এখন তেহরানের রোদে আর ওড়ে না রঙিন ঘুড়ি,
ওড়ে শুধু ঘাতক ড্রোন, তপ্ত বারুদের ধূলি-উড়ি।
যেখানে একশ আটটি কচি মুখ শোনার কথা ছিল রূপকথা,
সেখানে আজ স্তব্ধতা, রক্তে ভেজা চিরন্তন নীরবতা।
খামেনি নেই, এখনও কি শোনা যাবে যুদ্ধের বুলি?
স্কুলের বারান্দায় আরও দেখব নিথর দেহ আর মুহুর্মুহু গুলি?
পাক-আফগান সীমান্তে এখন ভাই চেনে না ভাইয়ের মুখ,
বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে আছে স্বজন-হারানো বুক।
যাকে পুষেছিলে পরম আদরে ‘গাজী’ হবে সেই আশায়,
সেই আজ তোমার ঘর পোড়ায় ঘাতকের কর্কশ ভাষায়।
আমেরিকা হাসে দূর প্রান্তে বসে, খুলে দামী মদের বোতল,
তোমাদের রক্তে তার ব্যবসার চাকা ঘোরে অবিরাম সচল।
স্মার্ট ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য চেনে না, চেনে শুধু শিশুদের ঘ্রাণ,
আর কত লাশের বিনিময়ে হবে তোমাদের অহংকারের অবসান?
একপাশে ভ্রাতৃত্বের স্লোগান, অন্যপাশে বিভেদের বিষ,
ভণ্ড নেতার হাত ধরে আর কতকাল মরবে মানুষ-নিশ?
রক্ত দিয়ে মানচিত্র আঁকা কি তবে তোমাদের শ্রেষ্ঠ বীরত্ব?
ধিক্কার জানাই সে মানচিত্রকে, যেখানে মানুষের নেই গুরুত্ব।
থামাও এবার এই রণ-উন্মাদনা, থামাও এই লাশের খেলা,
মায়ের কোলে ফিরে আসুক শিশু, মুছে যাক এই শোকের বেলা।
আকশ আটটি প্রাণের দীর্ঘশ্বাস যদি মেঘ হয়ে আকাশে জমে,
ভস্ম হবে তোমাদের ঐ গদি, ভয় পাবে ঘাতকও যমে।
মানচিত্রের সীমানা থাকুক দূরে, মানুষ বাঁচুক মানুষের টানে,
শান্তি আসুক এই ধরণীতে, শুদ্ধ প্রেমের গভীর গানে।



পাঠকের মন্তব্য