শহরের মশাগুলো এখন আর সাধারণ মশা নেই, তারা রীতিমতো এভিয়েশন এক্সপার্ট হয়ে উঠেছে। কয়েল জ্বালালে তারা সেই ধোঁয়ায় স্মোক বাথ নেয়, আর অ্যারোসল স্প্রে করলে সেটাকে বডি স্প্রে ভেবে আরও বেশি করে রোমান্টিক মুডে কামড়াতে আসে। এমতাবস্থায়, মশার সাথে ড্রয়িংরুমে বা বেডরুমে আর পেরে না উঠে সরকার এক বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে—দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মার্শাল আর্ট শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে!
আজ এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মশা ও মাছি দমন বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা জানান, “আমরা অনেক ড্রেন পরিষ্কার করেছি, অনেক ফগিং মেশিন দিয়ে ধোঁয়া ছেড়েছি। কিন্তু মশারা এখন ধোঁয়ার ভেতরে লুকোচুরি খেলতে শিখে গেছে। তাই এখন থেকে নাগরিকদের নিজের সুরক্ষা নিজেদেরই নিতে হবে। মশা কামড়াতে এলে ডানে সরে গিয়ে সাইড কিক মারতে হবে, আর মশা যদি কানে কানে গান গাইতে আসে, তবে বর্জ্যমুষ্ঠি করে তাকে কুপোকাত করতে হবে।”
বাচ্চাদের স্কুলে এখন অঙ্ক বা ভূগোলের চেয়ে মশা-দমন কুংফু বেশি গুরুত্ব পাবে। কোনো মশা কামড় দিতে উঁকি মারলে বাচ্চাটি যেন তৎক্ষণাৎ আইকিডো স্টাইলে মশার ডানা মচকে দিতে পারে, সেই ট্রেনিং দেওয়া হবে।
ঘুমানোর আগে শাওলিন সকার স্টাইলে মশাদের সাথে এক দফা ফাইট করতে হবে দেশের সকল জনগণকে।
মশা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তে মশারাও কিন্তু বসে নেই। বনানীর এক ড্রেন থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মশা নেতা জানিয়েছেন, “মানুষ যদি মার্শাল আর্ট শেখে, তবে আমরাও জিম করা শুরু করব। দরকার হলে আমরা নিনজা টেকনিক শিখে মানুষের কপালে কামড় দিয়ে ভ্যানিশ হয়ে যাব।”
পুরান ঢাকার এক বাসিন্দা বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ভাই, মশা মারতে গিয়ে যদি নিজের গালে নিজে চড় মারি, সেটা কি মার্শাল আর্টের মধ্যে পড়বে? কারণ আমি তো গত দশ বছর ধরে নিজের গালে চড় মেরেই মশা মারছি!
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “ব্রুস লি মস্কুইটো কিলার” অ্যাপ চালু করা হবে, যা দিয়ে মশার গতিবিধি ট্র্যাক করে ফ্লাইং কিক মারা সহজ হবে।


