ক্লান্ত গ্রহেও
আমি তোমাকে ঠিক ততটাই ভালোবাসি।



পাঠকের মন্তব্য